Skip to main content

Full text of "Phonetics In Bengali"

See other formats


স্পা শু শিভচ্ক্া্জ্র্9। 


1৮410০77105 হা 19৮2 0০4-] 


5% 
/901097 8051 502৮হ ঠ, 


7, এ (07587862770 23৩775016) 5 £/7710675110 412৩ 25 হ 
95271018776 17655751711) 5560700891502121 5 25015 
॥. £207707710 ০১৩০৪৫৫2781, £90000 £7110575168 
/027750£ 5091 1/:622254 47521277 1016 
1 0816)081 177021275 50120০7. 


টি 24 রিশা চি ৬৬৫ 
জান শস 


আ্মনাশুতোষ কোন দা এম্‌. এ. 
প্রণীত তল এ ৮৮ 


বা নে 1 পা 


30৮ শ্র্ট পু 
১৯২ ডি, কর্ণ ওয়ালিন্স-স্্রীট, 


৬9 পট 


১৯২ ডি, কর্ণওয়ালিস গ্রাট, কলিকাতা 
গ্রন্থ-নিকেতন' 
হইতে শ্রীক্ষিতীশচন্্র দে কর্তুক 
প্রকাশিত 


' এরন্থস্বত্ব সংরক্ষিত 


এই গ্রন্থকার প্রণীত 


শব্দ ও উচ্চারণ (ভাষ!তব) 22. ক 
মধুমাল। (কাব্য গ্রন্থ। 5৫? টি 
_ গ্রহ্থ-নিকেতন 
১৯২ ডি, কর্ণওয়ালিস ছ্রীট, কলিকাতা! 
মনের আগুন (ছোট গল্প, রর 2, সু 
আজব বেদে (সচিত্র শিপু কাবা 2. হর ॥০ 
অস্তয়মান (উপন্তান। ৪2 ১. যন্ত্স্থ 


মডার্ণ পাব্রিশিং সিণ্ডিকেট 


9৩ মিজ্জাপুর গ্রাট, কলিকাতা 2 


প্রি্টার--শ্লীক্ষিতিশচগ্ চট্টে।পাধ্যায় 
শক্তি প্রেস, 
২৭।এবি, হরিপোষ কাট, কলিকাত! 


ভূমিকা 


এই পুস্তকে নিবদ্ধ বিষয়গুলি আংশিক ভাবে যখন 
“ভারতবধ”-প্রমুখ মাসিক পত্রিকায় (প্রকাশিত হয় তখন তাহা 
হতে পুনরায় একাধিক পত্রিকায় তাহা সংকলিত হইতে 
দেখা যায়। এই কারণে এই প্রবন্ধ গুলিকে পুস্তকাকারে 
গ্রথিত করিবার প্রয়োজনীয়তা উপলপ্চি করি । 

কলিকাতা বিশ্ববিদ্ভালয়ে মাতৃভাবা গ্রবেশিক। পধান্ত 
শিক্ষার বাহন নির্দিষ্ট ওয়ায় এবং কলিকাতি। ও ঢাকা বিশ্ব- 
বিদ্ভালয়ে বি.এ. ও এম.এ. পরীন্ষা পধান্ত বাংলাভাবা পাঠা- 
তালিকাভুক্ত হওয়ায় বাংলাভাষার বিস্তত আলোচনার 
প্রয়োজন শতগুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে। এই বিষয়ে ইংরাজিতে 
লিখিত কয়েকখানি পুস্তক আছে, কিন্ত আধুনিক ভাষাতত্বান্ু- 
মোদিত উপানে লিখিত বাংলাভাবায় অধিক পুস্তক নাই । 
অতএব বশ্ুমানকালে এমন একখানি পুস্তকের প্রয়োজনীয়তা 
অপরিসীম বলিতে হইবে । এই বিষয়ে বর্তমান প্রস্তকখানি 
কতদূর সেই অভাব দূর করিতে পারিবে ভাহা আমার নুবী 
পাঠকগণ বিবেচনা করিবেন । 

আমার বাংলাভাষার ইতিহাস ও বাংলাভাবাতন্বের 
অধ্যাপক পরন শ্রদ্ধ।স্পদ ডকর শ্রীযুক্ত স্থশীলকুমার দে এম.এ 
ডি, লিট্‌. (লগুন) ও ড্র মুহম্মদ শহীতুল্লাহ. এম.এ, ডি, লি 
(প্যারিস) মহোদয়দ্য়ের বহু নিজস্ব মতবাদ হয়ত জ্ঞাতসারে 


কিন্বা অন্তাতসারে এই পুস্তকে ব্যবহার করিয়াছি ।- সেইজন্য 
তাহাদের নিকট আর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের ধৃষ্টভা প্রকাশ করিব 
না। আমার এই পুস্তকে যদি কোন কৃতিহের ভাগ থাকে 
তবে তাহ! তাহাদের নিকট হইতেই শিক্ষালন্ধ এবং নিন্দার 
ভাগ আমারই নিজস্ব বলিতে হইবে । 

বর্তমান পুস্তকের শেষাংশ («কথ্যভাষা”) আমাকর্তৃক 
লিখিত 1175 00151102500 100৮ 0101)177070 91 ৮7৫ 
1)0720]1 1)100106৮ নামক ইংরাজি পুস্তকের অসমাপ্ু 
পাগুলিপি হইতে আংশিকভাবে গৃহীত হইয়াছে। উক্ত 
পুস্তকখানি ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘকাল যাবৎ সম্পূর্ণ করিতে 
পারিত্েছি না। বর্তমান পুস্তকখানি,সম্বন্ধে কেহ যদি কোন 
দোব ক্রটির নির্দেশ করিয়! দেন, তবে আমার ভবিষ্যতে উক্ত 
পুস্তক সম্পূর্ণ করিবার পক্ষে যথেষ্ট সহায়তা হইবে । 

এই পুস্তক, রচনায় বহুভাবে অনেকের নিকট হইতে 
সাহাষ্য লাভ করিয়াছি। পুর্ববোল্লিখিত জামার পুজশীয় 
অধ্যাপক ভাবাবিজ্ঞানে সুপঞ্ডিত ঘুহম্মদ শহীহছুল্লাহ, সাহেব 
এই দূরবন্তা দেশেও আমাকে ভীহার অমূল্য উপদেশাদি দ্বার! 
নবদদা উৎসাহিত করিয়াছেন । বন্ধুবর পণ্ডিত শ্রীধুক্ত শরৎচন্দ্র 
রায় কাব্যতীর্ঘ, পণ্ডিত শ্রীযুক্ত শরংচন্দ্র চক্রবন্তী পুরাঁণরত্ব ও 
শ্লীযুক্ষ ছুর্গাপদ আবন্থী এম. এ. (আগ্রা) মহোদয় আমাকে 
নানাভাবে সাহাষ্য করিয়াছেন । আমার এই পুস্তকের সহিত 
তাহাদের নান সংগ্রিষ্ট রাখিয়া নিজেকে গৌরবাদ্ধিত মনে 
করিভেছি । 


মাসানসোল, ই. আই, জ ৩১ 
905158055, স্রীজাশতোষ ভষ্টাচার্য্য 


পরমারাধা পিতাদের 


শ্রীযুক্ত যুরারি মোহন ভট্রাঁচার্ধ্য বি. এল 


মহোদয়ের শ্রীচরণে 


সুচী-পত্র 

বিষয় 
প্রারন্ 
তৎসম শন 
শানু এন 
আদ্দীতহমম শক ১. রি 
তদ্ভধব শব 
দেশজ শন্দ 

ধ্বমিজ শব 


বিদেটি শব 


রর 
আরবি পারসি শন্দ রঃ 
ইষ্উদুরাপীয় শ্দ। ১২ রঃ 
ভাতা শক ক রর 


ভার অগ্যান্ত প্রাদেশিক শান 
শর্দেল উচ্চার*-লিসতি 

বানানে আার্ধ প্রয়োগ 
কগাভাবার শুন 


কথাভ]লার শৌগোলিক সংস্থান 


কথাভাদাব বি:ভন্-শর কারণ এ 
(শীগোলিপ 
সামাছিক 
৬. পেত 
রাঁডদন তিক 


সান্দে ও .-ভচেলাল্সন 


অনেকের বিশ্বীস, বাংল! ভাষায় বানান-সমস্তা বোধ হয় আধুনিক স্থষ্টি, 
প্রাচীনকালে এমন ছিলনা ; কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তাহা নহে। বর্তমানের 
তুলনায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় এই সমস্তা সকল প্রকারেই 
জটিলতর ছিল । 

মাগধী অপত্রংশ হইতে বঙ্গভাষার জন্ম । সেই জন্য প্রাচীনতম বঙ্গ- 
ভাষার সে নিদর্শন প্রান্ত হওয়া ধায় তাহার বানানেও অপভ্রংশ-সূলভ 
ব্যাপক ব্যভিচার দৃষ্ট হয়। কিন্তু অপত্রংশেরও একটা ব্যাকরণানুযায়ী 
নিয়ম আছে। প্রাচীনকাল হইতেই বঙ্গভাষা যদি এঁ নিয়মকেই অনুসরণ 
করিয়া চলিত তাহা হইলেও বাংলা বানান প্রথম হইতেই একটা নির্দিষ্ট 
প্রণালী অবলম্বন করিয়৷ লইত। বঙ্গভাষার একট। বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহা 
তাহার জন্মকাল হইতেই সংস্কৃতির সহিতও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করিয়া 
চলিতে দেখা যাঁয়। সেই জন্ত অপত্রংশের রীতির সহিত মূল সংস্কৃতের 
রূপ মিশ্রিত হইয়! ইহার" বানানকে অতি প্রাচীনকাল হইতেই সমস্তা- 
মূলক করিয়া! তুলিয়াছে। এইভাবে সাহিত্যের প্রাচীনতম যুগেও 
বানানের চরম স্বেচ্ছাচারিতা! দৃষ্টিগোচর হয়। 

অধ্রেকের আবার বিশ্বাস যে, প্রাচীন বাংলা সর্বতোভাবে সংস্কৃত 
প্রভাব হইতে মুক্ত। কিন্তু ইহা কদাচ সত্য নহে। প্রাচীনতম ব্গ- 
ভাষার নিদর্শন স্বরূপ স্বর্গীয় মহাঁমহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্বী মহাশয় যে 
“বৌদ্ধগান”' প্রকাশিত করিয়াছেন তাহাতে, সর্বসমেত ২১৩৫টি শব্দ 


২ শব্দ ও উচ্চারণ 


ক্ষ ছল 


প্রায়ই প্রাকৃতানুযায়ী হইত ; যেমন, 'কাআ'', 'জথা”, “মণ'। কিন্ত 
সমস্ত বানানই যদি এই প্রকার প্রারুতের নির্দেশ মানিয়। চলিত তবে 
অবশ্ত কোন সমস্তারই স্থষ্টি হইত না) পরস্থ বিশুদ্ধ সংস্কৃতান্থ্যায়ী 
বানানেরও তাহাতে অপ্রাচ্ধ্য নাই ; যেমন, “অঙ্গন” “সখ”, “রস । 

মধ্যযুগের বানান অনেকটা! প্রারকত-প্রভাব-যুক্ত হইয়া আসিতে দেখ 
যায়। ইহার কারণ মধ্যযুগ হইতেই বঙ্গদেশে ব্যাপক সংস্কৃতির অনুশীলন: 
আরম্ভ হয়। সেই সময়কার অধিকাংশ আখায়িকাও ছিল পৌরাণিক; 
তখনকার কোন পুঁথি ধরিয়া হিসাব করিলে দেখা যাইবে যে, সংস্কৃত 
শব্দ ও বাংলা শব্দ প্রায় সমপরিমাণে ব্যবন্বতত হইতে আরম্ভ করিয়াছে 
এবং এই সময়ের লিপিকারেরাও ক্রমে অন্রতা-মুক্ত হইয়া বানানের 
বিশুদ্ধতা রক্ষায় যত্ববান্‌ হইয়াছেন । 

এই ত গেল, চৈতন্ত-পূর্ববস্ী যুগের কথা । চৈতন্ত-সাহিত্য বজ- 
ভাষার যে কেবল জীবন-চরিত লেখার প্রবর্তন করিল তাহাই নহে, 
ভাষার ব্যাপক অনুশীলনের ভিতর দিয়া! বাংল! বানানেও সর্বপ্রথম 
বিশুদ্ধত। রক্ষার চেষ্টা করিতে লাগিল। ইহার প্রধান কারণ এই 
বে, চৈতন্-চরিতকারের! সকলেই সংস্কৃত ভাষায়ও স্থপগ্ডিত ছিলেন। সেই 
জন্ত বিশ্তন্ধ সংস্কৃত শব্দের ব্যাপক ব্যবহার ও তাহাদের বানানের বিশুদ্ধত। 
রক্ষায় তাহাদের যত্বু ও চেষ্টা অত্যন্ত স্বাভাবিক । এইভাবে ভারতচন্্ 
রায়ের আবির্ভাবের পূর্বেই সংস্কৃত শব্দের প্রয়োগ ও তাহাদের বানানের 
বিশুদ্ধতা রক্ষার চেষ্টা বঙ্গভাষায় বিশেষভাবেই বিস্তৃতি লাভ করিল | 

, গারভচন্দ্র রায়ের সমর হইতে আরম্ভ করিয়। কালী প্রসন্ন সিংকের 
'হাতোম পাচার নক্ম।' « প্যারাটাদ মিত্রের 'আলালের খরের দুলাল, 
প্রক্কাশিত হওয়ায় পূর্বব পধ্যস্থ বঙ্গভাঁষার বানানের বিশ্তদ্ধত| সম্পূর্ণভাবে 


প্রারস্ত ৩ 
রক্ষিত হইয়া আসিয়াছে । কারণ এই যুগের লেখক মৃত্যুর বিদ্যালঙ্কার, 
রামমোহন রায়, মদনমোহন তর্কালঙ্কার, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিষ্যা- 
সাগর অক্ষয়কুমার দত্ত, মধুস্থদন দত্ত, ভূদেবচন্ত্র মুখোপাধ্যায়, রঙ্গলাল 
বন্দ্যোপাধ্যায়, রামনারায়ণ তর্করত্ব প্রভৃতি সকলেই সংস্কৃত-পন্থী ছিলেন । 
যেদিন হইতে বঙ্গভাষায় প্যারীর্টাদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলালে'র 
জন্ম হইল সেইদিন হইতে ভাষার দিক দিয়া! যেমন এক সমস্তার উদ্ভব 
হইল, সেই রকম বানানের দিক দিয়াও এক গুরুতর সমস্তার স্থষ্টি হইল। 

স্কৃত-পন্থীরা মনে করিয়াছিলেন যে, এই প্রকার ভাষার জন্ম সাহিত্যে 
ক্ষণস্থায়ী মাত্র। কিন্ত প্রকৃতপক্ষে তাহা হইল না) বঙ্কিমচন্দ্র আংশিক 
এই ভাষাই গ্রহণ করিলেন, দীনবন্ধু মিজ্রও তীহার নাটকের নিয়তন 
চরিত্রগুলি এই ভাষা দিয়াই স্থষ্টি করিয়া রসজ্ঞের মনোরঞ্জন করিলেন। 
কথ্য এবং প্রাদেশিক ভাষাকে সাহিত্যে গ্রহণ করিলে ইহাদের 
বংনানের ব্যভিচার অনিবার্য হইয়া উঠে এবং এইজন্যই সেই সময় 
হইতে বঙ্গভাষার ভাষা-সমস্তার মত বানানও অন্ততম সমস্তার বিষর 
হইয়া দাড়াইল। 
চণ্ডীকাব্যকার মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর পূর্ব হইতেই বাংল! কবিতায় 
মুসলমানি শব্দ প্রয়োগ হইতে আরম্ভ করে। ভারতচন্দ্র রায় ও তাহার 
পরবর্তী কবি ইঈশ্বরচন্ত্র গুপ্ত ব্যাপকভাব মুসলমানি শব প্রয়োগের 
পক্ষপাতী ছিলেন। এই বিদেশি শব্গগুলির বানানে চরম ব্যভিচার 
লক্ষিত হইত এবং এমন কি একই লেখককে একই শব্দের বিভিন্ন 
বানান ব্যবহার করিতে দেখ। গিয়াছে । কেহ বা সংস্কৃত ব্যাকরণ্রে 
“বিধি ইহাদের উপর আরোপ করিয়। ইহাদের বাংল! বানান গঠন 
করিয়াছিলেন, কেহ বা ইহাদিগকে বিদেশি শব বিবেচনা করিয়া যথেচ্ছ 
বানান করিয়াছেন । এমন কি নিয়লিখিষ্ভ এই প্রকার কতকগুল 


৪ শব্দ ও উচ্চারণ 


শবের বানান এখন পধ্যস্তও নির্দিষ্ট হয় নাই; যেমন, “নিস”, “জিনিষ, 
“বাকি”, বাকী") থখুসি', থুসী খুশী? খুশি; চিসমাত চিশমা ও 
“দেরী”, “দেরি” ) "শহর", “সহর' ; “শী”, "সবজী, ) «সাদা', "শাদা, 
ইত্যাদি। বাংলা বানানের একট। নিয়ম নির্দিষ্ট না থাকার জন্ত এই 
সমস্ত বাংলায় ব্যবহৃত আরবি-পারসি শকের উপর বানানের স্বেচ্ছাচারিতা 
চরমে আসিয়া পৌছিয়াছে। 

অন্নকাল মধ্যেই আবার বাংলা ভাষার সঙ্গে পোর্তু,গীজ, ইংরেজি ও 
ফরাসি শক সংমিশ্রণ আরম্ভ হইল। ইহার ফলে একমাত্র মুসলমানি 
শব্দ যে সমস্তার স্থষ্টি করিয়াছিল তাহাই জটিলতর হইয়া উঠিল মাত্র । 

বাংলা ভাষার সহিত যে শুধু পাশ্চাত্য ও মুসলমানি শবেরই যথেচ্ছ 
সংমিশ্রণ হইয়াছে তাহা নহে; বাঙ্গালি জীবনের বিভিন্নমুখী বৈষয়িক 
বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অন্ান্ত প্রাদেশিক ভাষার সঙ্গেও ইহার 
শব্ধ-সম্পদের আদান প্রদান হইতেছে । এই ভাবে বহু আসামি, 
ওড়িয়া, হিন্দি, মারাঠি, গুজরাটি শবও বাংলা ভাষায় আসিয়া স্থান লাভ 
করিয়াছে। ইহাদের বাংলা বানান গঠনেও কোনরূপ নির্দিষ্ট নয়ম 
অবলম্বন কর! হয় ন।। 

আধুনিক বাংল। ভাষার বানানের একট| বিশেষ গুণ এই যে, ইহা 
সর্বতোভাবে প্রাক্ৃত-প্রভাব-যুক্ত হইতে চেষ্ট। করিয়। সংস্কৃতের সহিত 
ঘনিষ্ঠত। স্থাপনে বন্্বান্‌ হইয়াছে । ইহ বাংল। বানানের পক্ষে একটা 
শুভ লক্ষণ বলিতে হইবে । কারণ, সংস্ত ভাবায় যে স্ুসংবদ্ধ ব্যাকরণের 
নিয়ম এতকাল যাবৎ শ্রী ভাষার পবিভ্রত। রক্ষা করিয়া আসিতেছে 
তাহার নিক্ষেশাধীনে আসিলে বাংল। ভষার ক্ষেত্র হইভেও বানানের 
শ্বেচ্ছাচারিত, দূর হইবে । অনেকে এই কথ| তুলিয়। তক করিয়! থাকেন 
যে, সংস্কতের নিয়ম বাংল!ঘ খাটিবে কেন? কিন্তু ইহ! স্মরণ রাখা উচিত 


প্রারস্ত ৫ 
যে, বাংল। ভাষ। গোড়া হইতেই সংস্কৃতির নিকট খণী, অতএব একটা 
নিয়ম ষদি মানিতে হয় তবে সংস্কতেরই নিয়ম মানিয়া লওয়! উচিত; কারণ, 
উচ্ছ জ্খলতা দ্বারা একটা ভাষার ভবিষ্যৎ মঙ্গল স্থচিত হইতে পারে না। 
যেদিন বাংলার নিজন্ব নিয়ম গঠনের দিন আসিবে সেদিন সংস্কতকে 
বিদায় দিলেও চলিবে | 

শবের বু[ৎপত্তি-জ্ঞানের অভাব থাকিলেই সাধারণতঃ বানান বিভ্রাট 
ঘটিয়! থাকে ॥ বাংলা ভাষার আধুনিক লেখকদিগের মধ্যে অনেকেরই 
এই ক্রটী বর্তমান। অতএব সাহিত্যের অনুশীলনের সঙ্গে সঙ্গে যাহাতে 
ভাষাতত্বের আলোচনাও বিস্তৃতি লাভ করে তাহার চেষ্ট। করিলেই 
বঙ্গভাষা এই ব্যভিচার হইতে মুক্ত হইতে পারে। 

বানান-সমস্তা স্থষ্টির আর একটি প্রধান কারণ এই যে বাংলার 
উচ্চারণ-রীতির সঙ্গে তাহার বর্ণমালার নিবিড় সম্পর্ক নাই। 
ভারতের কোন সুদূর অতীত যুগের কোন এক বিশেষ উচ্চারণানুঘায়ী 
গঠিত বর্ণমালাকে আমাদের সম্পূর্ণ গ্রহণ করিতে হইয়াছে ; তদুপরি 
বর্তমান বাংলারও বিভিন্ন স্থানের উচ্চারণ-রীতির কোন এঁক্য নাই। 
তাহ! হইলেও সার্বজনীন উচ্চারণের একটি বিশিষ্ট রীতিকে অবলম্বন 
করিয়া আপন! হইতেই খানান কোন বিশেষ প্রণালীবদ্ধ হইয়া আসিত। 

প্রত্যেক ভাষারই উচ্চারণের একট! নিজস্ব রীতি আছে। 
প্রত্যেকেই তাহার উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য পুর্বপুরুষদিগের নিকট হইতে লাভ 
করিয়। কে, ইহা! একটি বংশান্ক্রমিক গুণ । ক্রমে জাতীয় ভাষা এই 
উচ্চারণানুষায়ী গঠিত হয় । নৃতত্ববিদেরা' বলেন, বাঙ্গালি একটি সঙ্কর 
বা মিশ্র জাতি | বাঙ্গালির বাহ অবয়বে যেমন পরম্পরের সহিত 
সাঁমগ্জশ্ত অতি অল্প অন্তঃপ্রক্ৃতিতেও তেমনি | ,জীতিগতভাবে বাঙ্গালির 
নিজস্ব উচ্চারণের কোন রীতি নাই। একই প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের 


ঙ রাজ জি 


লী জি টি তা 


উচ্চারণ | এত পৃথক যে য় পরম্পরের ভাষাই স্বত স্বতন্ত্র বলিল মনে হয়। এই 
কারণে রা, বরেন্দ্র, ও বঙ্গে বিভিন্ন প্রকৃতির কথ্য ভাষার সৃষ্টি 
হইয়াছে। ময়মনসিংহের সহিত তাহার সংলগ্ন জিলাগুলির উচ্চারণের 
তুলন। করিলেই তাহা বুঝিতে পার! যাইবে। শুধু তাহাই নহে, যে 
কলিকাতা সহরের উচ্চারণ আমরা আদর্শ বলিয়! গ্রহণ করিতে যাই 
তাহারও বিভিন্ন পরিবারের উচ্চারণ-রীতি এক নহে। ইহার কারণ, 
কলিকাত! নূতন সহর বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের লোকই এখানে 
আসিয়। বসবাস করিতেছে ; তাহাঁদের কৌলিক উচ্চারণের রীতি কেহ 
এখন পর্য্যস্ত সম্পূর্ণ ত্যাগ করিতে পারে নাই। ভারতের অন্ত কোন 
প্রদেশের ভাষায় বাংলার মত এত অন্ন স্থানের ধ্যবধানে এত পার্থক্য নাই। 
ইহা! হইতে উপলব্ধি করিতে পার! যাইবে যে, বাংলায় উচ্চারণান্ুযা়ী 
নিজন্ব বানান গঠনের উপায় নাই। কারণ, বানানে একট! সার্বজনীন 
রীতি গ্রহণ ন। করিলে ভাষার এক্য নষ্ট হয় এবং তাহ। -হইতেই জাতীয় 
এঁক্য শিথিল হইয়! পড়ে । উচ্চারণগত পার্থক্য থাকিলেও লেখ্য ভাষায় 
একটা বিশেষ নিয়ম অবলম্বন করিলে ভাষার সংহৃতি অক্ষু্ণ থাকিয়া যায়। 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকৃতির শব্দের মধ্যে এই এক্যসংস্থাপক 
নিয়মের নির্দেশ করাই বর্তমান পুভ্তিকার উদ্দেম্ত। 
ংল! ভাষায় বিভিন্ন প্রকৃতির শব্দ ব্যবহৃত হইয়৷ থাকে ) যেমন, 
স্কৃত শব, সংস্কৃতের বিকৃত উচ্চারণ-জাত শব, সংস্কৃত হইতে নিয়মিত 
ভাবে জাত শব্দ, দেশজ, মুসলমানি ও ইউরোপীয় প্রভৃতি ভাষার শব । 
ইহাদিগকে যথাক্রমে 'তৎসম”, "অর্ধতৎসম' “তত্ভব" 'দেশি' ও “বিদেশি' 
শব বলা হইয়া! থাকে । উহাদের রীতি ও বানান-গঠন সম্বন্ধে এক্ষণে 
বিস্তৃতভাবে আলোচনা! করা যাইবে । 


তৎসম শব্দ 


বাংলায় ব্যবহৃত সংস্কত শব্কে তৎসম শব্দ কহে। যেমন, 'বুক্ষ, 
“নির্ণর”, 'শিরন্ত্াণ' ইত্যাদি । আধুনিক বাংলা ভাষায় এই শবের পরিমাণ 
অত্যান্ত অধিক। সেইজন্ত ইহাদের বানান সম্পর্কেও কয়েকটি প্ররোজনীয় 
কথ বিস্তুতভাবে বল! অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। 
ইহ। প্রত্যেকেরই মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, এই জাতীয় শবের সংস্কৃত 
অভিধানের নির্দেশানুযায়ীই বানান হইবে; সাধারণত: তাহাই হয়ও। 
বাংলাই ভারতীয় আধ্যভাষাসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সংস্কৃত-পন্থী। 
হিন্দিতে অনেক সংস্কৃত শব্ের বিকৃত বানান হয় ; যেমন, “সির্‌* (শিরঃ) 
“মুসল' ( মুষল ) মকৃখী ( “মক্ষী )) বাংলায় এমন হয় না। কিন্তু তথাপি 
ংলার উচ্চারণ-বৈশিষ্ট্যের জন্য এই জাতীয় শব্দের বানীনও অল্পবিস্তর 
পরিবর্তিত হইতেছে । এই পরিবর্তনের মধ্যে যদি বাংল! ভাষাতব্বের 
নিয়মান্ুমোদিত কৌন সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে ভাহ! হইলে তাহা 
গ্রাহ্য হইতে পারে। এই প্রকার কতকগুলি দৃষ্টান্ত ধরিয়া আলোচন। 
কর। যাউক। 
রেফ-যুক্ত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব_সংস্কৃত শবের বানানের জন্য পাণিনি 
স্যত্র কুরিয়াছিলেন, “অচোরহাভ্যাং দবে*় (৮919৬) অর্থাৎ “র' “হ* পরে 
থাকিলে 'যপ,” বা শ, ষ, স ব্যতীত সকল ব্যঞ্জনেরই বিকল্লে দ্বিত্ব হইবে। 
যেমন, “অর্চনা, “অর্চনা” ; “অধ” “অপ্ধ' । এই রেফ-যুক্ত তৎসম শবের 
ংল! বানানে কতকগুলি বিশেষ বর্ণে দ্বিত্বের রীতি প্রচলিত আছে। 
ংলায় বিকল্পের রীতি নাই কিন্তু ইদানীং কেহ কেহ এই দ্বিত্ব বর্জন 


৮ শব্দ ও উচ্চারণ 
করিয়াছেন। ইহাতে একই শব্দের দ্বিবিধ বানান দেখিতে পাওয়া যায় ; 
যেমন, “কাধ্য' “কার্য ; বর্তমান, 'বিতমান” ; পপুর্বার্”, পপুর্বাধ?। 
বানানের এই দ্বৈত নিয়মে ভাষার সংহতি নষ্ট হয়। অতএব উহাদের 
মধ্যে একটি কি নিয়ম গ্রহণ কর! যাইতে পারে তাহার আলোচন। করিব। 

-স্কৃত ব্যাকরণে দ্বিত্বের বিকল্প বিধান থাকিলেও ইহ লেখকের 
স্বেচ্ছাচার মতই ব্যবহৃত হইত না। এই সম্পর্কে একটি সুন্দর নিয়ম 
অনুস্থত হইতে দেখ। যায়। যেমন, 

(১) “ক? বঞ্গর কোন নরেফ বর্ণ দ্বিত্ব হয় না। যেমন, “অর্ক' 
মুর্খ, বর্গ, অর্ঘ' ; । 

(২) “ঝ" থা" নি "পভ" ছি" রেফ “ঘুক্ত হইলে ঘ্িত্ব হয় ন1। 
যেমন, “নিঝর”, “অর্থ” “ুনণম “সর্প, গর্ভ পর? | 

(৩) ? বর্গের কোন বর্ণ এবং “ফ' রেফ-যুক্তই হয় না। 

(৪) সংস্কৃতে অন্থ:স্থ বর্ণ দ্বিত্ব হয়না । তবে বাংলার অন্তঃস্থ 
ও অন্তুঃস্থ *ব" ব্্গীয় বর্ণের মত উচ্চারিত হয় বলিয়া বাংল! বানানে 
তাহারাও রেফ-যুক্ত হইলে দ্বিত্ব হয়। 

অতএব দেখ। যাইতেছে যে, পাঁণিনি বিকল্পের বিধান দিলেও 
ব্যবহারতঃ উল্লিথিত কতকগুলি বর্ণ নিয়মিত ভাবেই দ্বিত্ব হইতেছে ন!। 
কেবল, “চ', ১ 'জ', তি, “দা, ধ”, এব, ম' এই কয়টি বর্ণের বেলায়ই, দ্বিত্ 
হইতেছে । এই নিয়মটি সর্বতোভাবেই ধ্বনিতত্বান্থমোদিত (90010- 
1061081) । ইহার বিস্তৃত বর্ণনায় প্রয়োজন নাই, তবে এই নিয়মানুমীরেই 
আরও দুটি বর্ণ হইতে দ্বিত্বের উচ্ছেদ হইতে পারে। বর্ণ ছুইটি “ছ* ও 
ধ'। মহা'প্রাণ বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণত: অসম্ভব । অতএব এই ছুইটি 
বর্ণ হইতে বাংলায় দ্বিত্ব ত্যাগ কর! যাইতে পারে। কিন্তু উল্লিখিত বে 
সমস্ত বর্ণ সংস্কৃত ভাষার জন্মকাল হইতে আজ পর্যান্ত নিয়মিতভাবে 


ছিরে ৯ 


স্টিল সী সঈলী পাস এ ক সলাত লী লী চু 


দতব হইয়া আসিয়াছে, তাহাদিগের হা অঙ্গহানি ক' করা 1 সমীচীন ন ন্হে। 
কারণ এই নিয়মটি নিতান্তই স্বেচ্ছাচার-প্রস্থত নহে। 

এই দ্বিত্বের রীতি কোথা হইতে আসিল ? মনে হয় এই দ্বিত্ব সংস্কৃত 
উচ্চারণান্ুযারী (191১0176610) বানানের অন্যতম নিদর্শন ।* কারণ রেফ- 
যুক্ত অন্নপ্রাণ ব্যঞ্জনকে স্বাভাবিক উচ্চারণ হইতে অধিকতর জোর দিয়া 
উচ্চারণ কর! হয়। ইহা অবশ্ স্বীকার্ধ্য যে 'নির্জন' ও “নির্জন'এর 
উচ্চারণ এক নহে । শেষোক্ত স্থলে “কে একটু জোর দিরাই উচ্চারণ 
করা হয়। বর্ণের উচ্চারণে এই জোরটুকু বুঝাইবার জন্যই দ্বিত্ব করাও 
অসম্ভব নহে। যাই হউক, তাহা হইলে সংস্কৃত বানানের রীতি ও 

ংল1 উচ্চারণ এই উভয়ের মর্যাদা রক্ষা করিয়া বাংলায় ব্যবহৃত সংস্কৃত 
শবের জন্য এই নিয়ম করা যাইতে পারে যে, একমাত্র "' “জ' “ত' প" 
“ব' “ম" 'ব' রেফযুক্ত হইলে দ্বিত্ব হইবে, অন্ত কোন বর্ণ দ্বিত্ব হইবে না। 

অনুস্বার_-একমাত্র স্বরের “মন অর্থাৎ পশ্চাৎ যে অনুনাসিকের 
উচ্চারণ হয় তাহাকে অনুম্বার বা মনুন্বর বলে। সংস্কতে ইহার 
অত্যন্ত ব্যাপক ব্যবহার দেখিতে পাওয়া যায়। এমন কি অনু- 
নাসিক ব্যঞ্জনের অধিকার অনেকস্থলে খর্ব করিয়৷ পাণিনি অনুম্বার 
ব্যবহারের নিদ্দেশ দিদ্বাছেন (ডা. 1). 10100055 90505026 
017010010 10 £)। কিন্তু বাংলার দেখিতে পাঁই বথাস্থানে অন্ুনাসিক 
ব্যঞ্জনের মর্যযাদ। পুনরার সুপ্রতিষ্ঠিত হইতেছে । ইহাতে মূল সংস্কৃত 
শব্দের সহিত বাংলায় ব্যবহৃত সংস্কৃত শবের আরুতিগত বৈষম্য উপস্থিত 
হইয়াছে । যেমন, সংস্কৃত “নংকল্প' “শংখ" 'সংগ' ইত্যাদি বাংলায় বাবহৃত 
হইয়া “সঙ্বল্প', “শঙ্খ” 'সঙ্গ' হইয়া গিয়াছে । আধুনিক হিন্দি সংস্কৃতের 





* ইংরেজিতে স্থল-বিশেষে বাঞ্জনের দ্বিত্বের বিধি আছে ; যেমন, 09210, 
09101100091) ৮/07591)1]0090 7; 28097, 7909790 7; 2860৮, 190:66৮০৫- 
ইহাও ধ্বনিজ। 


১০ শব্ধ ও উচ্চারণ 


অনুযায়ী ব্যাপক অনুস্বার ব্যবহারেরই পক্ষপাতী । কিন্তু বাংলায় সমস্ত 
স্র্শবর্ণে ই ব্যঞ্জন-পূর্ববর্তী অন্বস্বার লুপ্ত হইয়া তংস্থলে তত্তত্বর্গের অস্থু- 
নাসিকই ব্যবন্ৃত হইতেছে । বাংলা বানানের সংস্কারপন্থীদিগের কেহ 
কেহ উভয়কুল রক্ষ। করিবার পক্ষপাতী । তীহার! বিকল্পে উভয় বিধানই 
গ্রাহা বলিয় নির্দেশ দেন । কেহ আবার বাংল] ধ্বনি-তত্বের মর্যাদা রক্ষা 
করিতে গিয়া সংস্কৃতের বিধান একেবারেই অগ্রাহ্য করিতে চাহেন। কিন্তু 
এই বিষয়ে বক্তব্য এই যে, ব্যাকরণে বিকল্পের বিধান খত অল্প.থাকে ততই 
ভাল এবং তৎসম শব্দের বানানের নিয়মে সংস্কৃত ব্যাকরণের নির্দেশই 
মানিয়া লওয়। কর্তব্য । ইংরেজি শব্দকোষে ইতালীয়, ফরাপি প্রভৃতি 
বহু শব প্রচলিত আছে, কিন্তু ধ সমস্ত এবের বানান ইংরেজি উচ্চারণা- 
নুযায়ী সংস্কার করিয়া লওয়া হয় নাই, তাহাদের নিজস্ব টবশিষ্ট্যই রক্ষা 
করা হইয়াছে । ইহাতে শবের বুযুৎপত্তি নির্দেশেরও অত্যন্ত সুবিধা হয়। 
অতএব 'সংকল্প' "শংখ' 'সংগ" বানানই বাংলায়ও 'গ্রাহ ;- ইহার ব্যতিক্রম 
গ্রাহথ নহে। ভবে এযাবংকাল ইহার ব্যতিক্রমগ্ুলিও যখন গ্রাহ হইয়া 
আসিয়াছে তখন তাহাদিগকে প্রাচীন প্রয়োগ (21019101015) বলিয়া 
নির্দেশ কর! যাইতে পারে । 

বিসর্গ--সংস্কত বর্ণমালায় বিসর্গও একটি স্বাধীন বর্ণ নহে। ইহাকে 
সাধারণতঃ বল! হইয়! থাকে 'আশ্রয়স্থানভাগী' ; অর্থাৎ যে বর্ণকে ইহ আশ্রয় 
করিয়া থাকে ইহা তাহারই উচ্চারণে সাহায্য করে মাত্র । বাংলায় তৎ- 
সম শবের বানানে পদাস্তস্থ প্রায় সমস্ত বিসর্গই লুপ্ত হইয়াছে ।€ যেমন, 
“মন ( মনঃ ) “যশ (যশ ) "শির" (শিরঃ )। তবে সমাসবদ্ধ পদের মধ্যস্থ্‌, 
বিসর্গ লুপ্ত হয় নাই ) যেমন, 'পুনঃপুনঃ' 'প্রাতঃকাল', নিভস্তল” ইত্যাদি। 
পদ্াস্তস্থিত বিসর্গের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ সাধন করিলে সংস্কৃত শবের একটি 
বর্ণেরই উচ্ছেদ কর! হয় ; কারণ, পদাত্তস্থ বিসর্গ সর্বত্রই একটি লুপ্ত “স্‌ ব| 


তৎসম নু ১১৬ 


রর স্থানাবিকারী। যেষন 'মনস্‌ (ষনঃ) পুনর্ (খুন: )) অন্ত 
কোন শব্দের সহিত সন্ধিবদ্ধ হইলে এই গুপ্ত বর্ণগুলির সঠিক পরিচয় 
পাওয়া যায়। যেমন, “মনস্তাপ', 'পুনরপিঃ । অতএব বাংলায় বিসর্গটি 
বর্জন করিলে একটি অসুবিধা এই যে, শব্বগুলিকে হসস্তভ্রমে উচ্চারণে 
ভুল কর! হয়; যেমন সংস্কৃত “মনঃ, বিসর্গ বর্জিত হইয়। লিখিত হয় “মন” 
এবং উচ্চারণে হর “মন্‌, । ইহাতে বাংলা ওজনবাচিক “মণ'র সঙ্গে 
ইহার উচ্চারণে কোন পার্থক্য থাকে না, তাহ! হইতেই বানানেও 
গোলযোগ উপস্থিত হয়, সন্ধিরও বিভ্রাট ঘটিয়া থাকে । 

অতএব এসব স্থলে বিসর্গ রক্ষা করাই উচিত। বিগত উনবিংশ 
শতাব্দীর তৎসম শবেও এই বিসর্গ অক্ষু্ণ থাকিতেই দেখা যায়। যেমন, 

“হানিলা ক্ষুস্থুম ধনুঃ টক্কারি' কৌতুকে”__মেঘনাদবধ ( মাইকেল ) 

“রতন-মগ্ডিত শিরঃ ঠেকিছে গগনে” চতুর্দশপদী (&) 

"আমার পূর্বের যশঃ করিল অলীক”-_বৃত্রসংহার ( হেমচন্ত্র ) 

«হে অশ্ব বোধিদ্রম ! যহাকালআ্োতঃ”--অমিতাভ (নবীনচন্ত্র) 

হসম্ত- বাংলা উচ্চারণে শব্দের আদি বা উপাস্ত স্বর ধ্বনিত 
(9006176) বা দীর্ঘ করিবার জন্য অকারাস্ত তৎসম শবের সাধারণতঃ 
অন্ত্য ব্বর লুপ্ত হইয়া থাকে । যেমন, 'জল' “বন? সাঁধক', “সমতল”, 
ইত্যাদি । এই সমস্ত শব্দের উচ্চারণে আদি কিম্বা! উপধাবর্ণে জোর 
দিয়া উচ্চারণ কর! হয়, সেই জন্ট অন্ত্যন্বর পর্যন্ত ধ্বনি-সাম্য রক্ষা কর! 
সম্ভব হয় না) সেইজন্ত শব্গুলির অস্ত্যস্বর ("অ?) উচ্চারিত হইতে 
পারে না। ইহা বাংল! উচ্চারণের একটা বৈশিষ্ট্য । কিন্তু বাংল! 
লিখন-সৌকর্যের জন্য এই প্রকার শবে হসম্ভের চিহন কদাচ ব্যবহৃত হয় 
মা। বাহ আরুতিতে শরবগুলি সংস্কৃতির অনুরূপ কিন্তু উচ্চারণতঃ 
্রকুতপক্ষে ইহার! বাংলা । উচ্চারণ ও বানানের এই পার্থক্যের জন্ 


১২ শব্ধ ও উচ্চারণ 
তৎসম শব্দের সন্ধি ও সমাসে নিত্য ভ্রান্তি ঘটিতেছে। অনেকের ধারণা, 
এমন ক্ষেত্রে হসন্ত-চিহ্নাটি ব্যবহার করিলেই সকল বিড়ম্বনার অবসান 
হয়। কিন্তু কার্্যতঃ তাহা সম্ভব নহে । হসস্তপদ শব্দের সংখ্য। বাংলার 
এত অধিক যে তাহাতে চিহ্ন প্রয়োগ করিতে গেলে লিখন এবং মুদ্রণের 
শ্রম অনেক পরিমাণে বাড়িয়া যায়। তবে যে সব শবে সংস্কৃতেও হসন্ত- 
চিহ্বের প্রয়োগ হয় তাহাতে বাংলায় লিখিবার কাঁলেও হসন্ত-চিহ্ 
অপরিহাধ্য। যেমন, 'বীমান্*, “আশিস্*, “তুর ইত্যাদি । সংস্কৃত 
হুসন্ত উচ্চারিত হয় না, অথচ বাংলায় হসন্ত উচ্চারিত হয়, এমন স্থলে 
হসন্ত-চিহ্ন ব্যবহার ন। করাই বাঞ্ছনীয়। 

সংস্বত “ক্ত', “তস্ঠ, ৮ “ফেয়” “অনীর গ্রতৃতি প্রত্যয়াস্ত শব্ষের বাংল 
উচ্চারণে অস্ত্য স্বর রক্ষিত হয় । যেমন, 'গত', “ভীত', “সতত”, রি | 
“গাঙ্গেয়*, “করণীয়, অগ্রজ", 'আত্মজ', 'খগ' ইত্যাদি । 

শব্দের উপান্ত স্বর যদি '্র' হয়, তবে অন্থ্স্বর রক্ষিত হয়; যেমন 
“বৈধ', “বৈর', তৈল”, 'শৈল' ইত্যাদি । 

পূর্বববঙ্গে ও পশ্চিমবঙ্গে অকারান্ত তৎসম শবের উচ্চারণে একটু 
পার্থক্য আছে। পূর্ববঙ্গের উচ্চারণ পশ্চিমবঙ্গ হইতে অধিকতর হসস্ত- 
প্রবণ। পশ্চিমবঙ্গের উচ্চারণে তর" ও “তম' গ্রত্যয়ান্ত শব্দের ( যেমন, 
“গুরুতর”, প্রিয়তম” ) অন্ত্ন্বর রক্ষিত হর কিন্ত পূর্ববঙ্গের উচ্চারণে 
ইহাদেরও অন্থযস্বর বিসঙ্জিত হইয়া থাকে। পশ্চিমবঙ্গের উচ্চারণে 
“কালীপদ' পূর্ববঙ্গে 'কালীপদ্‌, (সেইজন্য ষ্টা বিভক্তিতে 'কালীপদ'র 
ও “কালীপদের' এই দ্বিবিধই প্রয়োগ পাওয়া যায় )। 

পূর্বেই বলিয়াছি, শব্দের হসন্ত উচ্চারণ করা বাঁংলার একটা বৈশিষ্ট্য । 
এমন কি অনেকগুলি অ-কারাস্ত তৎসম শবশেষেও নৃতন হসন্ত বিভক্তি 
যৌগ করিয়। উচ্চারণ কর! হইয়া থাকে । যেমন, সংস্কৃত “মত” খাঁটি 


তরতসম শব ১৩ 


শ্্ল জিত | রে লিট সত জাস্ট রসি পি কউ ক 


বাংলা উচ্চারণে “মতন্‌ঃ | উচ্চারণতঃ এই হসস্তের এতদূর বিস্তৃতি হইয়াছে 
যে, কোন কোন ক্ষেত্রে আ-কারান্ত ও ই-কারাত্ত শবশেষেও হসন্ত 
বিভক্তি যোগ করিয়া বাংল! উচ্চারণান্্যায়ী নূতন শব গঠন করা 
হইতেছে । যেমন, 'নানান্‌' (নানা ) “রঙ্গিন (রঙ্গী)। 


অনুজ (বা অর্বাচীন তৎসম ) শব্দ 


বাংল। ভাষায় সংস্কৃতের প্রভাব বিডতির সঙ্গে সঙ্গে কতকগুলি খাঁটি 
বাংলা শব্দ ও সংস্কৃতের আরুতিতে গঠিত হইতেছে । যেমন, “বাড়রি'র 
বাহার! ওঝা ( উপাধ্যায়) তাহারা এতকাল 'বাড়ুয্যা”, 'বাড়ুয্যে” 
বাড়জ্জে থাঁকির1 “বন্দ্যোপাধ্যায়” হইয়া গেলেন । 'চাঁটুত্া' 'চাটুষ্ে” 
'চাটজ্জে'রাই ব। ছাড়িবেন কেন? তাহারাও দেখাদেখি হইলেন, 
“চট্টোপাধ্যায়”, "গান্ুলিরা'ও হইলেন "গঙ্গোপাধ্যায় । এই জাতীয় শব্দ 
বাহাতঃ সংস্কতের আরুতিতে গঠিত হইলেও মূল প্রকৃতিতে তৎসম শব্দ 
নহে। ইহারা বাংলার আমলেই অতি আধুনিক কালে 'গঠিত এবং শুধু 
আরুতি-সামের জনই ইহার! তৎসমের মর্যাদা পাইতে পারে । 

আধুনিক সভ্যতার উপযোগী ভাব প্রকাশ করিবার নিমিত্ত বাংল! 
ভাষায় কউকগুলি শব্দের উদ্ভব হইয়াছে ; ইহাদের আকৃতিও সংস্কতের 
অনুরূপ) যেমন, 'প্রাগৈতিহাসিক+, “কথাসাহিত্যিক, স্বায়ভশীসন+, 
'রক্ষণগ্রাল', 'পৃষ্ঠপোষক' ইত্যাদি । কিন্তু মূল সংস্কৃত শব্দকোষের সহিত 
ইহাদের কোন সম্পর্ক নাই। উক্ত উভয়বিধ শব্দকে অনুজ শব্দ. বা 
অর্ধাচীন ততস্ম শব্দ বলা যাইতে পারে । 

কতকগুলি শন্দ আবার এমন আছে, বাহারা মৃলতঃ সংস্কৃত হইতে 
জাত এবং 'প্রারুত শব্দ রি বাংলার আসিয়। তাহারা তৎসম শব্দরূপেই 
গৃহীত "হইতেছে ।  যেগন, “প্রকট”, বিকট", প্ুভ্তল” (তাহা হইতে 
পুনরায় 'পুন্তলিক।', “পৌন্তলিকতা' ইত্যাদি ), থুর") ( এমন কি এই 
প্রাক্কত শব্দটি সংস্থতে প্রবেশ করিরা বিশুদ্ধ সংস্কৃতের মধ্যাদা লাভ 


অনুজ শব ১৫ 
করিয়াছে-ক্ষুগ্রানি হরিতাং খুরৈঃ"-_কালিদাস, 'কুমারসম্তবম্ঃ )। ইহা- 
দিগকেও এই শ্রেণীর অন্তভূক্ত করা যাইতে পারে। 

এই প্রকার সমস্ত শবেরই বানান-গঠনে সংস্কৃত ব্যাকরণেরই নির্দেশ 
মানিয়া লওয়া হয়, সেইজন্য ইহাদের বানান সমস্তামূলক নহে । যে সমস্ত 
শব মূলতঃ আদৌ সংস্কত নহে যেমন, “চষ্টোপাধ্যায়ের' 'চট্ট' তাহাদের 
বানানও যথাসস্তব সংস্কৃতের ব্যাকরণানুযারীই হওয়! কর্ব্য। এইভাবে 
তৎসম বানানের সমগ্র রীতিই একটি বিশেষ প্রণালীবদ্ধ হইয়া! আসে 
এবং তাহ! দ্বারা সাধারণ নিয়ম প্রবর্তনের সুবিধা হয়। 


অর্ধতৎসম শব্ধ 


তৎসম শবের প্রাদেশিক বা লৌকিক ধ্বনি-বিকৃতি (35017500 
০০::19807) দ্বারা যে সমস্ত নৃতন শের স্থ্টি হইয় থাকে তাহাদিগকে 
অর্ধতৎসম শব্ব কহে। যেমন, “ব্যাভার, (ব্যবহার ), ' 'পাচিত্তির', 
পাচিভি” (প্রায়শ্চিন্ত), পেক্গাম' (প্রণাম )। এই সমস্ত শবের 
বিশেষত্ব এই যে, ইহারা ভাষাতত্বের মূলনীতি অনুষায়ী ক্রমে পরিবন্ঠিত 

না হইগলা তৎসম শব হইতেই প্রাদেশিক “উচ্চারণান্যায়ী গঠিত হইয়া 
থাকে । সেই জন্য ইহাদের জন্ম উচ্চারণমূলক এবং 'বাংলার বিভিন্ন 
প্রাদেশিক উচ্চারণে পার্থক্য হেতু একই তৎসম শব বিভিন্ন অর্ধ- 
তৎসম শব্দে পরিবন্তিত হয়। যেমন, “কাঁন”, “কান্ু', “কেষ্ট”, একে”, 
কেটে, কিক” পকিষ্কা”, কিছ? ( কৃষ্ণ )। 


সমরূপ- অদ্ধতৎসম শব্বকে ইহাদের আকুতি-বিভিন্নতার জন্তয মূলতঃ 
দুই ভাগে বিভক্ত কর! যায়। যে সমস্ত তৎসম শব্দ উচ্চারণে বিকৃত 
হইয়াও বাহ্যত: সংস্কৃতের আকৃতি অক্ষু্র রাখিয়াছে তাহাদিগকে সমরূপ 
অর্ধতৎসম বলা যাইতে পারে । যেমন, “ইতিমধ্যে ( ইতঃমধ্যে ), নিন্দুক 
(নিন্দক ), “ব্যবসা” (ব্যবসায় ), 'নাগেশ্বর' ( নাঁগকেশর ), ভাদ্রবধূঃ 
(ভ্রাভবধু )। এই সমস্ত শব্দ মূলতঃ তৎসমের বিক্লত-উচ্চারণ-জাত 
হইলেও বাহ্যত: প্রকৃত তৎসম শব্দ বলিয়াই ভ্রম হয়। উহাদের বানানও 
সর্ববতো ভাবেই সংস্কতমূলকই হইয়। থাকে । অতএব তৎসম শব্ধের বানানে 
যে রীতি নিদ্দিষ্ট আছে তাহা ইহাদের উপরও আরোপ্য । 


অদ্ধতৎসম শব্ধ ১৭ 


বিবমরূপ-কিন্ত' আর এক প্রকার অর্দতৎসম শব আছে যাহাদের 
উচ্চারণ প্রাদদেশিকতা-হুষ্ট ও অত্যন্ত বিরত বলিয়। বাহ্যতঃ তৎসমের কোন 
লক্ষণই প্রায় প্রকাশ পা না। যেমন, “ছরাদ”, “রাদ”, “ছেরাদ্দ', 
হবাদ' (শ্রাদ্ধ); 'শীগগির" । কথ্য ভাষায়ই ইহাদের ব্যবহার অধিক, 
তবে কোন কোন শবের গাধুভাবায় ও প্রয়োগ দেখিতে পাওয়া যায়। 
ইঠ1দিগকে বিষমরূপ অদ্ধতৎসম বল। যাইতে পারে । ইহাদের বানান 
সর্বদাই উচ্চারণমূলক হইয়। থাকে, সেইনন্ত ইহাদিগকে কোন নির্দিষ্ট 
বানানের রীতি অবলম্বন করিয়া চলিতে দেখ! যায় ন1। ইহাদের বানানই 
সমস্ত।মুলক ; তবে পূর্বেই বলিয়াছি এই সমস্ত শব্দের সাঁধুভাবায় ব্যাপক 
প্রচলন নাই, সেইজন্তই ইহাদের সমস্ত। গুরুতর নহে । যে অল্পসংখ্যক 
বিষমরূপ শব্দের সাধুভাষায় প্রচলন আছে তাহাও সর্বতোভাবে তত্ভব 
(পরে দ্টব্য) শকেের বানাদুনর রীতিই অনুসরণ করিয়। থাকে । 


তদ্ভব শব্দ 


যে সমস্ত শব্দ মূলতঃ সংস্কত শব্দ হইতে জাত হইয়া নিয়মিত 
পরিবর্তনের ভিতর দিয়া রূপান্তরিত হইতে হইতে আধুনিক কাল পর্যন্ত 
চলিয়া আসিয়াছে, তাহাদিগকে তত্তব শব্ধ কহে। যেমন, সংস্কৃত “হস্ত? ' 
গ্রাকত “হথ' বাংল "হাত; সংস্কৃত “বৃদ্ধ' প্রারুত “বডঢ' বাংলা বিড়? । 
এই জাতীয় শবই ভারতীয় প্রত্যেক প্রাদেশিক ভাষার নিজস্ব সম্পদ । 
বঙ্গভাষায় এই সমস্ত শব্দের সংখ্যাই সর্বাপেক্ষা অধিক এবং ইহাদের 
বানানই সমস্ত।-মূলক। 


এই সমস্ত তদ্ভব শবের বানানের উপর মূল সংস্কৃত, প্রাকৃত, মাগদী- 
অপতভ্রংশ ইত্যাদি ষেষে ভাষার মধ্য দিয়া আসিয়া .ইহারা বঙ্গভাষায় 
বর্তমান আকার লাভ করিয়াছে তাহাদের প্রত্যেকটিরই অগ্নবিস্তর প্রভাব 
দেখিতে পাওয়। যায়। প্রাচীনতম বঙ্গভাষার যে নিদর্শন পাওয়া যায় 
তাহাতে বাবহৃত তত্তভব শবের বানানে মাগধী অপত্রংশের প্রভাবই অধিক' 
ছিল এবং ইহা৷ একান্তই অস্বাভাবিকও নয়। কারণ তখন সবে মাত্র 
বঙ্গভাষা অপত্রংশের গর্ভ হইতে জন্মলাভ করিয়াছে । অতঃপর মধ্য-যুগের 
গ্রথমভাগের বঙ্গভাষায় তদ্ভব শব্দের বানানে কিছু কিছু প্রাক্কতের প্রভাবও 
লক্ষিত হয়। কিন্তু বর্তমানকালে সংস্কতের প্রভাব বাংল! শবের বনানেও 
ভ্রুত বিস্তৃতিলাভ করিয়া প্রাকৃত প্রভাবকে পরাজিত করিয়াছে । 


এখন প্রশ্ন হইতে পারে তণ্তুব শব্গগুলি যখন বঙ্গভাষার নিজন্ব সম্পদ 
তখন ইহাদের উপর আর প্রার্কৃত কিন্বা! সংস্কতের প্রভাব সমর্থন ন! 


তদ্ভব শব ১৯ 


করিয়া ইহাদের জ জন একটা নিজন্ব উচ্চাণন্ারী বানানের রীতি স্থির 
কর! আবশ্তক কি না। 

সংস্কতের অনুযায়ী আমর। বাংলা বর্ণমালার মধ্যেও দ্বাদশটি স্বরবর্ণ ও 
ছয়ত্রিশটি বাঞ্জনবর্ণের স্থান দিয়াছি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তৎঘম শব্র 
বানানের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য বাংলায় এই আটচল্লিশটি বর্ণের প্রয়োজন 
হইলেও তত্তব শব্দের বানানের জন্য এতগুলি বর্ণের প্রয়োজন হয় না। 
এই জন্য কেহ কেহ বাংলা বর্ণমালার সংগ্কার করিবার পক্ষপাতী । কিন্ত 
পূর্বেই বলয়াছি যতদিন বাংলা শব্দকোষে অন্ততঃ একটি তৎসম শবেরও 
স্থান থাকিবে ততদিন পর্যান্ত এই আটচল্লিশটি বর্ণকেই বাংল! বর্ণমালাতেও 
বক্ষা করিতে হুইবে | 

এখন প্রশ্ন হইতেছে যে, বাংল! তদ্ভব শকের বানানে সংস্কৃত ও প্রাকৃত 
প্রভাবের মধ্যে কোনটি গ্রহণ কর! কর্তব্য » যেমন, বাংলায় “কাষ' 
(স “কার্ধ্য ) লেখা উচিত কি “কাজ' (প্রা কজ্জ' ) লেখা উচিত ? 
শেষ? (স শযষা) লেখাই কর্তব্য কিন্বা “শেজ” (প্রা 'শজ্জা” ) লেখা 
কর্তব্য £ মাগধী অপতভ্রংশের প্রভাবের কথা না তুলিলেও চলে । কারণ, 
তাহার প্রভাব যাহ। ছিল আধুনিক কাল পর্য্যস্ত তাহার চিহ্নমাত্র 
আর নাই। আধুনিক বানানে প্রাকৃতের প্রভাবও অতি সামান্ত ; তথাপি 
কতকগুলি শব্দ প্রাকত ও সংস্কত এই উভয়ের নির্দেশ মানিতে গিয়। 
কোন বিশেষ নিয়মের শাসনে আসিতে পারিতেছে না। 

একটা ব্ষিয় এইস্লে চিন্তা করিলে দেখা যাইবে যে, যদিও তস্তব 
শবের উপর প্রাকৃত বানানের প্রভাবই অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল, তথাপি 
বাংল! ভাষ।র জন্মকাল হইতেই সংস্কৃতের প্রাবল্যে প্রাকৃত কোন কালেই 
ইহার উপর কোন নিয়মিত প্রভাব স্থাপন করিতে পারে নাই। তদুপরি 
বাংলায় যতই তৎসম শবের ব্যবহার বিস্তৃতিলাভ করিতেছে ততই প্রাক্কৃতের 


২৩ শব্দ ও উচ্চারণ 


সর্ববিধ প্রভাব প্রায় লুপ্ত হইবার উপক্রম হইয়াছে । সংস্কৃতের সর্বপ্রকার 
নিয়ম অনুসরণ করিবার প্রতি বাংলাভাষার একট! স্বাভাবিক প্রকৃতি 
জন্বিয়া গিয়াছে ; ইহাতে বাংলার নিজস্ব উচ্চারণের মর্ধ্যাদা অনেক সময় 
্ষুপ্ন হইলেও, ইহার গতিরোধ করিবার উপায় নাই। অতএব আধুনিক 
বঙ্গভাষার তপ্তব শবের বানানে প্রা্কতের স্কলে যাহাতে সংস্কত ব্যুৎপত্তির 
উপর লক্ষ্য রাখিরা বানান গঠন করা হয়, তাহার প্রতিই লক্ষ্য রাখা 
কর্তব্য । এইভাবে “কাধ? “শে প্রভৃতি বানানই গ্রাহা। ইহ! দ্বারা 
একট। নির্দিষ্ট নিয়মান্তবন্তিতার মধাস্থ হইয়া ভাষার বানানের দৈত-শাস:নর 
অবদান করা যাইতে পারে । বিষয়টি একটু বিস্ততভাবে আলোচন! 
করিরা দেখ। যাউক। । 
দ্রীর্থস্বর-_বাংলার স্বরবর্ণের দীর্ঘ উচ্চারণ হয় না, সমস্তই স্ব 
কিন্তু সংস্কতের অনুযায়ী দার্ঘবর্ণগুণি আমর! তদ্ভুবশব্দের বানানেও 
বাবহার করিয়। থাঁকি | যেমন, পীঘি” ( স দীর্ঘিকা ), ্ুত।' (স্তর) 
চুণ' ( সচূর্ণ) ইত্যাদদি। ইহাতে উচ্চারণের কোন পার্থকা হয় ন।, 
তবে সংস্কৃতির নিষ্ঠা রক্ষিত হুর, এই মাত্র ! 

কেহ কেহ তর্ক করিয়। থাকেন যে, তত্ভব শবে দীর্ঘ স্বর ব্যবহারের 
প্রয়োজন কি? সমস্তই উচ্চারণানুযায়ী হন্থ করিয়। লইলে বানানের 
কাজও অত্যন্ত সহজ হইয়া আসে। ইহা সম্পূর্ণই যে. যুক্তিসঙ্গত তাহা 
অস্বীকার করিবার উপার নাই। বানানে দীর্ঘস্বরের ব্যবহার তৎসম 
শব্দের বেলায় আমর! নিষ্ঠার সহিত পালন করিতে পারি, কিন্তু যাহ! 
খাটি বাংলা শব্দ তাহার উপর খাঁটি বাংল। উচ্চারণানুযায়ী বানান 
গ্রয়্গ করিতে দোষ কি ? 

প্ররুতই ইহার বিরুদ্ধে ভাষাতত্বসম্মত কোন যুক্তি নাই। কিন্ত 
আমাদের সংস্কার-বিয়োধী রক্ষণশীল মন সাধারণতঃ প্রাচীন রীতির 


ভগ্তব শব ২১ 


বতদূর সম্ভব মন্যাদ। রক্ষা করিয়া চলিবারই পক্ষপাতী ; অতএব এই 
উপদ্রব মানিয়া চলা ভিন্ন গত্যান্তর নাই, তবে ইহাতে শব্দের ব্যৎপত্তি- 
জনের যে ভবিধ। হয় তাহাঁও অস্বীকার করিবার উপায় নাই । 


এ* দীর্ঘ স্বরগুলি সংস্কতের আমলেও যে কতদুপ উচ্চারণে বিশ্তুদ্ধত। 
রক্গ। *রিয়। আসিরাছে, সেই বিষয়েও যথেষ্ট সন্দেহের কারণ আছে। 
কারণ, একই শব্দের অনেক সময় বিকল্পে ত্স্ব- দীর্ঘ-যুক্ত দ্বিবিধ বানানই 
দেখিতে পাওয়া যার। যেমন, পশণি', “শেণী' ) “বেণি', এবেণী' 
“রানি”, 'রাজী' ; “মনি, ধিমনী' ; “তরি, “তরী? ; পক্রটি', “্ধটী ) 
ধরণি', 'ধরণী' “ভঙ্গি, ভঙগী? ; তিন, তনু চচঞ্া, চিক? - হি”, 
ভিনূগ £ শক্ত, শিল্তা ॥ শিন্বুক', শিক? 5 ভিল্ুক?, "ভলকে? ইত্যাদি । 
ইনার অর্থ এই মে এই সমস্ত শব্দের উচ্চারণের “কান স্থির তা ছিল না। 
সংস্কত পদ্ছে ত্বস্ব দীর্ঘেব প্রতি কবিদিগের এত ক্বক্ষা সতর্কতা দেখিয়া কেহ 
যেন মনে না কবেন যে, তৎকালীন শব্দমাহেরই উচ্চারণে এই রীতি 
প্রচলিত ছিল। করণ, কবিতার উচ্চারণ সর্দদাই কৃত্রিম । মনে ভয়, এই 
দীর্ঘস্বরের মতি 'অল্পই উচ্চারণ ভইত ; তবে দুই হ্রশ্বশ্বরের স্দিস্থান কিন্ব। 
স্নীলিঙ্গ শব্দের পার্থকা নির্দেশ করিবার জন্য বৈয়াকরণের। ইহাকে সর্বদাই 
বাপ্ার করিয়। আসিতেন্েন । অতএব ভারতীয় ভাষাসমূহের বানানে 
দীর্ঘস্বরের এই অন্যাষা স্থানাধিকার অতি প্রাচীনকাল হইতেই চলিয়। 
আসিতেছে । বাংল। ভাষা সংস্কতেব নিকট নিজের এতটকু খণ স্বীকার 
করিলে ৪ .উত্তমর্ণের 'এই অত্যাচারটুকু তাহার নীরবে সহ করিয়া যাওয়া 
ভিন্ন উপায়ান্তর নাই। পূর্বেই বলিয়াছি, শবের ব্যুৎপত্তিষ্াানের জন্য 
বানানে ইহাকে রক্ষা করিয়া চলাই কর্তব্য । অতএব তত্তব শবেও 

স্কৃত-বুযুৎপত্তির উপর লক্ষ্য রাখিয়া দীর্ঘস্বরের ব্যবহার কর্তব্য । 

দস্ত্য 'ন? ও মূর্ঘন্য 'ণ?_প্রাকত বৈয়াকরণেরা তাহাদের বর্ণমালা! 


২২ শব্ধ ও উচ্চারণ 


হইতে দন্ত 'ন' র উচ্ছেদ করিরা মূর্দহ্য 'ণ' কে রক্ষা করিয়াছিলেন | 
ইহার কারণ এই যে তৎকালে দস্ত্য “ন” র উচ্চারণ হইত না, মৃদ্ধন্য “ণ'রই 
উচ্চারণ হইত । প্রাকৃত বর্ণমাল। তৎকালান -উচ্চারণানুধায়ী গঠিত, 
সেইজন্ঠ তাহারা মৃদ্ধন্ত 'ণ'রই ব্যবহার করিয়াছেন । 

আধুনিক ভারতীয় প্রাদেশিক ভাষাসমূহেও দস্ত্য ন'র বিশুদ্ধ উচ্চারণ 
হয় না, প্রকৃত পক্ষে মুদ্ধন্য 'ণ'রই উচ্চারণ হয় । ইহা একটু সামান্ত 
পরাক্ষা করিলেই আমর! অনায়াসে বুঝিতে পারি । “ত' হইতে 'ধ 
পধ্যন্ত বর্ণগুলি আমর। লিহ্বাগ্রদ্বারা দন্তমূলে আঘাত করিয়া উচ্চারণ 
করিয়া থাকি; কিন্তু “ন' উচ্চারণ করিবার কালে একটু অনুভব করিলেই 
বুঝিতে পারি যে, সহস। জিহ্বা গ্রভাগ পশ্চাদ্দিকে সরিয়! গিয়। মুদ্ধন্য বর্ণের 
উচ্চারণ-স্থানে আঘাত করিবার চেষ্টা করিতেছে । আর "ট' হইতে ণি' 
পর্য্যন্ত বর্ণগুলি সুখগহ্বরে বে স্থানে উচ্চারিত হইয়া থাকে, মুদ্ধনা 'ণ'ও 
অক্েশে একই স্থানে উচ্চারিত হয় । ইহা হইতে স্পষ্ঠতঃই বুঝিতে পার! 
যায় যে, উচ্চারণতঃ বাংলায় দত্ত 'ন' নাই, মুদ্ধন্য 'ণ'ই আছে । অতএব 
শব্দে ধার! দল্ত্য 'ন” ও মুদ্ধনা “ণ'র মধো একটিকে রক্ষ। করিবার 
পক্ষপা হী তাহারা প্রা্চতের বিধানানুযায়ী মুদ্ধন্য 'ণ'কেই রক্ষ। করিতে 
পারেন দন্থ্য নকে নয়। 

আচাধ্য রামেন্দ্জন্দর ভ্রিবেদী মহাশয় বলিয়াছেন (শব কথা' ) 
যে, আনরা দন্ত ও মুদ্ধন্য অন্ুনাসিকের স্বতন্ত্র উচ্চারণ করি ন। সত্য, কিন্তু 
বখনই যুক্তাঞক্ষরের উচ্চারণ করিতে যাই তখনই এই উভ্ভষ অন্থনাসিকের 
উচ্চারণ-স্বাতন্ত্রা উপলব্ধি করিতে পারি । অর্থাৎ তাহার মতে শশাস্ত' 
উচ্চারণ করিবার কালে দস্ত্য “ন' ও প্ঘণ্ট।' উচ্চারণ করিবার কালে প্ররুতই 
মুদ্ধন্য ণ'র উচ্চারণ করিয়। থাকি । কিন্তু ইহাও সত্য নহে। 'শান্ত' 
শকের দ্রুত উচ্চারণে অন্ুনাসিকের উপর তাহার পরবর্তী দস্ত্য বর্ণের 


তদ্ভুব শব ২৩ 


('ত” র) উচ্চারণাভাস সংক্রমিত হইলেও ধীরভাবে উচ্চারণ করিলে 
দেখ। যাইবে যে "শান্ত'র 'ন'র উচ্চারণস্থান প্রকৃতপক্ষে দত্ত নয়, ইহ! 
মুর্ধী। যেমন, 'শা-ন্ত' | 

প্রাকৃতের উচ্চারণ হুইতেও বুঝিতে পার! যায় ষে, বনু প্রাচীন 
কাল হুইতেই ভারতীয় ভাষাসমূহের উচ্চারণ হইতে দস্ত্য অন্ুনাষিকের 
অস্তিত্ব লুপ্ত হইয়াছে । আর্যযেরা এদেশে আসিবার সময় বাহির 
হইতে দন্ত্য অনুনাসিকেরই উচ্চারণ লইয়া আসিয়াছিলেন, কিন্ত 
অল্নকাল মধ্যেই ভারতীয় অনাধ্যদিগের সহিত সংযিশ্রণের ফলে এই 
দন্ত “ন"'র উচ্চারণ লুপ্ত হইয়াছে । কারণ ভারতীয় অনাধ্যভাষ। (দ্রাবিড়) 
ৃদদন্য বর্ণ-ধ্বনি-প্রবণ ছিল। 

কিন্তু আধুনিক ভাষাসমূহের বর্ণমালায় সংস্কৃতের প্রভাব বশতঃ 
দত্তয 'ন* আসিয়া পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে । এমন কি প্রাকৃত ও 
অপভ্রংশে মৃদ্ধন্য 'ণ'র অব্বত্র ব্যবহার দেখিয়! পরবস্তী কালে সংস্কৃত 
পণ্ডিতের! “্ণত্বমিচ্ছন্তি বব্বরাঃ* ইহাই মনে করিতেন। এইভাবে পণ্ডিতি 
বাংলা এই ণত্ব অতি সতর্কতার সহিত, কেবলমাত্র যেখানে সংস্কতের 
নির্দেশ আছে সেই প্রকার ক্ষেত্রে এবং সংস্কৃত ব্যুৎপত্বির উপর নির্র 
করিয়৷ ব্যবহার করিতে লাগিলেন । যেমন, “কাণ' (কর্ণ) “সোণ!' 
(ন্বর্ণ )। 

কিন্তু ক্রমে দন্ত্য 'ন' র প্রভাব এতই বিস্তৃতিলাভ করিতে লাগিল ষে 
বুৎপত্বির উপরও লোকের শ্রদ্ধা কমিয়া যাইতে লাগিল। তাহারা তর্ক 
করিতে লাগিলেন যে, সংস্কতের শব্দে যে কারণে মৃদ্ধন্য 'ণ' হয়, সেই 
কারণ যদি তপ্তব শব্দে না থাকে তবে আর তন্তব শবেই বা! মূর্ধন্য “৭'র 
বিড়ম্বনা কেন? অতএব “কান? (কর্ণ) 'সোনা' (স্বর্ণ) এই প্রকার 
বানানই গ্রাহ্থ। এমন কি 'বানান' শব্টির বানান লইয়াও এই 


১৪ শব্ধ ও উচ্চারণ 


গোলযোগ চলিয়। আসিতেছে। স্বীয় ললিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় মৃদ্ধন্য 'ণ? 
দিয়| “বাণান-সমস্তা'্র স্যষ্টি করিয়াছিলেন, কলিকাতি। বিশ্ববিদ্যালয় দস্তা 
“ন” দিয়। “বাংলা বানানের নিরম' গঠন করিয়াছেন । বানানের স্বাভাবিক 
প্রবৃত্তি যখন দন্ত “ন' বাবহারের দিকে তখন তাহাকে রোধ করিবার 
উপায় নাই। 


স্ৃত ণত্ব বিধানের শিয়মটি সর্বতোভাবে ভাষাতত্বান্থমোদিত ; কারণ, 
খে”, 'র”, “ঘ" এই বর্ণগুপির উচ্চারণ-স্থান প্রায় মদ্ধী, সেইজন্য শব্দমধ্যে 
ইহারা পুর্বে থাকিলে পরবর্তী অনুনাসিক নাঞ্জনেও মূদ্ধনা উচ্চারণ 
সংক্রমিত হইতে বাধা । সেইলন্ত তদ্ভুব শব্দে এই সব স্কুলে মর্দন্য "৭ 
দিবাই বানান কর! উচিত। যেমন, “রাণী, (রাজ্জী॥ “রাগ, ( রক্ন) 
শ্যাদি । এইভাবে সংস্কৃতের প্রতি আমাদের যে“কেবল নিষ্ঠা প্রদণিত 
হর সাহা নহে, প্বনিতত্বেরও মধ্যাদা অক্ষু্ থাকিয়া যায়। কিন্তু তদ্ছুব 
একে যে ক্ষেত্রে ত্ব-বিধি পালনের কারণ বিলপ্ত হইয়া গিয়াছে সেখানে 
শ্াব অনাবশ্তক মৃ্না ণ'র প্রয়োগ বাঞ্চনীর' নহে। অতএব “কান, 
( কর্ণ) “সোনা! স্বণ) “গিরী? (গৃহিনী ) এই প্রকার বানান গ্রাহ্! 


স্কতের একটি নিয়ম আছে যে “" “র? ঘর পরবতী হইলেও 
পদান্তস্থিত দন্ত্য “ন্‌* মুদ্ধন্য “ণ' হয় নাঁ। যেমন, নরান্‌ ; বাংলা 
তদ্ভবশন্দেরও এই নিয়মটি গ্রহণ করা উচিত, অতএব “তিনি করেণ 
“আপনি করুণ”,না লিখিয়া “করেন', করুন'ই লেখ! উচিত । ইহার £একটি 
কারণ এই যে স্বরবজ্জিত ব্যঞ্জনের প্রকৃত পক্ষে পূর্ণ উচ্চারণ হয় না। 
,সইজন্য & জাতীয় শব্দে খ' 'র” 'ষ থাকিলেও পরবর্তী অন্ুনাসিকের 
উচ্চারণ-ক্ষেত্রে পূর্বোচ্চারিত মূদ্ধন্য বর্ণের পরিপূর্ণ প্রভাব কার্ধ্যকরী 
হইতে পারে না। 


তত্ভব শব ২৫ 


 ভ"য় বিন্দু ড়-_আধ্যগণ ভারতবর্ষে আসিবার পূর্ব ট বর্খের কোন 
বর্ণ অর্থাৎ মুর্ধন্ত বর্ণ উচ্চারণ করিতেন না; পরবর্তী কালে ভারতীয় 
অনাধ্য ভাষার সংমিশ্রণে আসিয়। তাহারা সর্ব প্রথমে এই বর্ণগুলি উচ্চারণ 
করিতে আরম্ভ করেন । সেইঙ্ন্য বেদ ও উপনিষদের ভাষার মূর্দন্য বণের 
উচ্চারণ অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পাণিনি যখন সংস্কৃতির ব্যাকরণ 
গঠন করেন তখন এই বর্ণগুলির ব্যবহার এত ব্যাপক হইয়া পড়িয়াছিল 
ঘ, তিনি ইহার্দিগকে সংস্কৃত বর্ণমালার গ্রহণ করিতে বাধ্য হ ইয়াছিলেন। 
ধাণিনির ব্যাকরণ দ্বার। সংস্কতের বিকৃতি-পথ রুদ্ধ হইল সত্য কিন্তু ভাষার 
নিঙ্জস্ব গতি-প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নই রহিয়! গেল। তাহারই ফলে প্রাকৃত 
ভাষায় অসংস্কৃত থে কতকগুলি বর্ণের উদ্ভব হইল মূর্দন্ত বর্ণের শ্রেণীভুক্ত 
“ড়” তাহাদের অন্ততম ৷ 
কোন অনাধ্য *( দ্রাবিড় ) ভাষার প্রভাববশতঃ বাংল। তদ্ভুব শে 
ডর অত্যন্ত ব্যাপক প্রচলন হইতেছে । সংস্কতের প্রতি নিষ্ঠা 
দেখাইতে গিয়া ভাষার এই স্বাভাবিক গতি রোধ করিবার কোন কারণ 


নাই এবং তাহা সম্ভবও নহে; সেইজন্য সাধু উচ্চারণান্ুযায়ী নিয়মিত 
ভাবে ড'র ব্যবহারকে তদ্ছব শব্দের বানানে গ্রহণ করা হইয়াছে । 


সাধারণতঃ নিয়লিখিত নিয়মানুষারে তন্ভব শব্দে ডর ব্যবহার 
£খিতে পাওয়া যার। 
(১ মূল শব্দে টবর্গের কোন বর্ণ থাকিলে তংস্থলে তত্তব শব্দে 
“ড় হয়। যেমন, “কাপড় ( কর্পট ), পড়া” ( পঠন ), “ওড়” (গড় )। 
. (২) মূল শবে ত বর্গের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ণ থাকিলে তংস্থলে 
তাহার তত্ব শবে “ড়” হয় ; যেমন, “পড়া” (পতন), হাড় (অস্থি), “মাড়, 
(মর্দন )। 


২৬ শব্দ ও উচ্চারণ 


(৩) মূল শবে “ঞ' থাকিলে তংস্থলে তাহার তদ্ভব শবে “ড়? হয়ু এ 
যেমন, “সাড়া, ( সংজ্ঞ। ), “ঝড়? (ঝঞ্ধা )। 

পূর্ববঙ্গের কথ্য ভাষায় “ডর উচ্চারণ একেবারে নাই, তংস্থলে অন্তঃস্থ 
বর্ণ 'র'রই উচ্চারণ হয়। বাংলার পশ্চিম-সীমান্তে সর্বত্রই প্রায় "ডর 
উচ্চারণ হয়, "রর হর না। সেইজন্ত এই ছুই অঞ্চলের লেখকমাত্রেরই 
অসতর্ক বানানে এই “র ও “ডর বড় গোল রহিয়। যায়। একমাত্র 
সাধু উচ্চারণ ও উল্লিখিত নিয়মের প্রতি লক্ষ্য রাখিলে এই ভ্রাস্তির হান্তু 
হইতে নিষ্কৃতি পাওয়া যাইতে পারে। 

জি, ঙ, অনুন্থার- সংস্কৃত সংযুক্ত বর্ণ "জর স্থলে বাংলা তব 
শবে “ড ও “১ এই ছুইই লিখিবার রীতি প্রচলিত আছে । যেমন, 'রং” 
'রডঙ১ (রঙ্গ )) “বাংলা”, বাঙলা (বাঙগাল। )) গাং, গাও (গঙ্গা) 
ইত্যাদি। এই উভয় রীতির মধ্যে অবশ্ত 'একটিই গ্রহণ করা কর্তব্য । 

লিখন-সৌকর্যের জন্য অধিকাংশ স্থলেই এইসব ক্ষেত্রে অন্বস্বার 
লিখিত হইয়া থাকে ; কিন্তু ডর প্রকৃত উচ্চারণ যে কি সেই সম্বন্ধে 
প্রকৃত জ্ঞান ন| থাকার চন্য "৬৩ যথেচ্ছ ব্যবহার হইতেও বড় কম দেখ। 
যায় না? 

£্গ” এই সংযুক্ত ব্যঞ্জনটির মধ্যে একটি বর্ণ কবর্গের অনুনাসিক 
ও অপরটি এই বর্ণেরই তৃতীয় বণ 'গ” | কণ্ঠ ও তালব্য বর্ণের অনুনাসিক-: 
দ্বর়ের এই বিশেষত্ব যে তাহাদের স্বাধীন উচ্চারণ নাই। তাহারা নব 
বর্গের কোন ন। কোন ব্যঞ্জনের সহিত যুক্ত না হইলে প্রায়ই উচ্চারিত 
হয় না। মধ্যযুগের বাংলার বানানে 'ঞকে স্বর-সংযুক্ত হইয়! ম্বাধীন- 
ভাবে ব্যবহৃত হইতে দেখিয়া ( যেমন, 'গোর্সীঞ্রি, "মুঞ্রি” ) অনেক 
মনে, করিতে পারেন যে, ইহারা বুঝি স্বাধীন ব্যঞ্জন; কিন্তু পূর্বের 
ঘলিয়াছি এ যুগের বানান নির্দোষ ছিল ন।। 


তত্ব শব ২৭ 


'” র প্রকৃত উচ্চারণ 'উঅ' এবং «ঞ'র উচ্চারণ 'ইঅ' ; অতএব 
যাহার! সংস্কৃত শবের 'ঙগ' স্থলে 'ঙ' ব্যবহার করিয়া থাকেন তাহাদের 
শবগুলির এই প্রকার উচ্চারণ হয়, “রউঅ+ (রঙ), 'বাউঅলা? (বাঁঙ লা), 
'কাউআল' (কাডাল); কিন্তু আমরা প্রকৃতপক্ষে এই শবগুলির স্বতন্ 
প্রকার উচ্চারণ করি এবং তাহ অনুস্বার দিয়। লিখিলেই বথাষথ প্রকাশ 
পাইয়া থাকে ; যেমন, “রং (রঙ্গ), “বাংলা” (বাঙ্গাল) । 


অনেকে “উ" ও এ" কে শ্বর-সংযুক্ত করিয়৷ ইহাদিগকে স্বাধীন 
ব্যঞ্জনের অনুরূপ বানান করিবার পক্ষপাতী । যেমন, 'শাঙউন, 
(শাউঅন), 'গোঙাইনু' (গোউআইনু) ডেঞ্ছে' (ডেইএ)। কিন্ত সাধারণতঃ 
বাংলায় এইসব ক্ষেত্রে পূর্বববন্তী বর্ণে চন্দ্রবিন্দু যোগ করিরা পরবতী 
অনুনাসিকের স্বর-ধ্বনি মাত্র রক্ষী করিলেই চলে; যেমন, 'শা গন? 
“গৌয়াইন্থ', 'ডেয়ে' ; ইহাতে উচ্চারণের কোন পার্থক্য হয় না; কারণ, 
উচ্চারণতঃ অন্ুনাসিক শবের আদি বর্ণে ই সংক্রমিত হইয়া মাসে এবং 
পরবর্তী বর্ণে তাহার আভাস মাত্র রক্ষিত হয়। পূর্বেই বলিয়াছি, যেহেতু 
উক্ত অনুনাসিকঘয় সংস্কতেও স্বাধীন ব্যপ্তনরূপে বাবন্গত হয় না, সেই 
জন্য ইহাদ্দিগকে বাংলাতে ও স্বর-সংযুক্ত করিয়৷ বানান গঠন কর! 
সঙ্গত নহে। 


উদ্ম বর্ণ__মাগবী প্রাকতে সংস্কৃত 'শ" “য" " এই তিনটা উদ্ম বের 
মধ্য উচ্চারণান্থুযা়ী তালব্য 'শ'কেই রক্ষা করা হইরাছিল। সংস্কৃতেও 
এই তিনটি উদ্মবর্ণের সর্বত্রই স্বতন্ত্র উচ্চারণ হইত কিনা এই বিষয়ে 
যথেষ্ট সন্দেহের কারণ আছে । কারণ, কতকগুলি সংস্কৃত শব্দের বানানে 
বিকল্পে ছুই এমন কি কোথাও তিনটি উদ্মবর্ণেরই প্রয়োগ হইতে দেখ! 
যায়। যেমন, 'সেফালিকা', “শেফালিকা' ; কিসলয়', 'কিশলয়”, “কিষলয়+ 


২৮ শব ও উচ্চারণ 


“কলস”, 'কলশ' ; 'কুসীদ', “কুশীদ”, 'কুষীদ? ; 'কেশর', কেসর' ) -হুর্প্ 
“শূর্পা ; বিসিষ্ঠ”, বিশিষ্ঠ? ; “কংস', কংশ" ১ দর্ববরী', শশর্বরী') “কশা 
“ঘা ; 'উষীর', “ধীর ইত্যাদি । একই অর্থে একই শব্ধ যে ভিন্ন 
ভিন্নভাবে উচ্চারিত হইত তাহা মনে হয় ন।। যে ভাবেই বানান লেখ! 
হউক উচ্চারণ এক প্রকার হইত; অতএব মনে হয়, সংস্ক তেও এই 
উদ্মবণগুলির স্বতন্ত্র উচ্চারণ রক্ষিত হইত ন1। 

বাংলাতেও এই তিনটি উচ্মবর্ণই উচ্চারিত হয় না, একটিই হয়-- 
পূর্ববন্ে ও ভাগীরধী-তীরের ভাষায় তালব্য 'শ' এবং বাংলার পশ্চিম 
সীমান্তের ভাষায় দস্ত্য “সঃ | 

প্রাচীন ও মধ্যযুগের বানানে মাগী, প্রাকৃত ও অপত্রংশের প্রভাব- 
বশতঃ তালব্য 'শ' ই ব্যবহৃত হইত। কিন্তু আধুনিক বাংল! তন্ভব শব্দের 
বানানে সংস্কতের প্রভাব-বশতঃ বুযুৎপত্ভিব উপর লক্ষা রাখিয়া তিনটি 
উন্মবর্ণ ই ব্যবঙগত হইতেছে 3) যেমন, বাণী? ( বংশী); “সরিষা' ( সর্যপ ) 
'কাস।'। কাংস্ত )। কিন্তুকোন কোন স্থলে প্রাকুতের প্রভাব এখনও 
অক্ষু্ থাকিতে দেখা! যায় ; যেমন, 'শীলিক' (সারিকা )। 

শব্দের বাৎপততিজ্ঞানের সুবিধার জন্ত সর্ধত্র সংস্কতের আদর্শেই 
তব শব্দের বানান গঠিত হওয়া! আবশ্তক। যেসব আধুনিক বানানে 
প্রাক্তের প্রভাব বর্তমান রহিয়া গিয়াছে সেইসব বানানকে বিকল্পে 
শুদ্ধ বলিয়! নির্দেশ করিয়। তাহাদের সংস্ক.তান্ুরূপ বানান গঠন করিয়া 
লওয়। কর্তব্য । যেমন, শালিক" 'সালিক' (সারিক। )। 

বাংল। ব্যতীত হিন্দি মৈথিলি প্রভৃতি ভাষায় মুদ্ধন্য 'ষ'কে “' 
উচ্চারিত হইতে দেখা যায়। যেমন, “নিষিখ' ( নিমেষ ), 'বরখা' 
( বরষা )7 বাংলায় “ষ” র উচ্চারণ "শ” বা 'স+ হইতে অভিন্ন বলিয়া এই 
রীন্তি প্রচলিত নাই। 


তদ্তব শব ২৯ 


কেহ কেহ বলিয়া! থাকেন ('শব্দকথা'-_বামেন্্ন্ুন্দর ত্রিবেদী ) যে, 
ুক্ত ব্যঞ্জনের উচ্চারণে আমরা তিনটি উদ্মবর্ণকেই স্বতন্ব ভাঁবে উচ্চারণ 
করিতে পারি। অর্থাৎ দস্ত্য বর্ণের সহিত দত্ত, মুর্দন্য বর্ণের সহিত মৃদ্ধন্য 
ও তালবা বর্ণের সহিত তাঁলবা 'শ"-রই আমরা উচ্চারণ করি। যেমন, 
স্থল", “কষ্টা, “নিশ্চয় । (কিন্তু 'প্রশ্ন'র উচ্চারণে উম্মবর্ণ দন্ত্য 'ন' যুক্ত 
হইয়াও তালব্য উচ্চারিত হয়।) তীহার! বলিতে চাহেন যে, এই শব- 
গুলির উদ্মবর্ণের উচ্চারণে পার্থক্য আছে । 

কিন্তু যুক্ত বর্ণের উচ্চারণ-ধ্বনি হইতে কোন বর্ণ-বিশেষের অবিশিশ্র 
উচ্চারণ-পরিচয় পাইবার উপায় নাই। যেমন, "স্থল উচ্চারণ করিবার 
জন্ত খন আমরা প্রথম উত্মবর্ণের উচ্চারণ করিতে যাই তখনই ইহাতে 
যুক্ত 'থ'র দস্ত্য উচ্চারণাভাস আসিয়। সংক্রমিত হইয়া পড়ে। 
অন্ুনাসিক ব্যঞ্জনের আলোচনায়ও আমি এই প্রকার ধ্বনি-সংক্রমণের 
কথা উল্লেখ করিয়াছি । অতএব কোন বর্ণের প্রকৃত উচ্চারণ-পরিচয় 
পাইতে হইলে ইহাকে স্বাধীনভাবে উচ্চারণ করির়াই পরীক্ষা কর! 
প্রয়োজন । যুক্ত বর্ণের যুগ্ন উচ্চারণ-ধ্বনি হইতে ইহার প্ররুত পরিচয় 
পাইবার উপায় নাই। 

পৃবের্ব পত্ববিধির 'ভাষাতত্বানুমোদিত কারণ নির্দেশ করিয়াছি। 
এইবার বত্ববিধির বিষয় একটু আলোচন! করিব। 

স্কতের নিয়ম এই যে, “অ' “আ।' ভিন্ন স্বর ও 'ক+ ও র' র পরে 
পদমধ্যং “স? ('শ' নয়) “ষ' হয়। যেমন, “নদীষু'। এইখানে বর্ণের 
উচ্চারণে জিহ্বার ক্রিয়া একটু স্মরণ করিতে হইবে। 

'অ” “আ' উচ্চারণ করিবার কালে জিহ্বা নিক্ষিয় অবস্থায় প্রায় দন্ত 
মূলের নিকটবর্তী থাকে, অতঃপর দস্ত্য 'স' উচ্চারণ করিতে জিহবাকে 
বিন্দুমাত্রও বেগ পাইতে হয় না। কিন্ধু “ক' ও'র' কিন্বা “ম” “আ; 


৩৩ শব ও উচ্চারণ 


ব্যতীত স্বর উচ্চারণ করিয়া জিহ্বার পক্ষে দত্ত্য “স' উচ্চারণ'করা কষ্টকর 
এবং মূর্ধনা “ষ' উচ্চারণ করাই সহজ। কারণ, এই বর্ণগুলির উচ্চারণস্থান 
মৃক্ারই সংলগ্র। উচ্চারণ-বিজ্ঞান-সন্মত ষত্বের এই -বিধি তত্তব শের 
বানানে পালন করিলে সংস্কতের প্রতি যে অন্ধ গৌড়ামি প্রদশিত 
হইবে তাহা নহে, ইহা! দ্বারা বিজ্ঞানান্নমোদিত একটি নিয়মের আশ্রয় 
গ্রহণ করার বানানে ব্যভিচারের পথ চিরতরে রুদ্ধ হইবে। 

বর্গীয় জ, অন্তঃস্থ ঘ-_প্রারুতে অন্তঃস্থ বর্ণ 'য* ছিল না, স্পর্শবর্ণ 
ৰগীর “জজ? ই ছিল। ইহ। দেখিয়! অনুমান কর! স্বাভাবিক যে প্রারুতের 
যুগে হয়ত অন্তস্থ “ষ'র উচ্চারণ হইত না। কিন্তু মধ্যভারতের 
আধুনিক ভাষ হিন্দিতে সংস্কৃত-অনুযারী অন্তঃসথ। বর্ণেরও উচ্চারণ হইয়া 
থাকে । প্রাৃতের যুগে এই বর্ণের উচ্চারণ ন! থাকিলে আধুনিক ভাষায় 
ইহ। কোথা হইতে আসিল? 

ইনার উত্তরে এই বলা যাইতে পারে যে, প্রাকৃতের যুগেও হিন্দি 
প্রদেশে অন্থংস্থ "বার উচ্চারণ হইত, তবে প্রাকৃত বৈয়াকরণের! তাহাদের 
ভাষার সরলত| সম্পাদনের জন্ত বোধ হয় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত বর্গীয় 
'জ'কেই রক্ষ। করিয়। অন্তস্থ “থকে পরিত্যাগ করিরাছিলেন। ইহাতে 
প্রাকৃত ভাষার উপর প্রাচ্য কোন ভাষার প্রভাবও অনুমান করা 
অসঙ্গত হইবে ন। | 

বাংলার স্পর্শ বর্ণ বর্গীয় 'জ'ই উচ্চারিত হয়, অন্তঃস্থ “ঘ' উচ্চারিত 
হয় না। এই আনুযায়ী প্রাচীন ও মধ্য যুগের বানানে ব্যাপকভাবে 
বীর “জ'র ব্যবহারই দেখিতে পাই । কিন্ত ক্রমে ক্রমে সংস্কতের প্রভাব 
বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কত-ব্যুৎপত্তির উপর লক্ষ্য রাখিয়। বানান- 
গঠনের প্রবৃত্তি জন্মলাভ করিল এবং তখন হইতেই প্রারকতানুষারী বয় 
জর ব্যবহার সীমাবদ্ধ হইয়া আসিতে লাগিল। আধুনিক বাংলার 


তদ্ভব শব্ব ৩১ 
বানানে অতি সামান্ত কয়েকটি শবে এখনও প্রাকুতের প্রভাবজাত 
বর্গীয় *জ'র অস্তিত্ব দেখিতে পাওয়! যায়; বেমন, “কাজ' ( কার্ধ্য ), 
“জোড়' (যুগ্ম), "শেজ' (শষ্যা) ইত্যাদি। ইহাদেরও সংস্কতের 
বুৎপত্তি অনুযায়ী বানান হওরা কর্তবা, যেমন “কাধ, 'যোড়', "শেষ? । 


চক্দ্বিন্দু-_সংঘ্বন্তে ছুই বিভিন্ন শব্দের সন্ধির ফলে যদি কোন 
অন্ধনাসিক বর্ণ লুপ্ত হইত তবে সেই লুপ্ট অন্ুনাসিকের পূর্ববস্তী বর্ণ 
চন্্রবিন্দুযুক্ত "হইত; যেমন, 'মহান্‌+'লাভ', 'মহাল্লাভ' । এতদ্বাতীত 
সংঙ্গতে স্বাধীন শবের কোন বর্ণে চন্ত্ববিন্দুর ব্যবহার হইত না। 
প্রাক্কত ভাষ! হইতেই স্বাধীন শব্দে চন্্রবিন্দুর বাবহার আবরম্ত হয়। 
আধুনিক বাংলা শব্ে ইহার অত্যন্ত ব্যাপক প্রচলন হইয়াছে । 

চন্দরবিন্দুর উচ্চারণ রাঢ়ের ভাষারই বৈশিষ্ট্য। পূর্ববঙ্গে ইহা 
একেবারেই অপ্রচলিত। ভাগীরঘীতীরস্থ লোকের ভাষা এই হুই'এর 
মাঝমাঝি। উচ্চারণের এই বিভিন্নতাই বানানের স্বেচ্ছাচারিতার 
হেতু । 

চন্্রবিন্দু মাগধী অপত্রংশের একট! বিশেষ লক্ষণ ছিল। লিপিকার- 
দিগের ভ্রান্তিবশতঃ প্রাচীনতম বাংলায়ও স্থানে অস্থানে ইহার অত্যন্ত 
বাপক ব্যবহার কর। হইয়াছে । রাঢ়ের ভাষায় লিখিত পু'থিতে (শ্রীকুষ্ণ- 
কীর্তন) তদ্দেণীয় উচ্চারণের গুণে চন্দ্রবিন্দুর আর অন্ত পাওয়া 
যায় না। 

তন্তব শবে চন্দ্রবিন্দু প্রয়োগের একট। নির্দিষ্ট রীতি যে নাই তাহ! 
নহে, কিন্ত চন্তরবিন্দযুক্ত শব্ধ অনেক সময়ই উচ্চারণমূলক বলিয়া সর্বত্র 
নিয়মের নিদ্দেশ করা দুর । একটি কি দুইটি ব্যাকরণানুমোদিত কারণ 
বাতীত চন্দরবিন্্র প্রয়োগ স্ত্রই উচ্চারণজগাত। কারণ, বাংল! ভাষার 


৩২ শব ও উচ্চারণ 


বর্তমান রাঢযুগে শব্দে চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার একটা বিশেষ লক্ষণ হইয়। 
দাড়াইয়াছে। ত্বথাপি ইহার ব্যবহারে সাধারণতঃ যে নিয়ম অন্তশ্ত 
হইয়া থাকে তাহার উল্লেখ কর! যাইতেছে । এই নিয়মের প্রতি দৃষ্টি 
রাখিয়া চন্দ্রবিন্দুর প্রয়োগ সম্বন্ধে নতর্ক হইলে রাঢ- ও পূর্ববঙ্গ বাসী 
উভয়েই বর্ণাশুদ্ধির হাত হইতে কতক নিষ্কৃতি পাইতে পারেন । 

(১) সংস্কৃত শব হইতে যদি কোন অনুনাসিক বর্ণ কিম্ব। অনুম্থার 
লুপ্ত হইয়া কোন তছ্চব শব্ধ গঠিত হয় তাহ] হইলে লুপ্ত বর্ণে 
পূর্ববর্তী বর্ণ চন্দ্রবিন্দু-যুক্ত হয় । 'আ্বাক? ( অঙ্ক), "আ্বাচল' ( অঞ্চল ), 
“কাটা” (কণ্টক), “দাত” (দন্ত), 'কাপা" (কম্প), 'বাশী (বংশী)) 
ব্যতিক্রম_“চাউল' ( তুল ), “বিশ” ( বিংশ )। 

(২) সংস্কৃত যুক্তাক্গর-গঠিত শব্দের তদ্র্ব বদি একটি বর্ণ রক্ষিত 
হুর তাহা হইলে তাহার পূর্ববন্তী বর্ণে কখনও কখনও চন্দ্রবিন্দুর 
আগম হয়; বেন, "আখি, (অক্ষি ১ পুঁথি? (পুস্তক 11 একটি লুপ্ত 
বর্ণের স্থান অধিকাঁর' বা পূরণ করে, বলিয়া ইহাকে পূরণ-বাঁচক 
অন্ুনাসিক .কভে | র 

(৩) শব্দমধ্যে একই ব্যঞ্জন বর্ণ পর পর উচ্চারিত হইলে তজ্জনিত 
ধ্বনির একঘেয়েমি দোষ দূর করিবার জন্য শব্দের আঁদিবর্ণে চন্দ্রবিন্দু 
যুক্ত হইয়া থাকে | বেঘন, “ফাফর+ (ব। ফাপর 1) % চূড়া “পেপে? 
ঝি'ঝি। | 

(৪) নিরমিত চন্্রবিন্দৃযুক্ত কোন শবের প্রতি অলীক সামঞ্রস্য-হেতু 
কোন কোন শব্দে চন্্রবিন্দুর আগম হয়, যেমন, “পাচন', “কাচ? | 

(৫) অনুনাপিক কিন্ব। অনুনাসিকের পূর্বাবর্তী বর্ণ কদাচ চন্দ্রবিন্দু- 
যুক্ত হয় ন।। দন, 'মাজন' ( মঞ্চন ), লাক” ( লক্ষ ), "চাম' (চর্ম), 
'শামর' ( শগ্ধর ), 'উনি' "তিনি" (সন্ত্রমার্থক )১ কিন্ধু তাহার" | 


শপ্ভব শব ৩৩ 


হসম্ত- সংস্কৃতি হসন্ত শব্দগুলিতে হস্-চিহ্ন ব্যবহার করিতে হয়; 
কিন্ত বাংলা তদ্তব শবে এই সমস্ত শব্দের সংখ্যা এত অধিক যে 
তাহাদের চিহ্ন ব্যবহার করিয়া বানান করা সম্পূর্ণ অসম্ভব । এই বিষয়ে 
সাধারণ রীতি এই যে, বাংলায় অন্তা 'অ* স্বর উচ্চারিত হয় ন|, যেমন, 
'হাত" (হাত), “মাঠ” ( মাঠ), গাছ" (গ[ছ.), বন-বাদার (বন্-বাদার্) 
ইত্যাদি। এই সমস্ত শবে হস্চিহ্ন ব্যবহার না করিলেও উচ্চারণে 
কোন অস্থবিধা হয় না। তবে ইহাতে ৪ কতকগুলি বাতিক্রম আছে। 

(১) “অ' প্রত্যয়ান্ত শব্দের অন্ত্য স্বর উচ্চারিত হয়; যেমন, 
যেমন “ভাল' ( ভদ্রক ), “কাল', “কাদ+ কাঁদ”। 

(২) ৭্ভিজজ্ত "আ'" প্রতায়াস্ত শব্দের অন্ত্য স্বর উচ্চারিত হয় ; যেমন, 
'কীদ্দান+ঃ 'চালান” শোনান । 

(৩) তাহার ভাব এই অর্থে “ম' প্রত্যয়ান্ত শব্ধের অস্ত্যন্থর 
উচ্চারিত হয়; যেমন, 'পাগলাম” নেকাম» পপাকাম?। 

(9৪) “ইত" প্রতায়াস্ত অতীতকালবাচক ক্রিয়াপদের অস্ত্যস্থর 
উচ্চারিত হয়। যেমন, “করিত' 'যাইত' 'খাইত'। 

(৫) “ইব' প্রত্যয়াস্ত ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়াপদের অন্ত্যন্থর 
উচ্চারিত হয়। যেমন, ,করিব+, 'খাইব', 'যাইব' । 

(৬) বাংলায় 'ইল, প্রত্যয়ান্ত অতীত ও প্রত্যক্ষ বর্তমানক1লবাচক 
ক্রিয়াপদের অন্ত্যন্বর উচ্চারিত হয় । যেমন, 'করিল', 'খাইল', গেল' । 

বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চারণের পার্থক্য হেতু কথ্য ভাষায় কোথাও 
অন্ত্ম্বর উচ্চারিত হয়, কোথাও হয় না। যেমন, পশ্চিম বঙ্গের 
উচ্চারণে শব্ের আদিম্বর ধ্বনিত হয় বলিয়া তৎপরবর্তী স্বর লুপ্ত হয় 
বং পুনরায় অস্তান্বর উচ্চারিত হয়। যেমন, 'কুমূড়ে” (কুম্বা্)) কিন্ত 


৩৪ শব্ধ ও উচ্চারণ 


পূর্ববঙ্গের উচ্চারণে শব্দের উপাস্ত স্বর ধ্বনিত হয় বলিয়া অস্ত্স্বর 
উচ্চারিত হইতে পারে না। যেমন, “কুমড়, (কুমর) । উপরে যে নিয়ম 
নির্দেশ করা গেল তাহ কেবল সাধু-উচ্চারণ-সম্মত | 

স্বরাস্ত শব্বগুলিকে অন্যান্য হস্ত শব্ধ হইতে পৃথক করিয়া নির্দেশ 
করিবার জন্ত বানানে কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করা সমীচীন কি ন|! 
সাধারণতঃ ইহার জন্য শকশেষে “৪ কার যোগ কর। হইয়া থাকে, 
যেমন, 'ভাঁলো* 'পাগলামো" $ কিন্তু সর্বত্র এমন হয় না, যেমন, করিবো” 
“করিলো” কখনও লেখা হয় ন।। কেহ কেহ আবার স্বরাস্তশবশেষে 
একটি উল্টা! কমা-চিহ্ন ব্যবহার করিয়া থাকেন, যেমন 'পাগলাম' *। এই 
সম্বন্ধে নিদ্দিষ্ট কোন নিয়ম নাই । সেইজন্য এই নমস্ত শব্ধের বানান 
অত্যন্ত স্বেচ্ডাচারমুলক হইয়। উঠিতেছে । 

স্বরাস্ত শবশেষে “কার যোগ করিবার বিরুদ্ধে আপত্তি এই যে» 
ইহাতে অনেক সমর শব্দ প্ররুত-অর্থভ্রষ্ট হইয়া! পড়ে । যেমন “পড়ার 
ভাবে “পড় পড় যদি 'পড়ো। পড়ো বানান করা যায় তাহ! হইলে পড়িবার 
আদেশও বুঝাইতে পারে । তবে ক্রিয়াবাচক শব্দ ( ইত” 'ইব” 'ইল' 
প্রত্ারান্ত ) ব্যতীত অন্যান্য স্বরাস্ত শব্ষে একটি উল্ট। কমা-চিহ্বের 
বাবহার কর! যাইতে পারে । যেমন, 'পাগলাম” ? “কাল, ; (যম ও সময় 
বাচক শব্ধ হইতে পৃথক )। ক্রিয়াপদের শব্দসংখ্যা অত্যন্ত অধিক 
এবং শবগুলিও স্থপরিচিত বলিয়৷ তাহাতে আর চিহ্ন প্রয়োগের কোন 
প্রয়োজন নাই | ॥ 

চলিত ভাষার ক্রিয়াপদ-উপরে যে নিয়মের কথা বলিলাম 
তাহা লেখ্য বা! সাধুভাষার ক্রিয়াপ্দ সম্বন্ধেই বলিয়াছি। বাংলার আদর্শ 
কথ্য ভাষার ক্রিয়াঁপদের বানানেও বড় গোলযোগ দেখিতে পাওয়া যায় । 
এমন কি একই লেখককে বিভিন্ন প্রকার বানান পধ্যস্ত ব্যবহার করিতে 


তদ্ভব শব ৩৫ 


দেখা যায়। যেমন, 'কর্বে'। “কোর্বে', “কর্বেে। “কোর্কে' 3 কর্ছে, 
“কোরুছে” “কঙ্ছে+, “কর্চে, “কোচ্ছে' ইত্যাদি যাহার যখন যাহা ইচ্ছ? 
তাহাই বানান করিয়া থাকেন। 

এই শব্গগুলির বিশেষত্ব এই যে ইহার! কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হয় 
বলিয়া উচ্চারণান্ুষায়ী গঠিত । বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চারণের 
পার্থক্য হেতুই ইহাদের বানানেও ব্যভিচারিতা লক্ষিত হয়। তবে 


ইহাদের সাধু-উচ্চারণানুষায়ী বানানই গ্রাহা। 

পূর্ধ্বেই বলিয়াছি ভাগীরথী-তীরের কথ্য ভাষায় সাধারণতঃ শবে 
আগ্ঘম্বর ধ্বনিত করিয়া উচ্চারিত হয়। ক্রিয়াপদেরও ইহাই ধ্বনি-নির়ম 
(20০6101 ৪96০121) | যেমন, হচ্চে হল? ॥ এই উচ্চারণান্ুযায়ী 
বানান যদ্দি স্থির করা যায় তাহা হইলে আছ্যবর্ণ ধ্বনিত হওয়ার জন্য 
তাহাতে যে "ও'কার যোগ কর। হয়। যেমন, “কোর্বে”, তাহাই শুদ্ধ 
বলিতে হয়। কিন্তু অকারান্ত আগ্যন্বর ক্রিয়াপদ বাতীতও ধ্বনিত হয়, 
অথচ তাহা “ওকার যোগ করিয়। লিখিবার রীতি নাই। অতএব 
এখানেও *ও'কার যোগ কর বিধেয় নহে, তাহা হইলে আছ্যস্বর-ধ্বনিত 
অন্ঠান্য শব্ষের মহিত' ইহাদের উচ্চারণে পার্থক্য সচিত হয়, কিন্তু 
প্রকৃতপক্ষে 'মন' ও “কোর্বে'র আছ্যবর্ণের উচ্চারণে কোন প্রভেদ নাই, 
অতএব তাহাদের স্বতন্ত্র বানান করা সমীচীন নহে; এই ভাবে “কোর্বে” 
ও-কার-মুক্ত হইয়া! “করৃবে' হওয়াই বাঞ্ছনীয় । পূর্বববত্তী স্বর ধ্বনিত 
করিবার জন্য শব্দের যে-স্থলে পরবর্তী শ্বর-ধ্বনি লুপ্ত হয় সেখানে একটি 
উদ্টা কমা-চিহ্ন ব্যবহার করা যাইতে পারে ; যেমন 'ক'রবে' (করিবে), 
হ'ল (হইল), “পেল? (পাইল )। ইহাতে শব্দের বু[ৎপত্তিজ্ঞানেরও 


সুবিধা হ্‌য়। 


ভবিষৎ 
চচ্] 


»ক ও উচ্চারণ 


রা 


ধাতৃরূপ 1নদেশ করা গেল £ 


কৃ ধাতু 
প্রথম পুরুষ মধ্যম পুরুম 
করে ক্র 
করুছে করছ 
করেছে করেছ 
ক'রল করলে 
করত ক'রতে 
ক'রছিল করছিলে 
ক*র্‌বে কবে 
করুক ক্র 
ক'রবে করে! 
দি ঘাতু 

দ্য দাও 

দিচ্ছে এদচচ্ 

দিয়েছে £দ্য্ছে 

দিল “দলে 

দিত দিতে 

দিচ্ছিল দিচ্ছিলে 

দিবে দিবে 

দিক দ[ও 


দিবে দিও 


ডত্তম পুরুষ 

করি 
ক'রছি 

ক'রোঁছ 
করলাম 
করভাম 
ক'রছিলাম 
ক'রব 
করি 


দি', দিই 


দিচ্ছি 


দিয়েছি 
দিলাম 
দিতাম 
দিচ্ছিলাম 
দিব 

দি”, দিই 


তচ্ুব শব ৩৭ 


অসমাপিক। ক্রিয়া-_সাধুভাষার প্রত্যেক হইয়া"-প্রত্যয়ান্ত 
অসমাপিক। ক্রিয়াপদে 'ই"র পর “আ" থাকে 3 যেমন, “করিয়া” “যাইয়া 
“বলিয়া'_প্রকৃত পক্ষে করিআ” “বাইমা” “বলিআঃ। চলিত ভাষার 
উচ্চারণে এই দই" এবং “আ।' উভয়ে মিলির়। “এ হয় এবং "এ, পুর্বববর্ণে 
যুক্ত হর, যেমন “করে' (করিয়া), “কেলে' (ফেলিয়া ), “ডেকে? 
(ডাকিয়া )। এই সমন্ত শব্ষের বানানকে সমোচ্চাধ্য অন্যান্য শব্ধ হইতে 
পুথক্‌ করিবার জন্য লুপ্ত ঘা" (প্রুত “আ' ) স্থলে একটি উন্টা কমা 
চিহ্ন ব্যবহার করা কর্তব্য । যেমন, “করে” ( সমাপিকা ক্রিয়া “করে? ও 
হস্ত অর্থে 'কর' শব্দের ৭মী হইতে পৃথক), “বলে” (সমাপিকা ক্রিয়া 
“লে ও শক্তি অর্থে 'বল' শব্দের «মী হইতে পৃথক) । অনেকে 
উচ্চারণান্ুঘায়ী আছ্যত্বরে *ও'কার ঘোগ করিরা থাকেন, কিন্তু তাহার 
বিরুদ্ধে পূর্বে যাহা বলিয়াছি তাহ। এই স্থলে প্রযোজা | 


“বুঝা” (বুঝিতে পারা), শুন? (শুনিতে পাওয়া) ইত্যাদির 
বানান “বোঝা' “শোনা” হওয়া উচিত। কারণ, ধ্বনিতত্বের সাধারণ 
নিয়মান্তসারে “মা"কারের পূর্বববস্তাী 'উ'কার কারে পরিণত হইয়। 
থাকে । যেমন “ছোর।' (কিন্তু ছুরি “ডোবা” (কিন্তু 'ডুরি'), 
“কোশাকুশি' ইত্যাদি । (পরে স্বর-সঙ্গতি ডরষ্টব্য )। 


বাংল। প্রত্যয়--বাংলার নিজম্ব কতকগুলি প্রত্যয় আছে যাহাতে 
অনাবশ্তক দীর্ঘস্বর, মৃদ্ধন্য “৭' ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। ইহাদেরও 
সর্বতোভাবে বাংলা উচ্চারণান্থুঘায়ী হৃস্ব স্বর, বায় 'জ' ও দন্ত “ন 
দিয়া& বানান হওয়। উচিত। যেমন, পপনা' (গিন্লীপনা ), 'আনি' 
“উনি' (ঠেঙ্গানি। জলুনি )। “তি” (নাতি ), “টি ( একটি ), গড়ি? 
( জুয়াড়ি), 'কি' (ছে?টকি)।, “&” ( ইংরেজি, ফরাসি, পারসি, আরবি ), 


৩৮ শক ও উচ্চারণ 

“আমি (পাগলামি ), “আরি' (ডুবারি), 'আনি' (নাঁকানি চুবানি ) 
ত্যাদি। স্ত্রী-বাচক প্রত্যয়গুলি সংস্কৃতের অনুযায়ী দীর্ঘ ঈ যুক্ত 

হওয়াই উচিত। যেমন, 'ডুম্নী, “বুড়ীঃ। 


দেশজ শব 


আধ্য ভাষা বিস্তৃত হইবার পূর্বে বঙ্গদেশে যে ভাষা প্রচলিত ছিল 
তাহার কতকগুলি শব্ব আধুনিক কাল পধান্থ বাংলায় ব্যবহৃত হইয়। 
আসিতেছে । ইহাদিগকে মূলতঃ দ্রাবিড়, তিব্বত-চৈনিক কিম্বা বাংল।- 
'দেশের অন্ত কোন আদিম অধিবাসীর ভা) হইভে উচ্চারণে বিরুত কিন্বা 
অবিরুত অবস্থায় পাওয়! যায় । এই জাতীয় শব্দকেই দেশজ শব্দ বল! 
হয়। যেমন, 'ভাড়িত ডোম”, ডালা? কিল] “ডাঙ্গ।' 'ডিঙ্গি', “কান্ন।' 
ইত্যাদি । এই সমস্ত শব্দের সংস্কৃত হইচ্তে উদ্ভবের কোন সন্ধন পাওয়। 
যায় না বলিমাই ইহার্িগের সম্বন্ধে এই প্রকার অনুমান করা হইয়! 
খাকে। সংস্করতের সঙ্গে ইহাদের কোন সম্পর্ক নাই বলিয়া ইহাদের 
বানান গঠনে বুখ্পত্তির নিদ্দেশ মানিবার উপায় নাঈ। 

এই দেশে আধ্যভাষা বিস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে এই জাতীয় শব্দও 
দ্রুত সংস্কৃতির মত বাহা আকৃতি লাভ করিতে আরস্ত করিল । সেইজন্য 
অগ্যাঁবধি অবিকৃত দেশজ শব্দের সংখ্যা বাংল। ভাষায় খুব অধিক নহে । 
কতকগুলি নিত্য ব্যবহাধ্য গৃহস্থালি দ্রব্যের নামবাচক এই জাতীয় শব্দ 
এখনও অবিরুত অবস্থায় পাওয়া যায়, বেমন, “ঘর” (সংস্কৃত "গৃহ'র 
সহিত কোন সম্পর্ক নাই ) বাংল “ঘের্‌ ধাতু;__ঘেরা, বেষ্টন করা হইতে 
জাত ), “ঘাট”, “কোল”, “কোয়া” খড়” খিদি খৈল? থিডম”। খন্না। 
«খাড়া”, থাবা”, “খিলি', “খোড়ল” ণটিপ'ঃ ট্রি “টোপর" ইত্যাদি । 
বাংলার কতকগুলি প্রাচীন গ্রামের নামের দধো ও এই প্রকার কতক খবর 
সন্ধান পাওয়! যায় ; যেমন, উখ.রা” 'ইপোবা”। অগ্ডাল” আসানসোল 
“ছাতন।” 'নান্র", “কেন্দুলি', “কাজোরা” “দ!মড।, “শিউড়ি' “না ইখিযা”, 


৪০ শব্দ ও উচ্চারণ 


“কাটোয়।”, “কালন।”, 'কীথী” “হুগলী, হাওড়া, ঢাকা" ইত্যাদি । 
বাংলার কতকগুলি লৌকিক দেবদেবীর নামেও ছুই একটি এইপ্রকার 
শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়; যেমন, “মনস।" (দ্রাবিড় দেবী “মঞ্চা? ), 
গারসী', “ঘাটু' ইত্যাদি । কিন্তু এই সমস্ত খাটি দেশজ শবও সংস্কতের 
প্রভাবে পড়িয়া নৃতন কলেবর লাভ করিতেছ। যেমন, “গাল” হইতে 
গল্প” ব| 'গণ্ড”, “মোনাপাড়া হইতে “মোহনপলী', “মধ হইতে দেবী 
“মনন | 

এই জাতীর দেশজ শব্বগুলিকে সংস্কৃতির মধ্যাদ1? দিবার বাতিক 
বর্তমানকালে অনেকটা হ্বাস পাইয়াছে । প্রকৃতপক্ষে এই জাতীয় সমস্ত 
শব্দকেই সংস্কৃতির পোযাক পরাইয়া গ্রহণ করা ধেমন সম্ভবও নহে 
তেমনি অনাবশ্তক । অতএব ইহাদের জন্তও একটি নির্দিষ্ট বানানের 
রাতি অবলম্বন করিয়া ল ওয়াই কর্তব্য । £ | 

এই সমস্ত শব সাধারণতঃ উচ্চাঁরণানুযায়ীই গঠিত হয়। যে শব্দগুলি 
বাংলার যে অঞ্চলে উদ্দত এবং অধিক বাবহৃত সেইগুলি সেই অঞ্চলেরই 
উচ্চারণ-বৈশিষ্ট্য লাভ করিয়। থাকে ।॥ সেইজন্য যে সমস্ত শব্ধ চন্দ্রবিন্দু 
এবং ণ্ড" যুক্ধ তাহারা রাঢদেশে এবং চন্দ্রবিন্ু ও “ড়” বজ্জিত 'রযুক্ত 
শব্দগুলি সাধারণত: পূর্ববঙ্গেই উডভৃত ও অধিক ব্যবহৃত হয়। বাংলা 
উচ্চারণ ও ব্যবহারান্তধায়ী এই সমস্ত শবে প্রয়োজনীয় স্থলে সর্বত্রই হুম্ব 
স্বর (€ই”, 'উ'কার), বায় “ড”) দন্ত্য “ন” (ণত্বের বিধি-অনুযায়ী যেখানে 
মুদ্দন্য হইবে সেখানে মৃদ্ধিন্য ৭") ও দত্ত্য 'স' (যত্ব স্থলে মূদ্দন্য “ষ? 
ব্যবহার করাই কর্তব্য। অতএব “শিউড়ি', “ছগলি" বানান হওয়াই 
উচিত । | 

দেশজ শবের বানানে ব্যাপক “ড়'র ব্যবহার দেখিতে পাওয়া যায়। 
পূর্বেই বলিয়াছি, এই.জাতীয় শব্দ সাধারণতঃ রাঢ দেশেই অধিক 


দেশজ শব ৪১ 


প্রচলিত, সেইজন্যই সাধু প্রয়োগ বলিম্না গ্রাহথ । যেমন, “চিংড়ি', 
টচাড়ি' ছাড়া? "ছড়ি ছোড়া” (কিন্তু "ছোরা চাকু অর্থে সংস্কৃত 
'ক্ষুরিকা" হইতে জাত বলিয়৷ “র' ) “জড়, “ঝাড়া, “বাড়ন” “বাক্ড়।' 
ইত্যাদি । 


ধনিজ শব 


বিবিধ প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণ করিয়া 'ভাষায় যে সমস্ত শব্দ 
পাঠিত হইয়া থাকে তাহাদিগকে ধ্বনিজ শব্দ (0920102001)9019) 
বল! যায়। যেমন? “ঢাক”, “ডাহুক', “বন্ঝন্‌ঠ “টেচান+ ইত্যাদি । 
প্রত্যেক ভাষাতেই এই জাতীয় শবসংখা! নিতান্ত নগণা নচে। 
প্রত্যেক জাতিরই বিশিষ্ট উচ্চারণান্ুধায়ী এই শ্রেণীর শব গঠিত হইয়া 
থাকে। সেইজন্য ইহাদিগকে দেশি শব বলা যায়। 

বিশেষ্য বিশেষণ ইত্যাদি সর্ববিধ পদেই এই সমস্ত শব্দ প্রচলিত 
আছে। যেমন, / 

বিশেব্য-_(বস্তবাচক) '1ক”, “ঢোল” “াঝ”, “কাড়া' নাকাড়।” 
“টিকার”, “ভে'পু”, “ফট্ফটি” ইত্যাদি | 

( গ্রাণিবাচক )কাক', 'ডাহুক", 'বুতুম', “খেকশিয়ালি', টিকটিকি”, 
“ঘুঘু', পবিঝি', থভোম্রা” ইত্যাদি | 

বিশেষণ -'লিকৃলিকে” 'চকৃচকে', “টকৃটকে", “চটুপটে”, “সাযাৎত 
স্যাতে', 'চিটুচিটে', ঝাপসা” চিটুক।', 'ফচকৌ, 'খেকি” ইত্যাদি | 

ক্রিয়া-বিশেষণ-“ঝন্ঝন্‌*, “ভনভন্*, 'শন্শন্‌”, "টাপুর টুপুর” 
'টুপ টাপ*, “ঠুক্‌ঠ, ঠিন্ঠ, টক্‌ত, ঝক শো। 

ক্রিয়া--“মট্কান”, “ভেঙ্গ চান”, '্যাৎলান+, *্টাটান+, "টংকরানি”, 
“ফরুফরানি+, “টিপান+, “ালান” “চেঁচান”, 'খেকান” “খোচান” | 

এই জাতীয় শব্দের বানান সাধারণতঃ উচ্চারপাহ্যায়ী হইয়া থাকে। 
অতএব ইহাদের অনাবশ্যক দীর্ঘস্বর, 'ণ”, “য” 'শ+, "য* ইত্যাদি বজ্জনীয়। 


ধ্বনিজ শব্দ ৪৩ 


বাংলায় হস্‌-চিহ্ন ব্যবহারের নিয়ম ন| থাকিলে 9 এই জাতীয় শবে সর্ববদ| 
হস্‌-চিহন ব্যবহার করা কর্তব্য। তন্তব শবে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহারের থে 
বিধি পূর্বে নির্দিষ্ট হইয়াছে ইহাতে ৪ চন্দ্রবিন্দু ব্যবহারের সেই রীতিই 
অবলম্বন কর| বাইতে পারে । 


বিদেশি শব্দ 


বাংলায় ব্যবহৃত যে সমস্ত শব্ধ ভারতের বাহিরের কোন ভাষা 
হইতে আসিয়াছে তাহাদিগকে বিদেশি শব্দ বল! যায়। আরবি, 
পাঁংসি, তুকি, পোর্ত,গীজ, ইংরেজি, ফরাসি ও চীনদেশীয় ছুই একটি শব 
এই শ্রেণীর অস্তর্গত। ূ 

খিষট চতুর্দশ শতাববীতে লিখিত চণ্তীদাসের শ্রকৃষ্ণকীর্ভন নামক 
পুঁথিতে সর্বপ্রথম আরবি ও পারসি কয়েকটি শব্দের ব্যবহার পাওয়! 
বায়। ইহাই বঙ্গভাষায় বিদেশি শব্দ ব্যবহারের সর্বপ্রথম নিদর্শন । 
ঘেমন, “বাকী+, খস্ধ+, “কামাণ, “মজুরিঅর্ট । এই সমন্ত শব্ধের বানান 
তৎকালে প্রচলিত বাংল! বানানের রীতি অনুযায়ীই লিখিত হ্ইয়াছে। 

খিষ্ট দ্বাদশ শতাব্দীতে মুসলমানগণ কতৃক বঙ্গবিজয়ের পর হইতেই 
তাহার। বাংলার সামাজিক জীবনের উপরও নান। দিক দিয়া প্রভাব 
বিস্তার করিতে আরম্ভ করেন; কিন্ত তাহার প্রায় দুইশত বৎসর পরে 
লিখিত পূর্বোপ্লিখিত শ্রকৃষ্ণকীর্তন নামক বিরাট প,থিতে মাত্র চারিটি, 
আরবি ওপারসি শব্দের ব্যবহার দেখিয়া মনে হয়, প্রথম অবস্থায় 
বাংল। ভাষায় মুনলমান-প্রভাব অত্যন্ত ক্রুত বিস্তৃত হইতে পারে নাই। 
কিন্ধ তৎপরবস্তী কাল হইতে আরম্ভ করিয়া খি,ষট ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যেই 
হুসেন সাহ, প্রমুখ কয়েকজন বঙ্গদেশের বিগ্তোৎ্সাহী পাঠান ,নবাবের 
আন্থকুল্যে বঙ্গ ভাষার ব্যাপক চর্চা যেমন আরম্ত হইল তেমনি মুসলমান 
নবাব কক পরিপুষ্ট বাংল৷ ভাষায় আরবি ও পারনি শব্দের ব্যবহারও 
বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। সেই সময় হইতেই এই প্রকার কতকগুলি শব্ধ 
বাংলায় আসিয়। প্রবেশ করিল । যেমন, (আরবি ও পারসি ) “আবাদ”, 


বিদেশি শব্দ ৪৫ 


“আবীর+, “কম”, “কলম+, কাগজ' » “কেরদাঁনি”, “কিনারাগ “কোমর+, 
খুশী”, চিশ মা” "চাকর+, চালাক”, «জামা+, “জায়গা, "জনী” 
“তখতপোশ” “তৈয়ার” €তোশক৮ (তোষক নহে, কারণ, সংস্কৃত “তুম, 
ধাতুর সহিত কোন সম্পর্ক নাই ), "দরকার দরখাস্ত” “্দরদি” "দলীল, 
দাগ” “দেরী”, পরদাঠ 'পল্তে”, “পোশাক? (“পোষাক নহে, কারণ, 

২স্কত পোষ+ ধাতুর সহিত কোন সম্পর্ক নাই ), “বাতাস”, “বিলাত*। 
“ময়দা”, “মাল”, রওনা” “লাল” “শহর” 'সাদ।”, সেন্তি” “হিন্দু” হাওয়া” 
উত্যাদি। (তুর্কি) চাকু” কৃ” তোপ”, বন্দুক “বারুদ”, 
'আলোয়ান ইত্যাদি । 

১৪৯৮ খি রানে পোর্ত,গীজ নাবিক কর্তৃক ইউরোপ হইতে ভার্ন 
জলপথ আবিষ্কৃত হইবার অত্যল্পকালমধযই পোর্ডগীজ বণিকেরা 
বাঁণিজোর উদ্দে্টে এই দেশে আসিয়া! উপস্থিত হইতে আরম্ভ করেন । 
খি.ষ্ট যোড়শ শতাব্দীর প্রারভ্তেই বাংলা দেশের ঢাকা (ফিরিঙ্গি বাজার) 
ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে পোর্ত,গীজদিগের বাণিজ্য-কুঠি স্থাপিত হয়। 

ইউরোপের জীবনযাপনপ্রণালী বাংলা হইতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, সেইজন্য 
আগন্তকদিগের নিত্য ব্যবহাধ্য আসবাবপত্রের ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় 
দ্রব্যাদদির বাংল! ভাষায় আর কোন প্রতিশব্ধ ছিল না। সেইজন্য এই 
প্রকার কতকগুলি শব্দ বিদেশীয় আকৃতিতেই বাংলায় সর্বপ্রথম প্রাবেশ- 
লাভ করিল । যেমন, “গিজ্জা” 'পাদ্‌রি', “জানালা, “বারান্দা” “কেদারা” 
“বালতি”, বোমা» “পিস্তল”, ইত্যাদি । 

পোত্ত গীজদিগের পথান্রসূরণ করিয়। ইউরোপীয় অন্তান্ জাতিও ক্রমে 
ক্রমে ভারতের উপকূলে আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং বিভিন্ন প্রাদেশে 
কুঠি নিশ্মাণ করিয়া! দেশের অভ্যন্তরে বাঁণিজা বিস্তার করিতে লাগিলেন । 
১৬২৫ থিস্টাব্ে বাংলা দেশের চুড়ায় ওলন্দাজদিগের কুঠি নিশ্মিত হয়? 


৪8৬ শব ও উচ্চারণ 


শিস এরি সপ শাস্টিপাস্টি সিসি আনিস আবী রি উল পিল সি উপ সি সিট উকি সি উর টি সি সিসি অপির পে সিসি - সি সি সপ হি সি সদ ০ সি সক ০ এন ৬৬ পা উর উরি 


১৬৫১  শিষ্টাবে ইংরাজেরা আসিয়া হুগ্লিতে এবং সর্বশেষে ১৬৭৬ 
খিষ্টান্দে ফরাসিরা আসিয়া চন্দননগরে বাঁণিজ্য-কুঠি স্থাপন করেন। 
কিছুকাল পরে ওলন্দাজগণ ইংরেজদিগের নিকট তাহাদের বাণিজা- 
কুঠিগুলি বিক্রয় করিয়া! ভারতের উপকূল ত্যাগ করিয়া চলিয়া গেলেন । 
ফরাসিরাও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্িতায় ইংরেজদিগের নিকট পরাজিত 
হইলেন; অতঃপর ১৭৫৭ থিষ্টান্ে পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভ করিয়া 
ইংরেজেরাই বাংলার সর্বময় কর্তা হইয়া বসিলেন। 

ওলন্দাজ্গণ এদেশে অতি অল্পকাল স্থায়ী হইয়াছিলেন বলিয়া বাংল। 
ভাষায় তাহাদের কোন নিজস্ব শব্দ প্রবেশ করিতে পারে নাই; 
ফরামিগণও অল্লকাল মধ্যে দেশের রাজনৈতিক ও অন্যান্য কর্তৃত্ব হইতে 
বঞ্চিত হইয়াছিলেন বলিয়া তাহাদের কয়েকটি শব্দমাত্র বাংলায় প্রবেশ 
করিতে পারিয়াছ্ে । কিন্ধু সেই সময় হইতে আরম্ভ করিয়া বর্তমানকাল 
পধান্ত বাঙ্গালীর বিভিন্নমুখী জীবনের মধ্যে ইংরেজির প্রভাব বহুদিক 
দিয়াই বিস্তৃত হইয়ঃ পড়িয়াছে । এইভাবেই বনু ইংরেজি শব্দ বাংলা 
ভাষায় আসিয়া এখনও নিত্য স্থান লাভ করিতেছে । বাংলার বিশিষ্ট 
উচ্চারণদ্বার। এই জাতীয় শব্ধ সমস্তই প্রায় অল্লবিস্তর মাঞ্জিত হইয়াছে; 
যেমন, “আরদালি”, ইস্কুল”, “কাপ্তেন”, “ডাক্তার”, "শাস্ত্রী? “কেম্বিস” 
“গারদ” (29210), “তেরজুরি” (0152515), সিলেট”, “টেবিল” “মেম+ 
“বাগ্ডিল 'কানেম্তার” (৫8085661) ইত্যাদি । 

এই জীতীয় শবের বানানে কোন নিদ্দি্ই নিয়ম অবলম্বন করা হয় 
ন। ইহ। সাধারণত: ইহাদের নিজদ্ব-উচ্চারণান্থ্যায়ীই গঠিত হইয়। 
থাকে, কিন্তু বাঙ্গালি জনসাধারণ আরধি-পারসি ও ইংরেজি-ফরাসি 
উচ্চারণের মুল প্রক্কতিতে অনভিজ্ঞ বলিয়া সকল ক্ষেত্রে তাহার। এঁ সকল 
বিদেশি শবের নিভু উচ্চারণেও সমর্থ হয় না। এতঘ্যতীত এই 


বিদেশি শব্ধ ৪৭ 


সস শসা পপ হল 


সমন্ত বিদেশি ভাষার শব যবাযথ লিখিয়। প্রকাশ করিবার জন্য বাংলায় 
অনুরূপ অনেক' বর্ণেরও অভাব । সেইজন্ত বিশেষ কোন প্রচলিত 
নিয়মের অভাবে ইহাদের বানান চরম ম্বেচ্ছাচারিতার ক্ষেত্র হইয়া! 
উঠিয়াছে। এই বিষয়ে নিদ্দি্ই কোন নিয়ম গঠন সম্ভবকি না! তাহাই 
এই অংশে আলোচনা করা যাইবে। 


৮০ পসরা পাশ সা রাস পাস্তা 





আরবি-পারসি 


পারমসি ভাবার মধ্য দিয়া পারসি উচ্চারণানুষায়ী মাজ্জি 
হইয়া আরবি ও তুকি শব্দ বাংলায় আসিয়াছে । অতএব 
বাংলায় ব্যবহৃত পারসি শব্দ সম্বন্ধে বদি কোন নিয়ম অবলম্বন 
করা যায় তাহা হইলে তাহ! আরবি ও তুকি শব্দের উপরও . 
প্রয়োগ করা যাইবে | 

পাঁরসি বর্ণমালায় মোট বত্রিশটি অক্ষর; বত্রিশটিকেই 
ব্যঞ্জন বর্ণ বলিয়। ধরা হয়ঃ পাঁরসি বাঁমালায় স্বরবর্ণ নাই । 
“জাবর (” ) “জের্? (০) পেশ) (০) নামক তিনটি 
চিহৃদ্বারা যথাক্রমে এআ” ই? ও উর স্বর উচ্চারণ স্চিত 
হয়। তবে এই বর্ণমালার অন্তভূরক্ত তিনটি প্রায় স্বরধবনি 
সূচক বর্ণও আছে,_যথা! “আলিফ (1) য়ে (55) ওয়াও? 
(১); ইহারা সংস্কৃত বর্ণমালার অন্তঃস্থ বর্ণের অনুরূপ 
উচ্চারিত হয়। পুবেবাক্ত তিনটি স্বর-চিহ, যুক্ত হইলে ইহার! 
দীর্ঘ স্বরোচ্চারণ নির্দেশ করে, এতদ্যতীত পারস্থিতে দীর্ঘন্বর 
সূচক আর কোন বর্ণ নাই। 


ংলার ব্যঞ্জনাস্তর্গত মহাপ্রাণ বর্ণগুলির পারসিতে স্পর্শ- 
উচ্চারণ (9019) হয় না। অর্থাৎ বাংলায় “খ+ প্ঘ” ছি” ঝ+ 
"ঠ+ ণ্চ/.“ফা “ভ” ইত্যাদি যেমন উচ্চারিত হয়, পারসিতে 
তেমন হয় না । এই বর্ণগুলির বাংল। উচ্চারণে জিহবা তালু 


আরবি-পারসি ৪৯ 


স্পর্শ করে কিন্তু পারসিতে তালু স্পর্শ না করিয়াই উচ্চারিত 
হয়। 

বাংলায় দস্ত্য নও মুদ্ধন্য “ণ' আছে কিন্তু পারসিতে 
একটি “ন' এবং তাহ] দস্ত্য উচ্চারণ-সচক । 

বাংলা বর্ণমালায় তিনটি উদ্মবর্ণ ( শ, ষ, স) গৃহীত 
হইয়াছে কিন্তু পারসিতে মূর্ধন্য “ষ' র উচ্চারণ নাই-_কেবল 
দস্ত্য ও ঘালব্য 'শ"রই উচ্চারণ আছে । 

পাঁরসিতে ইংরেজি ৫এর অনুরূপ উচ্চারণ-স্চক ব্যঞ্জন বর্ণ 
আছে, কিন্তু বাংলায় নাই। 

উপরেধ আলোচনা হইতে দেখা যাইবে যে, পারসি বর্ণ 
মালার উচ্চারণের মর্যাদা রক্ষা করিয়া! বাংলায় বানান গঠন 
কর। সম্ভব নহে, কারণ পারসি ও বাংল। বর্ণমালা এক নহে। 
এ/যাঁবৎ পারি শব্দের বাংলায় যে বানানের রীতি প্রচলিত 
আছে তাহ! দ্বার যূল শের নির্ভল উচ্চারণ হয় ন1। 

পারসির যে.সমস্ত বর্ণ বাংল। বর্ণমালায় নাই আমর! 
.তাহাদেরও চেষ্টা করিলে উচ্চারণ করিতে পারি। এই 
অবস্থায় নৃতন বর্ণ স্থপ্টি করিয়া বাংলায় প্রচলিত পারসি 
শব্দগুলিতে যথাযথ উচ্চারণান্ুুযায়ী বানান করা কর্তব্য কিনা 
তাহ| বিবেচ্য । 

এই সম্বন্ধে হিন্দিতে যে রীতি গৃহীত হইয়াছে কেহ কেহ 
বাংলাতেও তাহ। গ্রহণের পক্ষপাতী । হিন্দিতে উপরি উক্ত 


৫৩ শক ও উচ্চারণ 


মহাপ্রাণ বর্ণগুলির নিয়ে একটি বিন্দু বা রেখাচিস্ক ব্যবহার 
করিয়া পারসি উচ্চারণ নির্দিষ্ট হইয়। থাকে । যেমন, 
“খিলাফ' (ভ্বুন্বা্র ) 'জমীন' (ভীমীল ) ইত্যাদি। 

হিন্দির রীতি বাংলায় অনুকরণ করিবার পরের একটি 
কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখিতে হইবে । পারসির সহিত 
হিন্দির যেই সম্পর্ক বাংলার সেই সম্পর্ক নহে । হিন্দি, উর্দদ 
দ্বার অতান্ত প্রভাবান্বিত। এই উর্দদ,ব মধ্য দিয়! যে পরিমাণ 
পারসি শব্দ হিন্দিতে প্রবেশ করিয়াছে এবং নিত্য করিতেছে, 
সংস্কৃত প্রভাবান্বিত বাংলাভাষায় তাহার শতাংশের একাংশও 
প্রবেশ করিতে পারে নাই। অতএধ হিন্দিভাষা পারসি 
শবের বানান সম্বন্ধে যে ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে বাধ্য 
হইয়াছে বাংলায় তাহ! গ্রহণ করিবার কোন কারণ নাই 1 
বাংল বর্ণমালা! একেই যে পরিমাণে জটিল, ইহার উপর 
আবার নৃন্তন বর্ণস্থষ্টি কদাচ সমীচীনও নহে । অতএব বাংলায় 
প্রচলিত বর্ণমাল। দিয়াই আরবি-পারসি শব্দেরও বানান গঠন 
করিতে হইবে ; ইস্াতে মূলশব্দের যথাযথ 'উচ্চারণ হইবেনা 
সত্য, কিন্তু যে সমস্ত বর্ণের উচ্চারণে আমর নিত্য অভ্যস্ত 
নহি নৃতন বর্ণ স্থষ্টি করিয়৷ তাহাদের উচ্চারণ নির্দেশ করিয়! 
দিলেই যে আমরা সেই বিদেশীয় বর্ণগুলির যথাযথ উচ্চারণ 
করিতে থাকিব ভাঁহাও সত্য নহে । কারণ, জাতীয় নিজস্ব 
উচ্চারণের প্রবৃত্তি কিছুতেই দূর হইতে পারেনা । যেমন, 
হিন্দিতে ব্যবহৃত পাঁরদি শব্ধ “কাগজ” সর্বদাই *কাগদ” 


আরবি-পারাস ৫১ 


পা শরিক ০ পলা নু | 
শাসন রা পারা তত পা মূ শক ্ঞজাক্ -» শি শা স্পট শা পলি আপা পিপি ক ০৬ শাসিত পা জজ 


(জানত ) উচ্চারিত হয়। এমন আরও অনেক দৃষ্টান্ত দেখান 
যাইতে পারে। 

বাংলায় সাধারণতঃ এই প্রকার নিয়ম অবলম্বন করিলেই 
আরবি পারসি শব্দগুলির যথাসম্ভব উচ্চারণের মর্যাদা রক্ষিত 
হইতে পারে । যেমন, 

(১) 'জের' (০) 'জাবর? ()ও “পশও (০) চিহ্িত 
বর্ণ বাংলায় যথাক্রমে “ই” “আ? ও “উ” স্বর যুক্ত হইবে। যেমন, 
“বিলি (53) “মুঘল” (০৯৬০ ) আকল' (০1৪০ )। 

(২), য়ে (৬) “ওয়াও, (১) “জের. "কিম্বা পেশ" যে 
কোন স্বর্চিহ্ন যুক্ত হইলে দীর্ঘ হইবে। যেমন বীমা, 
(৮৯) “কাজী? ( )৪ ) ঈদ? (০৯০) উিদ্‌? (4 )। 

(৩) “সাদ? (০০ ) গসিন। (৮৮) “সে? (৬) বর্ণগুলি 
বাংলার দস্ত্য স দিয়া লিখা হইবে, যেমন, আসল (০০০1) 
আস্মান (৬৮৬০) । 

এবং “শিন্য (৮০) তালব্য শ দিয়া লিখা হইবে। 
যেমন, খুশী? (০১১৯) তক্তপোশ (০১৭৮৯) তোশক 
(8 ) “পোশাক (৮0৯ ) শরবত? (৮৮৯)৯) । 

বাংলায় ব্যবহৃত পারসি শব্দে মুর্ধন্য “য" ব্যবহৃত হইবে 
না।» ইহাতে শব্দের বুযুৎপত্তিজ্ঞানের অত্যন্ত অসুবিধা হয়; 
কারণ, অনেক শব্দ এইভাবে সংস্কৃত বলিয়া ভ্রম হইতে পাঁরে। 

(8) "জিম (12284) জো (56082) জাদ্‌ 
(০১) জে € 7) জে (9) ইত্যাদি সমস্ত বর্ণই বাংল! 


৫২ শব ও উচ্চারণ 
ব্গায় জ দিয়া লিখ! হইবে । যেমন, 'জমী? (৬৮ ) “জবাব 
(৮5৯) 'জিহর' (১2) ছিজুর ()৯2৯ )। 

(৫) হ্ুন (৩৬) বর্ণটিকে সব্বদাই বাংলার দস্ত্য ন দিয়! 
বানান করিতে হইবে $ যেমন, “কোরান? (৬) ) "মুসলমান 
(৬4০৯ )। এই প্রকার শবে মৃদ্ধন্য ণ ব্যবহার করা উচিত 
নহে । 

(৬) “খে (€) ঘৈনত (£) ইত্যাদি বাংলার 
মহাপ্রাণ বর্ণীনুযায়ী “" "্ঘ* দ্বারা লিখা উচিত, যেমন, 
'তুঘলক্‌” (৯1৯৮) “মুঘল, (০৯০ ) খুশী” (০৪৯৯), “সে? 
(৬) কে কদাচ গছ" দিয়া বানান কর কর্তব্য নহে। 


এই দেশ হইতে পোর্ত,গীজ প্রাধান্য লুপ্ত হইবার সঙ্গে সঙ্গে ভাষায় 
পোর্ডভগীজ শব্ধ প্রবেশও বন্ধ হইয়া গিয়াছে। যে অল্প সংখ্যক শব্দ 
ইতিপূর্বেই প্রবেশ লাভ করিয়াছিল, তাহাঁও বাংলা উচ্চারণান্থযায়ী 
মাজ্জিত হইয়া নিজেদের বানানও সুনিদ্দিষ্ট করিয়া লইয়াছে। ফরাসি 
শব্দগুলি ইংরেজির ম্ধ্যদিয়াই আসিয়াছিল। অতএব, ইংরেজির নিয়মই 
ফরাসিরও নিয়ম । 


ইংরেজিতে পাচটি স্বর ও একুশটি ব্যঞ্জন বর্ণ আছে। এই স্বরবর্ণ 
গুলির উচ্চাপ্রণ সর্ধত্র এক নহে। এমনকি অনেকগুলি বাঞ্জনেরও 
উচ্চারণে স্থিরতা নাই ; যেমন, 
4--অ? আঃ এয, এ 
15--ই, এ+ এ্যা, আ 
[-"ই, আ 
()-_ও+ ও, আ, অ 
ঢ-*ই, অ।,উ 
৮০--ক,চ 
০--গ, জ 
11--হ, অ ইত্যাদি। 
(০1) ৮, ছ, ক, খ, 
আবার কোন কোন শব্ধে কতকগুলি বণ লিখিত হ্ইয়াও উচ্চারিত 
হয় না। যেমন, 077881/0 ( নাইটু ):5812005 (সাম্‌) ইহাতে 
একাধিক বর্ণ উচ্চারণতঃ অনাবশ্তক। 


৫৪ শব্দ ও উচ্চারণ 


ইংরেজির কতকগুলি বর্ণ বাংলায় নাই । যেমন, 2১ “চা এ?) 
€ | ইহাদের উচ্চারণকালে ওষ্ঠদ্বয় পরস্পর সংলগ্ন হয় না, কিম্বা জিহব। 
তালু স্পর্ণ করে ন|। ইংরেজিতে দীর্ঘস্বর নাই তবে শব্দমধ্যে 
দুইটা স্বর পর পর ব্যবহৃত হইয়! দীর্ঘ উচ্চারিত হয়; যেমন, 
৮০০] (উল ) 52] (সীল )। 

স্বর-ধ্বনি-_-প্রত্েক ইংরেজি স্বরবর্ণের স্বতন্ত্র ধ্বনি অনুযায়ীই 

ংলায় ইংরেজি শব্দের বানান হওয়া কর্তব্য | যেমন, “অ* ( “কল” ০411), 
“আ' (পার্ট 08৮) এ্যা? (ম্যালেরিয়া--219118) (কেস 
956) ৷ ইংরেজি শব্দে যেখানে যুগ্ম-ন্বর (10100076 ) বা পর পর 
একাধিক একই বা স্বতন্থ স্বর ব্যবহৃত হইয়াছে সেখানে বাংলায়ও 
দীর্ঘন্বর ব্যবহৃত হওয়া উচিত । যেমন, 'সীজার+ (09656: ) 'বীট?, 
(996) 'ঈগল+, (9216) পনউ জীল্যাণ্ড (৩ 21207 )। 
'অন্ত্র ইংরেজি শব্দের বানানে কদাচ দীর্ঘন্বর ব্যবহার্য নহে । 

ব্যগীন-_ ইংরেজি '? “ছা? এম" গত বাংলায় যথাক্রমে “ফা “ভা ওয়? 
“জ' বানান হওয়াই উচিত। কেহ কেহ একমাত্র % টির উচ্চারণ 
নিষ্ঠা রক্ষা করিতে গিয়া হিন্দির অনুরূপ 'জ'র নীচে একটি বিন্দু বা 
রেখাচিহ্ন যোগ করিয়া লইতে চাহেন। কিন্তু অন্তান্ত বর্ণ গুলিকে ত্যাগ 
করিয়া একমাত্র « এর জন্য বাংলায় নৃতন বর্ণ কষ্টি করিয়া লইলে সহসা 
এই মনে হইতে পারে যে, একমাত্র £ই বুঝি বাংলা বানানে লিখ! 
অন্থবিধাজনক ছিল। অতএব, নিয়ম করিতে হইলে সমস্তগুলি বের 
জন্তই নিয়ম করিতে হয়। হিন্দিও তাহাই করিয়াছে কিন্তু বাংলায় 
তাহা যেমন অস্থবিধাজনক তেমনি অনাবশ্টাক | এই বিষয়ে পূর্ব্রেই 
আলোচন| করিয়াছি । অতএব একমাত্র £ টিকেই শ্বতন্ত্র মর্ধযাদা দিবার 
কোন কারণ নাই । 


ইউরোপীয় ৫৫ 


ইংরেজি 910 উচ্চারণের জন্য শি” ও *"র জন্ত দন্ত্য স ব্যবহার 
করিলেই চলিতে পারে । 


বাংলা ব্যাকরণের নিয়মে যুক্তাক্ষরেব নধ্যে একটি মুর্ধন্য বর্ণ হইলেও 
অপরটি মৃদ্ধন্য বর্ণ হয়। যেমন, “কষ্ট” 'চুষ্?, ইষ্ট” | ইংরেজি শবের 
বাংল। বানানেও এই নিয়মই গ্রহণ করা উচিত । কারণ, ইহাই উচ্চারণ 
বিজ্ঞান-সম্মত | পূর্বে এই বিষয়ে আলোচন। করিয়াছি। 

খ| ফল1, র ফলা_-বিদেশি শব্দের দ-কলা দিয়! বানান ন। করাই 
কর্তব্য । কারণ, যদিও সংস্কৃত শবের বানানের জন্য £ঝ+ কে আমাদের 
স্বর বর্ণ মধ্যে রক্ষা করিতে হইতেছে তথাপি মাখাদের নিজস্ব উচ্চারণে 
আমরা কদাচ ঞে” র উচ্চারণ করিন|। “এর স্থলে অন্তঃস্থ বর্ণ রই 
উচ্চারণ কর্ধি। অতএব বিদেশি শন্দের বেলায় আর * ফলার 
নিরর্থক বিড়ম্বনা কেন 2 তৎপরিবর্তে র-ফল। বাবহার করিলেই চলে। 
কারণ, বাংলা উচ্চারণতঃ ইহাই শুদ্ধ। অতএব “পে ষ্রান” 'খি্ট *খি ট্টাবদ 
লিখাই উচিত । 


অন্যান্য 


আরবি পারসি ও,ইউরোপীয় শব্দ বাতীত বাংলায় কয়েকটি চীন। 
. এবং ব্রদ্ধদেশীয় শব্ও প্রচলিত আছে । যেমন, “চিনি, "চা? থড্গু 

“সথরঙ্গ* “লুঙ্গি*- ইহাদের সংখা অত্যান্থ শীমাবদ্ধ এবং ইহাদের বানানও 
ইতিমধ্যে স্থির হইয়া গিয়াছে। 


ভারতীয় অন্যান্য প্রাদেশিক শব্দ 


ইহাদের প্ররুৃতপক্ষে বিদেশি শব্দ বল! যায় না । কারণ, দাক্ষিণাত্যের 
ড্াবিড ভাষা ব্যতীত উত্তর ভারতের সমগ্র ভাষাই বাংলার মত আধা 
ভাষা সম্ভৃত। দ্রাবিড় ভাষ! মূলতঃ বাংলার পক্ষে বিদ্রেশি হইলেও 
ইহা হইতে আগত শব্ষগুলি অত্যন্ত প্রাচীন; এমন কি অনেকগুলি, 
স্কতের মধ্য দিয়াই বাংলায়ও আসিয়াছে । যেমন, “মলয়, “মীন।, 
“কম্বল” । ইহাদের বানান এই জন্যই সমস্যামূলক নহে । 
কয়েক বৎসর যাবৎ রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, সামাজিক ও অন্যান্য 
কারণে বাংলার সহিত ভারতের অন্তার্ঠ প্রদেশের নাতোবিধ ভাবের 
আদান প্রদান আরম্ভ হইয়াছে । ইহাতে কতকগুলি হিন্দি, মারাঠি, 
গুজরাটি শব ইতিমধ্যেই বাংলায় আসিয়] প্রবেশ করিয়াছে । যেমন, 
হরতাল”, “হরিজন”, "দাঙ্গ”, 'আটক+, “আড্ড।”, খেলোয়াড়”, “হল্লা”, 
“ভীড়”, “চিঠি, “ডাণ্ডা”, “গড় না”, 'ঝরনা+, 'উিন্দারা”, পছন্দ?, ঠিকানা”, 
ঠাট্টা, "হোলি, “করলা”, “ভাড়া”, “মিঠাই ওয়ালা। ইত্যাদি । ূ 
যেহেতু বাংল! ও ভারতীয় অন্তান্ত আধ্য-ভায়ীভাষীদিগের বর্ণম!ল৷ 
স্বতন্ত্র নহে সেইজন্য প্রত্যেক প্রাদেশিক ভাষায় প্রচলিত বানানের 
অন্তরূপ বাংলায়ও এই জাতী শব্দের বানান গ্রহণ করা উচিত। অবশ্ঠ 
তাহা হইতেই প্রত্যেক শব্দের নিজন্ব প্রাদেশিক উচ্চারণ সম্ভব হইবে 
না; তথাপি বানানের একতা রক্ষিত হইবে । ইউরোপের ভাঁষামৃহ 
তাহাদের বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষা হইতে গৃহীত শব্ধাবলীর বানান 
সম্বন্ধেও এই নীতি অবলম্বন করিদ্বা থাকে । 


শবের উচ্চারণ-বিকৃতি 


বাংল! সাধুভাষার শবের প্রকৃতি ও তাহার উপর নির্ভর করিয়া বানান 
গঠনের উপায় সংক্ষেপে বিবৃত হইল । কিন্তু ইহ1 সত্য যে, চলিত 
ভাষাকে কোন নিদিষ্ট নিয়মের নিগড়ে আবদ্ধ করিয়া রাখ। যায় না। ইহার 
নিজন্ব গতি-পথে ইহ চলিতে বাধ্য । সেইজন্য প্রায় প্রত্যেক ভাষাতেই 
সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম সর্বদাই চোখে পড়ে! এই সমস্ত বাতিক্রমকে 
একটু উদার দৃষ্টিতে দেখিয়া ইহাদিগের মধ্যেও কোন নিয়মের সন্ধান 
করিতে হইবে । কারণ, ইহ] সর্ধবাদী সম্মত যে, ভাষা কোন না কোন 
নির্দিষ্ট প্রণালী অবলম্বন করিয়াই পরিবন্িত হইয়া থাকে । অতএব, 
আপাতদৃষ্টিতে যদি কোথাও নিয়মের ব্যতিক্রম বলিয়। মনে হয় একটু 
অনুসন্ধান করিলে ভাহাতেও সুন্দর শৃঙ্খল! দেখিতে পাওয়া যাইবে । 
এখন এই প্রকার কতকগুলি বাতিন্রমের মধো ভাষা তত্বান্থমোদিত কারণ 
নির্দেশ করিব। 


বুুৎপত্তির উপর নির্ভর করিয়া! গঠিত শব্দও উচ্চারণ-ক্ষেত্রে পরবর্তী 
কালে অল্পবিস্তর পরিবন্তিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে বানানও পরিবন্তিত হইয়! 
থাকে । কিন্ত তাহারও কতকগুলি উচ্চারণগত নিয়ম আছে। 
ভাষাতত্ববিদ্গণকর্তৃক গৃহীত এই প্রকার কয়েকটি নিয়ম এখানে উল্লেখ 
করিব। 


(১) সমীকরণ-_(2,951073150702) উচ্চারণ সৌকর্যের নিিত্ত 
শব্ধমধাস্থ বিভিন্ন বর্ণ একই বর্ণে পরিবন্তিত হওয়ার নাম সমীকরণ ! 
যেমন, “এ্যদ্দিন ( এতদিন ) “গঞ্প” (গল্প ) “ক"ত্বাম্ ( করুতাম ) 

৫ 


৫৮ শব্দ ও উচ্চার্ণ 


শি 25 ি্াস্টপাসসিলাস্িঠাসি লী ছি লী পলা ৪০ ৫৭৮ লি পিল 


(২) বিষীকরণ_(707980051181909) চিত স্বরের পর. পর 
উচ্চারণজাত একঘেয়েমি দূর করিবার জন্য শব্মধাস্থ যে এক 
স্বরধ্বনির পরিবর্তে অন্য ম্বরধ্বনির আগম হয় তাহাকে বিষমীকরণ 
কহে। যেমন, “জানেলা” (জানালা ) “অজাগর” (অজগর ) 'নেউর” 


(৩) স্বর-ভুক্তি--(91967055915) শব্দমধ্যস্থ শ্বরোচ্চারণকে দীর্ঘ 
করিবার জন্য ই” ও “উ'র আগমকে স্বর-ভুক্তি কহে। যেমন, “আইসেঃ 
( আসে ) "হউন ( হ+ন ) 'গীইট” ( গীঁট ); ইহা পূর্ববঙ্গের উচ্চারণের 
একটি বৈশিষ্ট্য 


(৪) স্বরাগম--(চ১:0000519) যদি শব্দের আদিতে যুক্তাক্ষর থাকে 
তবে উচ্চারণের স্থবিধার জন্য উক্ত যুক্তাক্ষরের পূর্ব্বে যে কখনও কখনও 
“ই* বা “উ” স্বরের উত্পত্তি হয় তাহাকে স্বরাগম কহে; যেমন, “আসম্পর্ধা 
(স্পর্ধ। ) “আন্তাণ,(স্রাণ ) ইস্কুল” (স্কুল) 


(৫) বর্ণ- বিপধ্যয়__(3155058519) উচ্চারণে অসাবধানতা বশত: 
কোন শবের ছুইটি বর্ণ ঘদি পরম্পর স্থান পরিবর্তন করিয়া উচ্চারিত হয় 
তাহ! হইলে তাহাকে বর্ণবিপর্যায় কহে। যেমন, “ফাল” (লাফ ) "বাঙ্ক। 
€ বাক্স ) “বানারসী” (বারাণসী ) 


(৬) মহীকরণ-__-(8910/:8.001)) শব্দমধ্যস্থ কোন অল্পপ্রাণ বর্ণকে 
ধ্বনিত করিয়। মহাপ্রাণ ও শ্বরবর্ণকে 'হ,তে পরিণত করার নাম মহী- 
করণ। যেমন, “ভূত (পারসি, “বুত” ) 'ফরাসি' (পারসি )«শালিখ+ 
(সারিকা ) | 


(৭) অল্লীকরণ--(199-9917:209)-_-শব্দমধ্যস্থ মহাপ্রাণ বর্ণের 
পূর্ববর্তী স্বর ধ্বনিত হইলে উক্ত মহাপ্রাণ বর্ণ ষে অল্প প্রাণে 


শবের উচ্চারণ-বিকৃতি ৫৯ 


পরিণত হইয়। যায় তাহাকে অল্লীকরণ কহে। যেমন, 'পাতর” পোথব ) 
“দিচ্ছে ( দিচ্ছে ) 'আবাগী+ (অভাগী ) 

(৮) বর্ঁ-ছৈতি--(009101105 07 60080122065) শব্দমদ্াস্থ 
কোন কোন স্বর ধ্বনিত হইলে তদাশ্রিত ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়, তাহাকে বর্ণ- 
ছ্বৈতি বলে। যেমন, এএক্ষেবারে। (একেবারে ) “সকাল” (সকাল ) 
'ঠোক্কর? (ঠোকর ) 


(৯) বর্ণনাশ--(7801010£) একই বর্ণের পর পর উচ্চারণ 
হইলে তন্মধাস্থ একটি বর্ণ বে কখনও কখনও লুপ্ত হইরা যায় তাহাকে 
বর্ণনাশ কহে। যেমন, “কা? (কাকা) দ। (দাদ1) দি (দিদি) 

(১০) স্বরুলঙ্গতি _ (৬০! [19170209) শব্মধ্যস্থ কোন 
বর্ণের স্বর-্ধ্বনি দ্বারা অন্ত কোন বর্ণের কোন স্বতন্ত্র স্বরধ্বনি গ্রভাবান্বিত 
হওয়াকে স্বর-সঙ্গতি বলে । যেমন, “জেতে' ( জাতে ) “দুপুর? (ছু'পর ) 
দিব্যি, ( দিব্য ) “বিনি” (বিন! ) 

এই স্বর-নঙ্গতির বিশেষ কতকগুলি নিয়ম দেখিতে পাওয়া যায় 
যেমন; 

(ক) শব্বমধ্যস্থ অশ্তকারের পূর্ববর্তী “ইঃ বা "ঈ একারে পরিণত 
হয়। যেমন, 'ভেতর' (ভিতর ) 

খে) আকারের পূর্ববর্তী “উ” কার “ও কারে পরিণত ভ্য। 
যেমন, “ছোরা” (ছুরি হইতে ) “ঝোলা? (ঝুলি হইতে ) 

(গ) ই বা ছ্ঈ* র পূর্ববর্তী *ও কার “উ* কারে পরিণত হয়। 
যেমন, কুণি, (কোণ হইতে ) চালুনি (চাল.নি ) কুশী (ছোট কোশা) 


আস তাল 


বানানে আর্য প্রয়োগ 


বাংলা ভাষার প্রাচীন লেখকেরা তাহাদের সমসাময়িক রীতি 
অবলম্বন করিয়। শব্দের বানান করিয়া গিয়াছেন। বর্তমান কালে বানান 
সম্বন্ধে নৃতন নিয়ম করিয়! এই অনুযায়ী তাহাদের শব্বকেও সংস্কার করিয়া 
লইবার কোন প্রয়োজন নাই। ইংরেজি সাহিত্যে চসার, সেক্সপীর, 
মিলটন্‌ প্রভৃতির এমন অনেক বানান আছে যাহা আধুনিক ভাষায় 
অপ্রচলিত । ইংরেজি ভাষার ব্যাকরণে তাহা আর্য প্রয়োগ (৪101591 
10110) বলিয়া নিদ্দিষ্ট হইয়া থাকে, অতএব বাংলায়ও প্রাচীন লেখক- 
দিগের বানানের উপর যাহাতে হস্তক্ষেট করা না হয়, সেই বিষয়ে লক্ষ্য 
রাখা কর্তবা। তাহা আধ প্রয়োগ বলিয়া ব্যাকরণে স্থান পাওয়া 
উচিত । ইহাতে প্রাচীন বানানের একটি রীতি জানিতে পারা যায় 
বলিয়া ভাষাতত্বরিদগণের নিকট ইহার মূলা অপরিমীম। 


কথ্য ভাষার শব 


পূর্ববর্তী অধ্যায়সমূহে সাধু ভাষার প্রকৃতি নির্দেশ করা গেল। কিন্ত 
এই সাধুভাষ! যাহ! হইতে রূপ পরিগ্রহ করিয়া রসপুষ্ট হইতেছে তাহাই 
কথা ভাষা। চলিত ভাষার ক্ষেত্রে তাহার নিজস্ব কথ্য ভাষাগুলির 
স্থানও অপরিসীম।* প্রকৃতপক্ষে কথ্য ভাষাই জীবিত ভাষার প্রাণ 
স্বরূপ) যে ভাষার কথ্যভাষা বিলুপ্ত হইয়াছে তাহাকেই মৃত ভাষা 
বলা হয়, যেমন, সংস্কৃত, প্রাচীন গ্রীকৃ ও ল্যাটিন, হিক্র প্রভৃতি । 
কথ্যভাষার অস্তিত্ব দিয়াই ভাষার জীবন নিব্পিত হইয়া থাকে। 
অতএব কোন জষঈবিত ভাষার প্রকৃতি সম্যক উপলব্ধি করিতে হইলে 
ইহার কথ্যভাষাগুলির প্রকৃতি সম্বন্ষেও যথাসম্ভব জ্ঞান থাক] প্রয়োজন । 

বাংলা প্রায় পাচ কোটি লোকের কথ্যভাষা; এই হিসাবে 
ভারতবর্ষের মধ্যে ইহার স্থান প্রথম । আদম-গ্রমারির হিসাবে প্রাচ্য 
ও পাশ্চাত্য হিন্দি ছুইটি স্বতন্ত্র ভাষা বলিয়া লিখিত হয়ঃ এই জন্ত হিন্দির 
স্থান বাংলার নীচে । পৃথিবীর মধ্যে কথ্যভাষা হিসাবে বাংলার স্থান 
সপ্তম । চৈনিক, ইংরেজি, রুশীয়, জান্মানি, স্পেনীয় ও জাপানি ভ।ষার 
'পরেই ইহার স্থান । 

একমাত্র বঙ্গদেশের ভৌগোলিক সীম] মধ্যেই যে বাংল! ভাষা কথিত 
হয় তাহা,নহে ; আসাম প্রদেশেরও সমগ্র সুরমা উপত্যকা (শ্রীহট্ট ও 
কাছাড় জিল] ), ব্রদ্ষদেশের আকিয়াব অঞ্চল ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার 
পশ্চিমাঞ্চলে ( গোঁয়ালপাড়। ) বাংলা ভাষাই কথিত হয়। আসাম 


* 41)9 299] 87701086078] 176 01197085869 29 11) 19 0181606৪,৮--14 98 
84116. 


৬২ শব্দ ও উচ্চারণ 


প্রদেশের শতকর! ৪৩ জন বঙ্গভাষাভাষী; বিহার প্রদেশেরও পূর্বব 
সীমান্তের জিলাগুলিতেই প্রায় বঙ্গভাষাই কথ্যভাষা। এতত্বযতীত 
বৈষয়িক ব্যাপরে লিপ্ত বহু বঙ্গভাষাভাষী ভারতবর্ষের সর্বত্র বাঁস 
করিতেছে । 

এই বিস্তৃত লোকসমাজের কথ্যভাষার প্রকৃতি এক নহে; বিভিন্ন 
অঞ্চলে ও বিভিম্ন সমাজে ইহার প্রকৃতি স্বতন্ত্। ইহার সংক্ষিপ্ত 
আলোচনাই বর্তমান অধ্যায়ের উদ্দেশ্য । 

ভাষাতত্বামোদীর নিকট ব্যাকরণাহুগত সাধুভাষা (18001% 
12105885 ) অপেক্ষা লৌকিক কথ্যভাষাই অধিকতর মূল্যবান। এই 
জন্য পাশ্চাত্য দেশের প্রায় সর্বত্রই ভাষাতত্বান্ুরাগী বিদ্বজ্জনমগ্ুলী 
কতৃক তত্রদ্দেশীয় কথ্যভাষার ব্যাপক অর্গশীলন হইয়। থাকে । এই 
সম্পর্কে লগ্ডন নগরের 120211517 10185160 9০০৫০র কাধ্য বিশেষভাবে 
উল্লেখবোগ্য ৷ এই সমিতির উৎসাহী সদস্যেরা ইংলগ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের 
কথাভাষার আদর্শ সংগ্রহ করিয়! তাহা হইতে নানা জ্ঞাতব্য তথ্য 
আবিষ্কার করতঃ ভাষাতত্বের আলোচনার পথ স্থগম করিয়া দ্রিতেছেন। 
বঙ্গদেশেও এই বিষয়ে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ্দের রুতিত্বের কথা উল্লেখ 
করা যাইতে পারে, কিন্তু কার্যের ব্যাপকতার তুলনায় উক্ত পরিষদের 
কৃতিত্ব এখনও অতি নগণ্যই বলিতে হইবে । 

প্রকৃতপক্ষে বাংলার কথ্যভাষার উপযুক্ত আলোচনা এখন পর্যন্তও 
আরম্ভ হয় নাই। এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ ভাষাতত্ববিদ্‌ জি. এ. গ্রীয়ারসন্‌ 
প্রায় পচিশ বৎসর পূর্বে যে আক্ষেপ করিয়াছিলেন (১) তাহ? দূরীকরণের 


শক পাপা "পপ পপর পপ ক ৮ ও এর 





আশ শসা ০৮ পি আপ সপ সস | সপ 


(১) , 20109 ৪0039968০01 159 01819069 ০01 738118811 10899 11959: ১967 
৪৩016765 850160., 10 0906? 381755118 61068100981598+ 89 8 20019$ 10707 
116619 ৪১০০৮ &2 0191506 93961১6 08৮ 0৫ 61091 00 100126 800 608৮ 01 
081006৮2.--1077891510 59908 ০) 17016. 791, 7/. 1701 1. 





কথ্য ভাষার শব্ধ ৬৩ 


আজ পধ্যপ্ত কোনও প্রয়াম দেখা যায় না। লা কথ্যভাষা 
সম্বন্ধে সামান্ত যাহা কিছু আলোচন! হইয়াছে, তাহাও কয়েকজন 
বিদেশীয় ইংরেজ রাজকর্ক্মীই করিয়া গিয়াছেন। ইংরেজিতে লিখিত 
বীম্‌ ও হল হেড. সাহেবের বাংলা ব্যাকরণে ও পরবর্তী কালে পত্ডিত- 
প্রবর জি. এ. গ্রীয়ারসন, সাচ্কেব কর্তৃক সংকলিত 1[43065150 
১9565 01 170019. (০1. ছ.)তেই বাংলার কথ্যভাষা লইয় বযাকরণ- 
সম্মত উপায়ে কতক আলোচন। হইয়াছে । কিন্ত এই বিদেশীয় পণ্ডিত- 
গণ এই কার্যো নিজেদের যোগ্যতা সম্বন্ধে নিজেরাই কখনও নিংসন্দিগ্ধ 
হইতে পারেন নাই (২)। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে প্রকাশিত 
অধ্যাপক শ্রীযুক্ত শ্ুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের বঙ্গভাষার 
ইতিহাসেও ক্লেবল সাধুভাম। ও কলিকাতা অঞ্চলের কথাভাষাই 
আলোচিত হইয়াছে ; তাহাতে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের কথ্যভাষার 
সম্পূর্ণ আলোচনা হয় নাই । এই বিষয় বিস্তৃতভাবে স্বতন্ত্র আলোচনার 
যোগ্য । 

বাংলা-ভাষিত এই বিস্তৃত ভৌগোলিক সংস্থানের মধ্যে বিভিন্ন 
প্রকৃতির লোকের বাস। তাহাদের প্রত্যেকেরই সামাজিক আচার 
ব্যবহার ও কৌলিক উদ্ভব (৫৮01 07181) যেমন এক নহে, তেমনি 
কথ্য ভাষার রীতিও বিভিন্ন । এই বিষয়ে পূর্বেও একবার উল্লেখ 
করিয়াছি। পাঠকের কৌতুহল নিবৃত্তির জন্য বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের 
বিভিন্ন প্রকৃতির কথ্য ভাষার নমুন! উদ্ধত করিয়া! দেখাইতেছি । 


(২) :.১.০০০১১০০০০০০০00081)91)0)91 10089 00761617 968609 086028]]15 
0905: 10910 রি 901116 9 0] 89 ৮10:00861015 88 18 ০০] 108 0005 
95 8, 1080155 ০01 619 ০০০0৮:5+ ১০] 161) 689 78805 26060 ৮০ 09690 
&19 8118106896 077079710999 01 0:000000186100, -& 


৬৪ শব্দ ও উচ্চারণ 


সাধু ভাষ। 

কোন এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল। তন্মধ্যে কনিষ্টি তাহার 
পিতাকে কহিল, পিতঃ! বিষয়ের যে অংশ আঘার প্রাপ্য তাহ। 
আমাকে দিন । 


কলিকাতা (আদর্শ কথ্য ভাব। ) 


কোনো য়্যাক লোকের ছুটো ছেলে ছেল। তাদের মোদে ছোটটা 

তা”র বাপ.কে বোল্‌্লো। বাবা, আমার ভাগের বিষয় আমাকে দাও । 
মেদিনীপুর 

এক লোক্কার ছু*ট্টা পো থাইল। তান্ধেকার মাঝু কোচ্যা পে। 
নিজের বাফুকে বল্ল, বাফুহে! বিশে আগের যে বাঠি মুই পাস্ব সেটা 
মোকে ছ্কা। 

সাাওতাল পরগণা 

এক জড়'র দুইট+ বেটা আছ.লেক্‌। উহি'য়ার মধ্যে ছট” বেটা 
আপড়ার বোবাক্‌ বল্ল, ও বোবা, ধনের জাহার বাখা ঘুই ভেঁটকে 
মোখে দে। 


মালদহ 
যাক ঝোন্‌ মানসের দুটা ব্যাটা আছ.লো। তারঘোর বিচে 
ছোট্ক! আপনার বাবাক্‌ কহ লে, বাবধন, করির যে হিস্যা হামি পামু। 
সে হামাক দে। & 
রংপুর 
একজন মান্ষের ছুইকৃন1 ব্যাটা আছিল্‌। তার ছোট কোনো 
উয়ার বাপক কইলি, বা, মোর পাইসা কড়ির ভাগ মোক দেও। 


কথ্য ভাষার শব ৬৫ 


দাজ্জিলিং 
আযাক ঝন্কার ছুইটা ব্যাটা ছিল। তারহে বিচৎ ছোট বেটাটা 


আপনার বাপকৃ কোহোল, হে বা, ধন দৌোলৎ যেই মুই পাম ত্য 
মোক্‌ দে। 


বগুড়া 
এক মান্সের দুড| ছ'ল আছলো। তার মধ্যে যাই ছোট” তাই 
তার বাপেক্‌ কলো', বাবা, হামার সম্পত্তির ঘা ভাগ হয় তা মোক্‌ 
দিয়া দাও । 


যশোহর 
একজনেয ছু”ট ছল ছিল। তার গে মাদ্দি ছোট জোন তার 
বাপেরে বলে, বাবা! জমা জমির বে ভাগ আমি পা”ব আমারে দ্যাও। 
ময়মনসিংহ 
একজনের দুই পু আছিল্‌। তার ছুড়ু পুতে বাপেরে কইলো, 
বাজি! মাল-ব্যাসাতের ষে বখরা আমি পাইয়াম তা আমারে 
দেউখাইন্‌ । 


বরিশাল 


একজন মানষের ছুগ্গা পোল! আছিল্‌। তার গো ছুটুগ্গা হের 
বাপেরে কইল, বাবা বিতের যে ভাগ পামু তা” মোরে দেও । 

ৃ চট্টগ্রাম 

এওয়া মানুস্তের দুয়া পোয়া আছিল্‌। ছাডুয়া তার বায়রে কইল, 
বায়াজি খরার হিচ্ছার সম্পত্তি শ্বারে দেয়। 


ভৌগোলিক সংস্থান 


প্রাচীন বঙ্গের তিনটি প্রধান ভৌগোলিক বিভাগ অনুযায়ী আধুনিক 
বঙ্গের কথ্য ভাষাকে মূলতঃ তিন ভাগে বিভক্ত করা যাইতে পারে। 
যথা, রাঢ ভাষা, পু অথবা বরেন্দ্র ভাবা ও বঙ্গভাষা ।* ইহাতে 
যথাক্রমে স্থুলতঃ পশ্চিম বঙ্গ, উত্তর বঙ্গ ও পূর্ব বঙ্গের ভাষা বুঝায়। 
ভূতত্ববিদ্গণের মতে দক্ষিণ বঙ্গ অথবা নিয় বঙ্গ অপেক্ষাকৃত আধুনিক- 
কালে মন্ুষ্যবাসের উপযুক্ত হইয়াছে, এবং বাংলার পশ্চিম, উত্তর ও 
পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীর! আসিয়াই ইহাতে বসতি স্থাপন করিয়াছে; 
সেইজস্ক দক্ষিণ বঙ্গের নিজস্ব কথ্য ভাষার কোন টবশিষ্ট্য নাই ইহার 
পূর্ব্বভাগ পূর্ব বঙ্গের, পশ্চিম ভাগ পশ্চিম বঙ্গের ও উত্তর ভাগ উত্তর 
বঙ্গের কথ্য ভাষ! দ্বারাই প্রভাবা্িত হইয়াছে । 

এই তিনটি স্থুল বিভাগকে পুনরায় কতকগুলি উপবিভাগদ্বার৷ 
বিভক্ত করা যাইতে পারে । যেমন, 


রাঢড়£ পশ্চিম রা, দক্ষিণ-পশ্চিম রা ও পূর্বব রাঢ়। মানভূম, 
সাগতাল পরগণা, পশ্চিম বদ্ধমান, বীরভূম, বীকুড়া; 
মেদিনীপুর ; পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, চব্বিশপরগণা, 
কলিকাতা, পশ্চিম নদীয়া, মুশিদাবাদ এই উপবিভাগগুলির 

অন্তর্গত। 
* অধ্যাপক শ্রীযুক্ত সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয় ইহার সহিত কামরূপকেও 
'ন্য এক স্বতন্ত্র বিভাগ বলিতে চাহেন । (40902181720 1085 9101)0)8706 01 
8106 360£901 1,21760889, ০1. 1. 71200000102. 72. 138) কিস্তু গভীর ভাঁবে 


অনুশীলন করিলে দেখা যাইবে যে, কামরূপের কথ্য ভাষ! পু, বা বরেজ্ের ভাঁষার প্রকৃতি 
হইতে অভিন্ন ; অতএব কামরূপকেও বরেক্্র ভাষার অন্তগ্র্ত বল! বায়। 


ভৌগোলিক সংস্থান ৬৭ 


বরেজ্জ : দক্ষিণ বরেন্দ্র, উত্তর বরেন্দ্র ও পূর্বব বরেন্দ্র বা কামরূপ । 
মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, রাজসাহী, বগুড়া; জলপাইগুড়ি, 
পিয়া, দক্ষিণ দার্জিলিং, কুচবিহার, উত্তর দিনাজপুর ; 
রংপুর, পশ্চিম গোয়াল পাড়া এই উপবিভাগগুলির অন্তর্গত । 
বজ : পূর্ববঙ্গ, দক্ষিণ পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিম বঙ্গ। ময়মনসিং, 
ত্রিপুরা, ঢাকা, ফরিদপুর, সন্দীপ, শ্রীহট্র, কাছাড়; বরিশ!ল 
নোয়াখালি (সন্দীপ ব্যতীত ), চট্টগ্রাম; পূর্ব নদীয়া, 
পাবনা, যশোহর, খুলনা এই উপবিভাগগুলির অন্তর্গত। 
ভৌগোলিক সীমা দ্বারা কথ্য ভাষার স্থান নির্দেশ কখনই নিভু 
হইতে পারে না। কারণ, কথ্য ভাষার বিভিন্নতার মূলে ভৌগোলিক 
কারণ অপেক্ষ॥ মৌলিক (5001০) কারণই অধিকতর কার্ধ্যকরী হইয়া 
থাকে। ইহার দৃষ্টান্তত্বরূপ উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, নোয়াখালি 
জিলা ও তাহার চতুম্পার্শস্থ স্থানসমূহে যে কথ্য ভাষা ব্যবহৃত হয় 
তাহাকে বঙ্গের দক্ষিণবিভাগীয় ভাষা বল! হইয়াছে । কিন্তু নোয়াখালি 
জিলারই অন্তর্গত সন্দীপ নামক একটি ক্ষুদ্র ছ্বীপের ভাষা সুদূর ঢাকা 
ত্রিপুরা অর্থাৎ পূর্বববিভাগীয় কথ্য ভাষার প্রকৃতির সহিত অভিন্ন। 
ইহার কারণ অনুসন্ধা্ম করিলে দ্রেখা যায় ষে, প্রাচীনকালে জনমানবহীন 
এই সগ্য-সমুদ্র-গর্তজাত দ্বীপটি ঢাকা ও ত্রিপুরা হইতে আগত নাবিকদিগ- 
দ্বারা অধ্যুষিত হইয়াছিল এবং ইহার অধিবাসীরা আজ পধ্যন্তও তাহাদের 
পুরুষানগক্রমিক কৌলিক ভাষার বৈশিষ্ট্যই অক্ষু রাখিয়াছে। 
এই কৌলিক কারণই কথ্য ভাষার বিভিন্নতার মূল! এতত্যতীত 
অন্যান্য কারণও আছ্ছে, কিন্তু তাহা! অপ্রধান মান্র। এখন এই সম্বন্ধে 
একটু বিস্তৃত আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া যাউক। 


148৫ ৬1১1] 


৮৮1১১ ৮৪1৮৪] :2 18115845115 | 

এ 8৯৮ 25 1৫৬151৯. 1৯৮ ৮০1 
881৬ 18 টি ৮৯৮৩৬ 18৪৯ 11 ৪২ 181৯ 
£ইভ (2181৯ 1184) 5৪৮2৮ ৯8158 181551 128 ৪৮1৯ 


৮] 50485 1055181451 ০ 21801518554 25 18918 1৮ 519৪৯৭4: 


১1১ সাঃ ৮৬১ ৯ যু ৯ তা রা এ ৯ 4385 তা 
্ঃ পু ২০০] ঠ রা ১ এন ৮। ৮ 
74554 টিটি ভিজেিডিনা রিটন ভিরিলিরিলিি। 

ূ 

শ ০০০০ 11৮ 

এত তি টির ভিতর রিনি 


১ ৯৫ ৪ 


|১1৪১1১৬ 


কথ্য ভাষার বিভিন্নতার কারণ 
মৌলিক (৮:01) 


কথ্য ভাষার বিভিন্নতার মুলে যতগুলি কারণ বর্তমান তাহাদের মধ্যে 
মৌলিক কারণই সর্বাপেক্ষা প্রধান । সেইজন্য তাহা একটু বিস্তৃতভাবেই 
আলোঁচন। কর। যাইবে । 
কোন এক পাশ্চাত্য ভাষাতত্ববিদ্‌ বলিয়াছেন, “০স11616 216 
10616 10195610160 5010861 ৮8,11111055 1 5.52.1091 108,510 
30100109702] 00610165010 11051015010 7065 720 111 
[0019.% ভারতবর্ষের কোন জাতির ভাষ! হইতে তাহার মৌলিক উদ্ভুব 
নিরূপণ করিতে হইলে বথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্তক । ইহার 
কারণ, এই দেশ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতি কর্তৃক বিজিত হইয়াছে, এবং 
বিজিত ভারতীয়েরা নিজন্ব ভাষা পরিত্যাগ করিয়া বিজেতার ভাষাই 
সম্পূর্ণ গ্রহণ করিয়াছে । দৃষ্টান্তস্বরূপ উক্ত ভাষাবিদ্‌ পঙ্ডিত মধ্যপ্রদেশের 
নাহাঁল জাতির কথা উল্লেখ করিয়াছেন । নাহাল একটি ভারতীয় অনাধ্য 
জাতি; তাহাদের নিজস্ব কৌলিক ভাষা ছিল মুণ্ডা। দ্রাবিড় জাতি 
“কর্তৃক বিজিত হইয়! তাহারা দ্রাবিড় ভাষা গ্রহণ করিল, অতঃপর আর্ধ্য- 
জাতি যখন তাহাদের উপর অধিকার স্থাপন করিল তখন তাহার! দ্রাবিড় 
ভাষাও পরিত্যাগ করিয়৷ আর্্ভাষাই সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করিল। অতএব 
বর্তমানকালে মধ্যপ্রদেশের নাহাল জাতিকে আর্ধাভাষা বলিতে দেখির। 
তাহাদিগকে কেহ আর্ধ্যসন্তান বলিয়! ধারণা করিলে তাহাকে নিতান্তই 
ভ্রমে পতিত হইতে হইবে। 
ংল৷ আর্ধভাষার অন্তর্গত বলিয়া এই ভাষাভাষীদিগকে আর্যা- 


৭৩ শব্দ ও উচ্চারণ 


৪৬৮ ৬ ক লাকি লেসন পল সিসির লা রা সং লসলছ ০্িলি পি অলি 


স্তান বলিয়া স্থির কর! যায় না। | কারণ, পূর্ব্বেই বলিয়াছি, আর্ধাভাষা- 
ভাষীমাত্রই আর্ধ্যসন্তান হইবে, অন্ততঃ ভারতবর্ষে এই যুক্তি কার্যকরী 
হইতে পারে না। এই সম্বন্ধে নৃতত্ববিদেরা বাংলার যে কুলপরিচয় 
দিয়াছেন তাহা সংক্ষেপে আলোচনা! করিব। 

এই বিস্তৃত ভূঁ-পৃষ্ের সমগ্র মানব মূলতঃ এক-বংশ-সম্ভূত নহে। 
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থলে বিভিন্ন আকৃতি প্রকৃতির মানব বিভিন্ন সময়ে 
জন্মলাভ করিয়াছিল। অতঃপর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যখন তাহারা 
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ ব্যপদেশে এক জাতি অপর জাতির সম্মুখীন 
হইল তখন হইতেই তাহাদের মধ্যে সংমিশ্রণ আরম্ভ হইল । ইতিহাস 
পৃথিবীর এই সমস্ত বিভিন্ন আদিম জাতির বিভিন্ন নামকরণ করিয়াছ্ছে | 
ভাহাদের মধ্যে আর্ধ্য, দ্রাবিড়, তিব্বত-চৈনিক, প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য । 

এই দেশে অতি প্রাচীন কাল হইতেই হয়ত কোন ভাবতীর নিজস্ব 
জাতি বাস করিত। অত:পর তাহাদের সহিত বহির্ভারত হইতে বিভিন্ন 
সময়ে বিভিন্ন জাতি আপিয়া মিলিত হইয়াছে । 

'আদি মানবের এই বিভিন্নজাতীয় লোকের মধ্যে যেমন পরম্পর 
বাহ আকুতিগত বৈসাদৃশ্ত ছিল, তেমনি তাহাদের আভ্যন্তরিক শারীর 
গঠনও অল্লাধিক পৃথক ছিল। এই আভ্যন্তরীণ শারীর গঠনের পার্থক্য 
হইতেই জীব-দেহের বাক্যন্ত্রপ্রণালীরও (₹908.1 01221010 5596122) 
পার্থক্য হইয়া থাকে। ইহা হইতেই মামুষের কথ্য ভাষার মৌলিক 
পার্থক্যের উদ্ভব । কালক্রমে ছুই স্বতন্ত্র জাতির মধ্যে সংমিশ্রণ আরম্ত 
হইলে প্রত্যেকের কুলগত বা! মৌলিক পার্থক্য অল্লাধিক মাঞ্জিত 'হইতে 
হইতে বংশপরম্পরায় অধস্তন পুরুষগুলিতেও সংক্রমিত হইর! যাইতে 
থাকে এবং ইহা হইতেই পরবর্তী কালে একই দেশের সমাজমধ্যে 
আকৃতি ও প্রকৃতিগত বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। ভারতের অন্তান্ঠ জাতির 


কথ্য ভাষার বিভিন্নতার কারণ ৭১ 


মানবের তুলনায় বাঙ্গালির মধ্যেই এই বৈষম্য সর্বাপেক্ষা অধিক। 
সেইজন্য নৃতত্ববিদ পণ্ডিতেরা অনুমান করেন যে, এই জাতি বহু 
ংমিশ্রণের ফলে জাত। 

পৃথিবীর আদি মানব-সমাজের মৌলিক বিভাগ অনুযায়ী তাহার 
ভাষাও বিভিন্ন হইয়াই উদ্তত হইয়াছিল এবং পরস্পরের সহিত সংমিশ্রণের 
পুর্বব পর্য্যন্ত প্রত্যেক জাতিরই ভাষার নিজন্ব বৈশিষ্ট্য অক্ষু্ ছিল। 
বাংল! দেশের প্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করিলে দেখ! যাইবে যে, 
আদি মানবের পাঁচটি স্বতন্ত্র ভাষাভাষী জাতি এখানে আসিয়। পরস্পরের 
সহিত সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছে, যথা আর্য, দ্রাবিড়, মুণ্ডা, 
মন্খেমর ও তিব্বত-চৈনিক। আধুনিক কথ্য ভাষার উচ্চারণে এই 
পাঁচটি আদি মানবজাতির ভাষার প্রভাব অল্লাধিক বর্তমান রহিরাঁছে। 

সেই সমস্ত ভাষাভাবী স্বতন্ত্র গাতিগুলির মধ্যে পরবর্তী কালে কেহ ঝ 
আধ্যভাষ! গ্রহণ করিয়া সভ্যশ্রেণীতুক্ত হইয়াছে, কেহ কেহ বা এখন 
পর্য্যস্ত তাহাদের মৌলিক ভাষা অক্ষু্জ রাখিয়া বাংলার সীমাস্তে পর্বতে 
অরণ্যে কোনভাবে আত্মরক্ষা! করিয়। বাচিয়া 'মাছে। এই সম্পর্কে 
বাংলার পূর্র্ব সীমান্তে কথিত খাসিয়া ও জস্তিয়া পর্বতের খাসি ভাষা 
( প্রাচীন মন্খেমর জাতিভুক্ত), উত্তর সীমান্তে কথিত ভুটান ও সিকিম 
অঞ্চলের ভুটিয়া প্রভৃতি ভাষ! ( তিব্বত-চৈনিক জাতিভূক্ত, ) ও পশ্চিম 
সীমান্তে কথিত রাঁজমহল অঞ্চলের মাল্তেো ( দ্রাবিড় জাতিভুক্ত ) ও 
ছোটনাগপুর অঞ্চলের স1ওতালদিগের ভাষা ( মুণ্ডা জাতিভুক্ত টার উল্লেখ 
করা ফাইতে পারে। 

ংলার সমতল ভূমিতে অধুনা বাঙ্গালি বলিয়া কথিত যে জাতির 

বাস তাহা প্রধানতঃ দ্রাবিড় ও ভিব্বত-চৈনিক ( মোললীয় ) জাতির 
সংমিশ্রণে জাত। এতৎঘ্যতীত অন্তান্ত জাতির সহিত তাহাদের সংমিশ্রণ 


৭৪ শব ও উচ্চারণ 


“বাঘ। চং', 'বানিয়া চং' ও পশ্চিম বঙ্গের বিজড়া” ণশিউড়ি', হাড়মাসাঁড়। 
প্রভৃতি যথাক্রমে তিব্বত-চৈনিক ও দ্রবিড় উদ্তবেরই পরিচয় দেয় । 

এঁতিহামিক যুগে যে সমস্ত আর্য্েতর জাতি আর্ধ্যভাষার অন্তর্গত 

বাংল! ভাষা! গ্রহণ করিয়াছে তাহাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদত্ত হইল । 

খরিয়া৷ ও পাহাড়ি ছোটনাগপুরের দ্রইটি অষ্ট্রো-এশিয়-শ্রেণীতূক্ত 
অনার্ধ্য জাতি । তাহাদের মৌলিক ভাষা ছিল মুণ্ডা জাতীয় । তাহারা 
বর্তমানে মানভিম জি্লায় বসতি স্থাপন করিয়। বাংল! ভাষ! গ্রহণ 
করিয়াছে । তাহাদের বাংলা শব্দের উচ্চারণে মৌলিক মুণ্ডা প্রভাব 
আজও অক্ষুণ্ন রহিয়াছে । তাহাদের কথিত বাংল। ভাষা খরিয়া থর 
ও পাহাড়ি থর নামে পরিচিত। 

বাংলার পশ্চিম সীমান্তে মালপাহাড়ি নামে এক দ্রবিড জাতি বাস 

করিত। তাহার। বাংল। ভাষ। গ্রহণ করিয়া হিন্দু ধন্মের অস্তভূক্তি 
হইয়াছে । তাহাদের অ।ধুনিক বাংলা শবের উচ্চারণে দ্রবিড় প্রভাব 
স্পষ্ট অনুভব করা যাঁয়। 

র্দপুত্রের পূর্ব্বতীর হইতে এক অনার্ধা জাতি উত্তর-বঙ্গ আক্রমণ 
করে। তাহারা কোচ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী কালে উত্তর-বঙ্গে 
আধ্যসভ্যত। বিস্তৃত হইলে তাহারা আরধ্্যধর্ম ও আধ্যভাষ! গ্রহণ করে,। 
এই জাতির বংশধরেরা এখন প্রায় সমগ্র উত্তরবঙ্গ ও বিহারের পৃণিয়া 
জিলায় বসবাস করিতেছে । তাহাদের কথ্য বাংলাভাষায় তিব্বত-ত্রক্দীর 
উচ্চারণ-রীতি বর্তমান রহিয়াছে । 

গারো পাহাড়ের পাদদেশে হাইজং নামে এক তিব্ত-ব্রহ্গীর 
জাতি বাস করিত। তাহারা বহুকাঁল যাবৎ তাহাদের মৌলিক, 
তিব্বত-ব্রঙ্গীয় হাইজং ভাষ ব্যবহার করিয়া আসিয়াছে কিন্তু বর্তমানে 
তাহার৷ হিন্দুধর্্নভৃক্ত হইয়া বাংলাভাষা গ্রহণ করিয়াছে । তাহাদের 


কথ্যভ।ষাঁর 'বিভিন্নতা'র কারণ প৫ 


কথ্য বাংলাভাষায় তিব্বত-্রন্মীয় উচ্চারণ-রীতি প্রল। ইহার একটু 
নমূন! উদ্ধত করিয়। দেখাইতেছি 2 

“একজন্‌ মানলগ. ছুইদ1 থাকিবার। তানি আলাক্‌ হুট পলার৷ 
বাপরাগে কয় যে বাবা! মর বকৃর| 'মাগকৃ বে ময় পাব ওছ। 
মগে দি । 


উত্তর ময়মনসিংহের গারো, বানিয়া, হদি প্রড়তি নিম্মশ্রেণীর আরও 
কয়েকটি জাতি এই জাতীয় কথ্যভাষা ব্যবহার করিয়! থাকে । 


পার্বব-্য ত্রিপুরার মধ্যভাগে বহু তিব্বত-ত্র্দীয় জাতির বাস। 
ইন্াাদের অনেকের কথাভাবা বাংল! কিন্তু লিখিবার অক্ষর ব্রহ্গদেশীয়। 
ইহাদের কথাভীবার উচ্চারণে তিব্বত-ত্রন্গীয় প্রভাব এত অধিক বে, 
কেহ কেহ ইহ্র্টে বাংলাভাষার অন্থভূক্ত করিতেই ইতস্ততঃ করিয। 
থাকেন। এই ভাষার নাম চক্ম।-ভাষা । 


কাছাড় জিলার পব্বসীমান্তলগ্ল মণিপুর রাজ্যে ময়াং নামক এক 
তিব্বত-ব্রন্গীয় জাতি বাস করিত । তাহাদের ভাষা বাংল! কিন্তু উচ্চারণ- 
রীতি তিব্বত-ত্রঙ্গীয়। কিছুদিন হুইল ময়াং জাতীয় লোক কাছাড় « 
শ্রীনট্রের অনেক স্থলেই বিস্তত হইয়া পড়িয়াছে, কিন্তু তাহাদের 
মৌলিক উচ্চারণ-রীতি 'মক্ষ্ধ আছে। এই ভাষার সামান্য একট ননুন। 
উদ্ধৃত করা গেল। | 

“মুনি আগোর পুতো৷ গে! আছিল্‌।” (কোন ব্যক্তির তইটি 
পুত্র ছিল ) 

ত্রিপুরা রাজোর সীমান্তে এখনও তিব্বত-ব্রহ্গীয় ভাষা প্রচলিত কিন্তু 
দেশের অভান্তরস্ত অধিবাসীরা বাংলাভাষ! গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদের 
উচ্চারণেও মৌলিক প্রভাব বর্তমান । 


৭৬ শব্ধ ও উচ্চারণ 


উল্লিখিত দৃষ্টান্তগুলি অনুধাবন করিলে বাংলার কথাভাষার উচ্চারণ- 
বৈচিত্রোর কারণ কতকট! অনুমান করা যাইবে । এই উচ্চারণের বৈশিষ্ট 
দ্বারাই জাতির কৌলিক উদ্ভব নিরূপণ করা যায়, তাহার কথাভাষায় 
বাবহৃত শব্শবলীর জাতি দ্বারা তাহ নিরূপণ করা সন্তব ননে। 


ভৌগোলিক 


দেশের ভৌগোলিক সংস্থানও জাতির কথ্যশাঁধাকে অনেক সময় 
নিরন্ত্রিত করিয়া থাকে । দেশের মধ্য ছূর্ভেছ্চ অরণ্য, ছুলজ্বা পর্বত এ 
তস্তর নদনদী থাঁকিলে তাহ হইতেই এক জাতীয় লোকের মধ্যেও কথা- 
ভাষার ব্যবধান সৃষ্টি হুইয়। থাকে । বাংলাদেশে পর্বত ও অরণ্য 
তেমন না থাকিলেও বিশাল নদনদীসমূনতের নিতা ভাঙ্গাগড়ার জন্ত 
[ভৌগোলিক একাও কোনদিন গড়িয়া উঠিতে পারে নাই, সেইজন্য এই 
জ্গাতি দীর্ঘকাল এক ভৌগোলিক সংস্কানের মধো বাস করিবার সৌভাগা 
হইতে চিরদিনই বঞ্চিত হইয়া আসিয়াছে । ইহা হইতেও তাহাদের 
মধে। কথাভাষাগাত এঁক্য গঠনের স্তযোগ হয় নাই। বঙ্গের তিনটি 
*ল ভৌগোলিক বিভাগ হইতেই কথ্যভাষারও মুল তিনটি বিভাগ, যথা, 
রাট, বরেন্দ্র ও বঙ্গ, গড়িয়া উঠিয়াছে। 


সামাজিক 


অতি প্রাচীনকাল হইতেই বাংলার সমাজ শতধা বিচ্ছিন্ন হইয়া আছে । 
স্থল সাম্প্রদায়িক বিভাগগুলির কথ ছাড়িয়। দিলেও 'প্রতোক সম্প্রদায়ের 
মধোও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপবিভাগের অন্ত নাই । উচ্চতম শ্রেণীর হিন্দু হইতে 
আরম্ভ করিয়া নিয়তম অস্পৃশ্ত জাতি পর্যাস্ত নিজেদের মধো শত শত 
খণ্ডিত সামাজিক অবস্থান রচনা করিয়া তাহাদের মধ্যে আবদ্ধ হুইয়া 
রহিয়াছে | ব্রাহ্মণদিগের মধো রাড়ীয়, বারেন্ত্র, বৈদিক, কুলীন, ভঙ্গ, 
শ্রোত্রিয় এবং কায়স্তের মধো উত্তর-রাট়ীয়, দক্ষিণ-রাট়ীয়, বারেন্ব, বঙ্গ 
প্রতির মধ্যে পরম্পর সামাজিক সম্বন্ধ ত নাইই, এমন কি নবশাখ- 
সম্প্রদা" ও জল-অনাচরণীয় জাতিদিগের মাধোও পরম্পাা কোন সম্পর্ক 
নাই। এই বিভিন্নমুখী সামাজিক জীবনের মধো কথ্যভাষার সামগ্র 
এক« কোনদিনই গড়িয়। উঠিতে পারে নাই । প্রতোক খণ্ডিত- 
সাম'জিক-পরিবেষ্টনীবদ্ধ ভাষ! নিজস্ব ক্ষুদ্রসন্প্রদারভুক্ত লোকের মুখে 
মুখেই আবদ্ধ হইয়া রহিয়াছে । সেইজন্য একই দেশে বাস করিলেও 
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভাষা অল্নাধিক স্বতন্ত্র ভইয়! থাকে । যেমন, বদ্ধমান 
অঞ্চলের ব্রাহ্মণ ও উগ্রক্ষত্রিয়ের ( আগুরি ) কথ্যভায। গ্বতন্ত্র এবং বাউরি 
ও বাগদির কথাভাষ19 সর্বাংশে এক নহে। 

এতদ্বাতীত বাংলার প্রধান ছুইটি সম্প্রদার হিন্দু ও নুসলমান। এই 
উভয় অন্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক আচারব্যবহার ও কৃষ্টিগত পার্থক্য 
এত অধিক যে তাহাদের মধ্যে, কেবল কথ)ভাষাগত কেন, এই পরাস্ত 
বহির্জীবনেও কোন এঁক্য সংস্থাপিত হইতে পারে নাই ৷ কিন্তু মুসলমাঁন- 
দিগের ধঙ্মভাষ। আরবি ও পারসি বলিয়া তাহাদের কথাভাষার উচ্চারণ- 
রীতিও আরবি-পারসির উচ্চারণ রীতি দ্বারা প্রভাবিত হয় নাই। তাহাদের 


মানালি 9 


ভ. পলিসি সস লি ও এসি পিসি সিরা চি ভাসি ক পি 
এ লিসা দিত চে 


উচ্চারণ-রীতি পাতার: বাং লা, তবে আন্মকালকার ইংরেজি-শিক্ষিত 
পরিবারের কথ্যভাষায় যেমন ইংরেজি শব মিশ্রিত হইয়া! থাকে, তেমনি 
বাবহারিক জীবনে তাহাদের মধ্যেও সামান্য আরবি-পারসি কথা ব্যবহৃত 
হইয়া থাকে মাত্র । একটি বিষয় এইখানে লক্ষা করিবার আছে যে, 
পারিবারিক জীবনে বাংলার মুপলমানেরাই কতকগুলি খাঁটি বাংলা শব্দ 
আজিও রক্ষা করিয়। আসিয়াছে । যেমন, 'বাঞ্জি (বাপ জি ), 'মাইয়া' 
( মাতৃক1 ), “নানা” ( ননস্‌ ), “চাচা” (তাত ', “ফুফা” ।পিতৃঘসা , 'পানি' 
: পানীয় ১, বুর্‌' (ডুব দেওয়া ) প্রভৃতি খাঁটি সংস্কতজ তন্ভব শব্দ একমাতর 
মুসলমানসমাজের মধোই সীম।বদ্ধ হইর। রহিয়াছে । এই সমস্ত শব্দকে 
আরবি-পারসি শন্দ বিবেচনা করিয়া ভিন্দুরা কদাচ ইন্ভাদের ব্যবহার করে 
ন1। এই সাম্প্ুদারিক বৃদ্ধি যে ভাষাগত অনৈক্যের কতখানি কারণ 
হয় তাহ! £ই দৃষ্টান্ত হইাতেও কতক উপলব্ধি করা যাইবে 

কথ্যভাষার এ্রাটীন ইতিহাস আলোচন1 করিলে দেখ] যাঁয় যে, যখন 
দেশে ত্রাঙ্গণ ভিন অন্য কোন জাতি শিক্ষিত "চিল ন। তখন ত্রাঙ্গণ ও 
্রাঙ্গণ ভিন্ন অগ্তান্ত জাতির কথ্যভাষা এক চিল না| । শিক্ষিতের কথ্য- 
ভাঁষা অশিক্ষিতের কথ্যভাষা হইতে স্বতন্ত্র। বর্তমানে শিক্ষার সার্বজনীন 
অধিকারের ঘুগে বর্ণগত্ত পার্থকা আর নাই; এখন কথ্যভাষার যে প্রধান 
সামাজিক পার্থক্য তাহা শিক্ষিতের এবং অশিক্ষিতের 

শিক্ষিতের কথ্যভাষ! কৃত্রিম । তাহা পুথির ভাষা ও কলিকাত। 
অঞ্চলের কথ্য- ও নিজন্ব-কৌলিক-ভাষ। ইত্যাদির সংমিশ্রণে জাত। 
অনবরত অভ্যানের ফণে শিক্ষিতেরা নিজন্ব মৌলিক উচ্চারণের রীতি 
পরিত্যাগ করিয়া আদর্শ কথ্যভাষার সাধু উচ্চারণ পধ্যন্ত গ্রহণ করিতে 
সমর্থ । অতএব শিক্ষিতের ভাষ! ও উচ্চারণ হইতে তাহার কুলপরিচয় 
পাইবার উপাকষ নাই। কিন্তু মৌলিক (6৮01০) কারণে সকলেরই 


৮০ শব্ধ ও উচ্চারণ 


আভান্তরীণ বাক্যন্ত্রের শারীর গঠন এক নহে বলিয়া সকল শিক্ষিত 
সম্বন্ধেই এই যুক্তি, কাধ্যকরী হয় না । এইজন্ত অনেক শিক্ষিত পুর্বব- 
বঙ্গবাণী আজীবন কলিকাতায় বাস করিয়া বহু চেষ্টার ফলেও তাহাদের 
নিজস্ব উচ্চারণ-রীতি পরিবর্তন করিতে পারেন নাই । 

'অশিক্ষিতের ভাবা অরুত্রিম ; তাহার উচ্চারণ-প্রণালী জন্মলব্ধ, 
প্রকৃতির সহঙ্গ দান; ইহার মধ্যেই তাঁহার বহুপূর্বপুরুষের পরিচয়ও 
জড়া ইয়া থাকে । এই অশিক্ষিতের কথাভাবাই ভাষাতত্ববিদের আলোচনার 
বিষয়) শিক্ষিতের কথ্যভাষ| নহে ' 

মামাজিক জীবনে পুরুষ 'অপেক্ষা নারী অধিকতর রক্ষণহাল1। 
অশিক্ষিত নারীর আচারে বাবহারে যেমন বন্ধ প্রাচীন সংঙ্গার আত্মরক্ষা 
করিয়। থানে তেমনি তাহার কথ্যভাষাও প্রাচীন জাতীক্ ভাষার একটি 
দিকের সন্ধান দির] যায় ! নারীর ভাবা নারীষ্ই নিজস্ব সম্পদ ; পুরুষকে 
তাহা গড়িরা দিতে তাহাকে সাহায্য করিবার প্রয়োজন হয় নাই, বাহিরের 
কোন বস্তও তাহাতে রং ফলাইতে পারে ন।। নারী তাহার সহজাত 
অন্তঃপ্রকৃতি হইতেই যেন এই সম্পদ লাভ করিয়া থাকে। এই 
জন্য একই পরিবারের স্ত্রী ৪ পুরুষের ভাষার মধ্যে পর্য্স্ত পার্থক্য 
লক্ষিত হয়। * ৃঁ 

অনেক সময় নিয়শ্রেণীর কতকগুলি লোঁকের জাত-ব্যবসায়কে 
অবলম্বন করিয়া তাহাদের বিশিষ্ট প্ররুতির কথ্যভাষ। গড়িয়া উঠে। 
ইহাকে জাত-ব্যবপায়ের দত জাত-ভাষা বলা যাইতে পারে । মৌলিক 
উদ্ভব এক হইলেও যাহারা বিহ্িন্ন ব্যবসায় অবলম্বন করিয়। ফার্যের 


* “বাংলায় নারীর ভাষা” নাম দিয়। প্রীযুক্ত সুকুমার সেন মহাশয় বঙ্গীয় সাহিত্য 
পরিষৎ পত্রিকায় একটি অতি স্টপাদেয় প্রবন্ধ লিখিয়াছেন । “ডু ০7091)18 7018190$ 
০6136708811 নামে 08198662 8৪৮1০" পত্রিকায় এই বিষয়েই তাহার একটি 
ইংরেজি প্রবন্ধও প্রকাশিত হইয়াছে । 


সামাজিক ৮১ 


উৎকর্ষ অপকর্ষ দ্বার! ক্রমে পরম্পর হইতে স্বতন্ত্র হইয়া পড়িয়াছে তাহাদের 
মধ্যে কথাভাষারও এঁক্য থাকিতে পারে না। এই ভাবে ছুতার, 
মৌরাইয়।, শুঁড়ি, লোয়াইত কুড়ি, লালবেগি, রিশি প্রভৃতি জাতি একই 
স্থানে বাস করিয়া ও পৃথক্‌ পৃথক কথ্যভাষ ব্যবহার করিয়। থাকে । 

বাংলাদেশে কয়েকটি যাযাবর-জাতিও দেখিতে পাওয়। যায় । কোন 
বিশেষ স্থলের কথ্যভাষ। তাহার! ব্যবহার করে না; ন্রমণ-বাপদেশে বে 
সমস্ত অঞ্চলে তাহার। যাইয়া! থাকে তাভাদের প্রত্যেক স্থলেরই কিছু কিছু 
বৈশিষ্ট্য তাহার! পাইয়া থাকে | পূর্বব-বন্গের 'বাদিয়া, ও পশ্চিম-বঙগের 
«পাখমারা হা-ঘরেদিগের কথ্যভাষ। যিনি লক্ষা করিয়াছেন, তিনিই ইহা 
হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিবেন । 


রাজনৈতিক 


রাজকার্ষের স্থুবিধার জন্ঠ এই দেশকে যেভাবে কতকগুলি প্রাদেশিক 
বিভাগে বিভক্ত কর। হইয়াছে তাহ হইতেও ভাষাগত কতক অনৈক্যের 
স্ষ্টি হইয়াছে । থিছ্রীয় পঞ্চদশ ও বোড়শ শতাব্দী পধ্যস্ত বাংল।, আসামি 
ও ওড়িয়া ভাষা অভিন্ন ছিল এবং ইহা অনুমান করা অসঙ্গত হইবে ন। 
বে, বদি সমগ্র আসাম, পুর্বব-উড়িষা। ও পুর্বব-বিহার বঙ্গদেশেরই অন্তভূক্ত 
থাকিত তাহ! হইলে ওডিয়া, মৈথিলি ও অসাঁমি মূল বাংলাঁভাষারই 
অন্তর্গত তিনটি স্বতন্ত্র কথ্যভাষ। মা হইত । এই বিষয়ে প্রব ৭ 
নাহিত্যিক ডক্টর শ্রীযুক্ত দীনেশচন্্র সেন মহাশয়ের আঙক্ষেপোক্তি 
বিস্তুতভাবেই উল্লেখযোগা 1৯ 


* * “সম্প্রতি একশত বখসরও হয় নাই, আসামি-ভাষানে 
বাংলা হইতে পৃথক করা হইয়াছে, তংপুর্বে বাংলাই আসামের রাজদর্বারে 
« বিগ্ভালয়গুলিতে প্রচলিত ছিল । কয়েকজন মিশনারি "আসামের 
শিন্নশেণীর কথিত ভাষায় কতকগুলি পুস্তক লিখিয়ীছিলেন ও তছ়পযোগী 
মক্ষর তৈরি করিয়াঁছিলেন-তারপর যখন তাহার! দেখিতে পাইলেন. 
মাসামের ভদ্রসাহিত্য অন্তরূপ-_তাহ। বাঙ্গালা, তাহাতে ওরূপ নিয়শ্রেণীর 
ভাষা চলিবে না, তখন তাহারা সেই নিপ্নশ্রেণীর কথিত ভাষা তদ্দেশে 
চালাইতে বদ্ধপরিকর হইলেন- তীহাদের সামান্য ক্ষতিপূরণের বাপদেশে 
আসামের কথিত ভাষার পরিবঞ্কন হইয়। গেল। প্রাদেশিক অভিম'ন 
সৃষ্টি কর! সহজ, পথিবাতে বন্ধ জ্ঞাতিবিরোধ এই ভাবেই উপস্থিত 
হইয়াছে |” 


বৃহৎ বঙ্গ, প্রথম খণ্ড, পৃ ১৬ 


রাজনৈতিক ৮৩ 


প্রকৃতপক্ষে বাংলারই একটি কথ্যভাষ! এই প্রাদেশিক বিভাগের 
ফলে স্বতন্ত্র ভাষায় পরিণত হইয়া গিয়াছে। ভাষাগত এঁক্যের 
প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া প্রদেশ বিভাগ করিলে ভাষার অধিকার এইভাবে 
খর্ব হয় না। 

একই প্রদেশের অন্তর্গত পরম্পর পার্খবন্তী ছুইটি জিলার ভাঁষ: 
পর্য্যন্ত একমাত্র এই রাজনৈতিক বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র হইচে দেখা যায়। 
বাকুড়।, মানভূম ও পুর্ব বদ্ধমানের ( আসানসোল মহকুম। ) কথ্যভাষায় 
যদি? কোন মৌলিক প্রভেদ নাই, তথাপি এই বিভিন্ন জেলার অর্পিবাসী- 
দের পরস্পরকে এই লইয়। অকারণ ব্যঙ্গবিদ্রপ করিতে শোন। যায় । পূর্ব 
ন্যমনসিংহবাসী শ্রীহটে্ ভাষাকে নিন্দা করে, শ্রীহট্রবাসা কাছাড়কে 
নিন্দা করিয়া, তাহার প্রতিশোধ লয় এবং এই নিন্দা, ব্াঙ্গবিদ্রপ ও 
তজ্জাত সামাজিক একের অভাব হইতেও কথ্যভাষার বিভিন্নতার 
স্বপাত হইয়া থাকে । 


কথ্যভাষাসমুহের 'বশে্ষত্ব 
পশ্চিম রাট 
ব্যাকরণ 


“আমি” “তুমি” প্রাচীন রূপ “দুই? তুই" ॥ পঞ্চমী বিভক্তির গ্রতায় 
'ঠেঞেঃ--'মোর ঠেঞে?। ষন্তী বিভক্তির প্রত্যয় 'দের_-“মোদের? | 
সপ্তমী বিভক্তির প্রত্যয় 'কে'-_“জল্কে” । উত্তম পুরুব ভবিষ্যৎকালে 
'বকর্ব। মধ্যম পুরুষ অতীতকালে 'ল্_তুই গিঁইছিলে”। 
প্রথম পুরুষ ভবিষ্যৎকালে 'বে,--'কর্কে । নির্ধারণী 1£177110)র 
বিভক্তি 'তে*--কর্তে” | উত্তম পুরুষ নিতাবৃত্ত বর্তমানের বিভক্তি “ই 
_ বিল্লি” ( বলিলাম )। ক্রিয়ায় স্বাথে “ক? বিভক্তি-_-হবেক? ৷ অসংবৃত 
ণিজজ্ত ক্রিয়ার ব্যবহার-_“দেওয়া করালাম” (দলাম )। 

উচ্চারণ 

বিবুত স্বরের সংবৃত উচ্চারণ ; “তুমার ( ভ্রোমাব ) | “ন” স্থানে লি? 
- “লিচ্ছে' (শিতেছে) | “র' 'ল” ও “ন" স্বানে "ডি ডুড়* (জনের) । 
ক্রিয়ার অস্থ্যস্বরের আন্ুনাসিকন-_খেঞ্ে' (খাইয়। | শাম? “স'স্কলে 
একমাত্র দন্থ্য “স”র উচ্চারণ--“সব্ধ € শব্দ )। 


ধবনি 
“কের শগ্স্বর ধ্বনিত হয় ও শভজ্জনিত পরবর্তী মহাপ্রাণ ধ্্ণ 


অন্পধকত ভর । “বৈচে' | রহিয়াছে )। 


কথ্যভাষাসমূহের বিশেষত্ব ৮৫ 


শব্দমধ্যস্থ স্বাধীন স্বর অধ্বনিত থাকে এবং তজ্জনিত তাহা লোপ 
পার। 'যাবেক” (যাইবেক্‌) । 


আছ্চ স্বর ধ্বনিত হইয়। কোন কোন স্থলে ছু” যুক্ত হইয়। থাকে । 
“মোহর' (মোর )। 


দক্ষিণ রা 


দক্ষিণ রাটের ভাষ। ওড়িয়।-ভাব। দ্বারা সর্মতোভাবে প্রভাবান্থিত 
হইয়াছে । ভৌগোলিক অবগ্ান বাতীত মৌলিক কারণও ইহাতে বর্তমান 
আছে । মেদিনীপুর সদকের পশ্চিম ভাগ ও তমলুক মহকুমা উড়িষ্যা। 
হইতে আগত ওড়িয়া-ভাষী কৈবর্তজাতিদ্বারাই বিন্টতভাবে অধ্যুষিত 
হইয়াছিল। সেই গড়িয়া-ভাষার উপরই তাহারা বাংলাভাষ। গ্রহণ 
করিয়াছে বলিয়। বর্তমান ওড়িযার সহিতও তাহার সম্পর্ক অতি সন্গিকট। 
এই অঞ্চলের বাংলাভাষ| কতক ওড়িয়া ও কতক পশ্চিম রাট়ের উচ্চারণ 
ও ধ্বনির রীতি দ্বারাই নিয়মিত। তবে সামন্ত বাতক্রমও আছে । 


ব্যাকরণ 


ষষ্ঠী বিভক্তির বহুবচন প্রত্যয় 'কার”--“তান্নেকার" (তাহাদের .। 
বাংল। 'অছ+ ধাতুর স্থলে গুড়িরার “থ+ ধাতু-_থাইল' (ছিল )। 


ৃ উচ্চারণ 


বিবৃত স্বর__“পে।* (পুত্র, পুত), “এক' (আযাক নহে)। অন্রনাসিকের 
অপেক্ষাকৃত অভাব--খেয়ে' । অধ্বনিত স্বরের লোপ, “বিষে আশে' 
(বিষয় আশয় )। 


৮৬ শক ও উচ্চারণ 
ধবনি 


শবের আতন্তস্বরধবনিত (বঙ্গের সহিত তুলনীয়) ও তজ্জনিত 
তদাশ্রিত বঞ্জনের দ্বিত্বীকরণ-ছুর্ট।' (ছুট) ও অনাগ্য অন্পপ্রাণ ব্যঞ্জনের 
মহীকরণ, 'বাফু' (বাপু )। 


পুর্ব রাঢ় 
উত্তর বঙ্গে গৌড়ীয় শীসকগণের আধিপতা লুপু হওয়ার পর নবদ্বীপ 
যে শুধু বাংলার রাজনৈতিক প্রাধান্য লাভ করিল তাহা নহে, প্রাচীনকালে 
গৌড়কে কেন্দ্র করিয়। যেমন বাংলার আদর্শ কথ্যভাষ। বা গোঁড়ীয় 
সাধুদ্ভাষা গডিয়া উঠিয়াছিল তেমনি তখন হইনেই নবদ্বীপকে কেন্দ্র 
করিয়৷ বর্তমান আদর্শ কথ্যভাষার জন্ম স্থচিত, ছইল। ভাগীপথীর 
পবিত্রতায় আরুষ্ট হইয়া! তৎকালীন ব্রাঙ্গণ-পডিত-সম্প্রদায় অর্থাৎ শিক্ষিত- 
সমাজ এই নদীর ছুই তীর জুড়িয়া এক “শক্ষ। ও সভ্যতার আদর্শ পীঠ 
গড়িয়া তুলিলেন। এইচ্যই কথিত হ়-_ 
“ভাগীরথী উভকূল. | 
|] বারাণসী সমতল ।” 
এইভাবে মধ্যযুগ হইতেই ভাগীরথী-ভীরের ব! পূর্বরাঢ়ের ভাষ। 
আদর্শ কথ্যভাষ| বলিয়া গৃহীত হুইয়া আপিতেছে । অতঃপর ভাগীরী- 
তীরবর্তী কলিকাত৷ বর্তমান বাংদার রাজধানী ও ভারতের প্রধান। 
নগরীতে পরিণত হওয়ার জন্য ইহ। সমগ্র বাংলার আদর্শ কথ্যভাষ। 
ভিসাবে সাহিত্যেও স্থান লাভ করিয়াছে | | 


ব্যাকরণ 


প্রথম পৃরুষ সমাপিকা! ক্রিয়ায় “লে'_-সে দিলে” (দিল) । পঞ্চমী 
বিভক্তির প্রত্যয় থেকে”_-হাত থেকে? । 


কথ্যভাবা-সমূহের বিশেষত্ব ৮৭ 
উচ্চারণ 


স্বর-উচ্চারণ অত্যন্ত বিশ্লথ। শব্দমধ্যস্থ কোন ধ্বনিত স্বর দ্বারা 
অধ্বনিত স্বর সর্বদাই প্রভাবিত ভইয়া থাকে । (পূর্ব অধ্যায়ে স্বর- 
সমন্বয় দ্রষ্টব্য )। 

“এ'র সংবৃত উচ্চারণ “আ্যা'- 'গ্যালো' (গেল) । “অ'র সংবৃত উচ্চারণ 
“ও” 'মোন' (মন)। “ল' কোন কোন সমর “ন' উচ্চারিত হয় । এনেবু' 
(লেবু), 'নক্ষমী” (লক্ষ্মী ), অনাগ্ধ “ক" স্থলে 'গ*_'কাগ ( কাক )। 
স্বর-সংকোচন--“দি'ন” (দিউন) | অন্ুনাসিকের উচ্চারণ নিয়ম-সঙ্গত - 
“চাদ? (চন্দ্র)। গছ কখন কখনও “স+ উচ্চারিত হয়,-গগিদ্ল, 
( গিয়'ছিল )।' 


৮ 


প্বনি 


শব্দের আছ্য স্বর সর্বদাই ধ্বনিত হয় ও তজ্জনিত অধ্বনিত স্বর ও 
কোন কোন সময় ব্ঞ্জন-ধ্বনি লোপ পার। "ছু" (ছুই ), চ'( চল্‌ )। 
এই জন্তই অনাগ্ধ মহাপ্রাণ বর্ণও অন্পপ্রাণে পরিণত হয়। “মাচের মাত।' 
( মাছের মাথ| )। 


দক্ষিণ বরেক্দ্ 


ব্যাকরণ 
দ্বেতীয়া ও চতুর্থী বিভক্তির প্রত্যয় কৃ": “বাবাক্‌” (বাবাকে ) 
বভবচনে ণঘরে'_-আমাঘরে' | ষষ্ঠী বিভক্তির বহুবচনে “কেরে, “ঘোর' ; 
“আমাকেরে' “আমাঘোর' | সপ্তমী বিভক্তির প্রত্যয় “এত” ; “ক্ষেতেত, 
( ক্ষেতে )। উত্তম পুরুষ এক বচনে “আমি'র স্থলে "হামি'। উত্তম পুরুষ 


৮৮ শব্দ ও উচ্চারণ 
ভবিধ্যৎকাল-বাচক ক্রিয়ার প্রতায় “আম্_-'ষাম্‌ (যাইব )। নিদ্ধারণীর 
র 


বভক্তি “বা'_“কর্ব।' ' করিবার জন্য )। 


উচ্চারণ 
স্বরাস্ত ইল”-প্রতায়ের স্থলে কোন কোন স্থলে হসন্ত “ইল্‌" প্রতার । 
“জ"র উচ্চারণ সর্বদাই মহীক্ুত “বিন্‌ (জন্‌) | শব্দমধ্যস্থ অধ্বনিত 
স্বরের লোপ ; “কলো? ( কইলো )। 


ধবনি 


শক্ের আগ্ঘস্বর ধ্রনিত হইলেও পরবর্তী ব্যঞ্জনের উন্চারণ-মধ্যাদ 
অক্ষুপ্ থাকে ; যেমন, 'মধো? । শব্দমধ্যস্থ অধ্বৃনিতনবরোগ্চারণ লুপ্ত হয়। 
পাল" (পাইল )। 


উত্তর বরেন্দ্র 
ূ ব্যাকরণ 


দ্বিতীয়া ও চতুর্থী বিভক্তির প্রায় ক'; “মোক” । পঞ্চমী বিভক্তির 
প্রত/য় হোত হাত হোতে' | 


উচ্চারণ 


স্বরান্ত “ইল” প্রতায় সর্ধত্র “ইল্‌* উচ্চারিত ; “কইল্‌* (কহিল) । *্জ 
সর্দত্র 'ঝ। "এ এবং “অ'র বিকৃত উচ্চারণ, “এক্‌” "জন্‌? | “রর মধ্যে 
মধো 'ল" উচ্চারণ--শরীল্‌” (শরীর)। স্বরোচ্চারণ অপেক্ষারুত বিশ্লথ-_ 
“উয়ার+ (ইহার ), “মান্সির, (মানুষের )। অনাগ্ধ 'হ'র লোপ-_ 
“অর' (ইহার )। 


কথ্যভাষাসমূহের বিশেষত ৮৪৯ 


জা গা সির আনি পাটি বিআরটি পল দা সলিল তি লা পরিিপিসিি অ্ী সিটি সা উজ বি সি প৯ লীস্টিটী সা সিসিক সপ পোস্ট ক» সিট আল ভিত ছি এসডি আলি ৭০ সতী দিপা এ 


জরা রি ব্যঞ্জন বর্ণ পুনরুচ্চারিত ইল তন্মধ্যে একটির নিরোর 
--বা? (বাব )। 


ধ্বনি 
শব্দের আগ্ঘস্বর সামান্ত ধবনিত হয় ও সেইজন্য পরবর্তী স্বর-ধবনি 
লুপ্ত হয়। “মান্সির' (মানুষের )। 


পূর্ব্ব বরেন্দ্র 


ব্যাকরণ 


উত্তম পুরুষ ভবিষ্যৎকালের প্রত্যয় “ম'--*পাইম' ( পাইব ) 
৪ উচ্চারণ 


“অ*র সংবৃত উচ্চারণ €ও_বোন্ত (বন্‌)) দন্ত 'স'র স্থলে প্রায়ই 
ছ+র উচ্চারণ---“হিচ্ছ।' (হিন্তা )। শব্দের আদিতে 'র' থাকিলে তাহ। 
কখনও কখনও লোপ পায় এবং শব্মধ্যস্থ “'অ' কি 'আ” স্বার্থে 
র' যুক্ত হ্য়--যেমন, “আমবাবুর বাগানের রাম ( রামবাবুর 
বাগানের আম )। 


ধ্বনি 


শব্ধের উপান্ত স্বর ধ্বনিত হয় কিন্ত শব্দমধ্যস্থ অধ্বনিত-বর্ণের 
উচ্চারণ-মর্ধ্যাদাও সম্পূর্ণ ই রক্ষিত হয় ; “আছিল্‌, (ছিল )। 


পূর্ববঙ্গ 
ব্যাকরণ 


দ্বিতীয়! বিভক্তির প্রত্যয় একবচনে “রে ও বহুবচনে “রারে, “গোরে, 
ণ 


৪৩ শব্দ ও উচ্চারণ 


-_-“আমারে+, আম্রারে+, 'আমাগোরে' ইত্যাদি । পঞ্চমী বিভক্তির প্রত্যয়, 
“থে”, থাক্যা”-কইখে (কোথা হইতে | যঠী বিভক্তির প্রত্যয়, 
বছবচনে “গো+, 'রারঠ--"আমাগো+ "আমরার্ ৷ সপ্তমী বিভক্তির প্রত্যয় 
'অ' 'ত+--দেশ”, (দেশে), 'বাড়ীত১ (বাড়ীতে)। উত্তম পুরুষ ভবিষ্যং- 
কালে “য়াম্‌-_'খাইয়াম্‌ (খাইব)। মধাম পুরুষ অতীতকালে 'লা__ 
“গেছলা” (গিয়াছিলে )। প্রথম পুরুষ ভবিষ্যৎকালে “ব,_-কর্ব, 
(করিবে )। নিদ্ধারণীর বিভক্তি 'অন্‌*_-'করন্‌' (করা )। 


উচ্চারণ 


চন্্রবিন্দুর অভাব ও তংস্থলে বর্গীয় অন্ুনাসিকের সংরক্ষণ_-“্চান্‌' 
(টাদ)। গ্ড়*স্থলে সর্ধত্র র'পপরা (পড়।) গণ”, যে, সস” সকলে এক- 
মাত্র “শ*_-“শেবা” (সেবা )। আছ মহাপ্রাণ বর্ণের অন্লীকরণ---বাল। 
(ভাল)। কণ্ঠ মহাপ্রাণ বর্ণ খ'র নন উচ্চারণ “হ+--“লেহা” (লেখ )। 
আছ "শ', 'ষ" 'স'র 'হ" উচ্চারণ--হহিয়াল+ ( শৃগাল ), “হার” (ষাঁড়), 
'হাপ' ।সাপ)। শবের আগ্য হ'র লোপ ও ততস্থলে মাত্র স্বর-ধ্বনির 
রক্ষা-আউমাউ' ( হাউমাউ )।1। তালব্যবর্ণের দন্ত্য-তাঁলব্য-মিশ 
উচ্চাঁরণ_-৫চ" €( চ), ত্জ (জ)। থঞর বিবৃত উচ্চারণ-_ দেখ, এবং 
€ও'র সংবৃত উচ্চারণ “উ'_ চুর (চোর )। স্বর-ভুাক্ত-_থাউক্‌”, 'থাইক' 
( থাক্‌) এই ভাষার একটি বিশেষত্ব । 


ধ্বনি 


শব্দের অন্ত্যস্বর ধ্বনিত হয় এবং তদাশ্রিত ব্যগ্জনের এইজন্য প্রায়ই 
দ্িত্ব হয় । অধ্বনিত-স্বর কি ব্যঞ্ন সর্বদাই লুপ্ত হয়- “বেকুব 
( বেয়াকুব ), «এট্টু” ( একটু ), “আজ্জের (আধ সের )। আছ “হঃ 
লুপ্ত হইলে ত.হ।র অবশিষ্ট স্বরে চ্চারণ ধ্বনিত হয়_-অ।ত' ( হাত )। 


কথ্যভ।যাঁসমূহের বিশেষত্ব ৯১ 
দক্ষিণ বল 
ব্যাকরণ 

দ্বিতীয়া 'বিভক্তির প্রতায় বহুবচনে “গো”, গরে-_'আমাগো” 'আমা- 
গরে' (আমাদিগকে) । পঞ্চমী বিভক্তির প্রত্যয় "খনে” খুনে”-কইথনে' 
( কোথা হইতে ?)1 ষষ্ঠী বিভক্তির প্রত্যয় বহুবচনে “গো”, গর”-- 
'তাগো+, “ভাগর" (তাহাদের) । উত্তম পুরুষ ভবিষ্যংকালে "মু" উম্শ_ 
“করনু', করুম” (করিব)। অসংবৃত সমাপিক। ক্রিরার ব্যবহার--“যাইবার 
লাগছি' (যাইতেহি )। নিদ্ধীরণীর প্রত্যয় “তি”, “বার” 'জান্তি” 
“জান্বার' (জানিতে )। টা" ণট'র স্থলে "গা" প্রত্যন্, 'ছুগগা” (ছটা )। 

| উচ্চারণ 

অনাগ্য অর সংবৃত উচ্চারণ--'আছো" (আছ )। “ক' প' প্রভৃতি 
অল্পপ্রাণ বর্ণের “মহীকরণ'--খোন্” (কোন্‌), “ফরামর্শ' (পরামর্শ )। 
'অনাগ্ধ কগ্যবর্ণের নম উচ্চারণ--্বগ' (জুগ )। অনাগ্চ "'র নরম 
উচ্চারণ “ড'-ছুড়" (ছোট) । অন্তান্ত মূর্ধনা বর্ণেরও প্রায় ", 
উচ্চারণ--উড়ত ( উঠ.)। 

রর ধ্বনি 

শবের আগ্যন্বর ধ্বনিত হয় কিন্তু তথাপি পরবর্তী স্বর ও বাঞ্জনের 
উচ্চারণ-মর্ধ্যাদ। প্রায় সমান থাকে, মাত্র ছুই এক স্থলে অধ্বনিত স্বর ও 
ব্যঞ্জন লুপ্ত হয় মাত্র--আর' (আমার ), “বাউ' (বাপু )। 

৪ 


পশ্চিম বঙ্গ 
ব্যাকরণ 
( বঙ্গের অন্ান্ত অংশের কথ্যভাষার সহিত কোন পার্থকা নাই ) 


৯২ শব্দ ও উচ্চারণ 


উচ্চারণ 


অতাতকালে স্বরান্ত “ইল'*প্রত্যয় €( বঙ্গের অন্তপ্ত্ হ্সস্ত 0: 
স্বর-সংকোচন--ছল' ( ছাওয়াল ), “কল' (কইল)। বিবৃত *ও' এবং 
সংবৃত “অ+-ছোটো' (ছোট )। সংবৃত “এ'গ্ভাও? (দেও )। 

ধ্বনি 


শব্দের আছ্ান্বর ধ্বনিত হয় এবং তজ্জনিত “অ' স্বরের কখনও কখনও 
সংবৃত উচ্চারণ হইয়াথাকে, যেমন, “জোন্, (জন )১ কিন্ শব্দমপাস্থ 
অন্ঠান্ত হ্বর ও ব্যঞ্জনের উচ্চারণ-ম্যাদ! অঙ্গুপ্র থাকে,--'দুই" । 


উপসংহার 


বর্তনান আকৃতির সামান্ত একখানি পুন্তকে শুধু কয়েকটি স্যত্র নির্দেশ 
করিরাই বানানসম্বদ্ধে কোন নিয়ম স্থাপন করা সম্ভব নম । ইহা বিশ্বস্ত 
কোন অভিধানেরই কাধ্য। বাংলার কোন ভবিব্বাৎ আঁভিপানিক যদি 
শব্দের বানান-গঠনের পূর্বে এই পুক্তিকার নির্দিষ্ট নিয়মগুলির 
ঘৌক্তিকত। সম্বন্ধে একটু বিশেষ বিবেচনা করিয়া! ল'ন তাহা হইলেই 
এই পুস্তিকার উদ্দেশ্ত সফল হইতে পারে । 


প্রমাণ-পঞ্জী 


[41175015610 90155 06 11101205 (0, &5 912015012) 
০]. 1 200 ৬. 
11701901012,] 72666650101 [77010, ৬০1, ]. 
1)8501106 08226600115 0£ 1001701, 
1301109.11 0৮121200000 (7362075), 
০510116 021001009 (5. 1), 110065) 
1301769,] 13617257 2120. 92155 811052000৯১, 
0 ৯1291125), 
11700110110 2:00. 10250101020019৮ 0? 0109 32172911 
| [/0100182.06 (১. 2, 000566501), 
4 00151715601 01 6172 130005211 
[:2059200 (৯0.990710011000)-92,005, 
[07111591516 10187012519) 31989, 


বাঙ্গালার ইতিহাস, ১ম ভাগ ( রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ) 

বৃহৎ বঙ্গ (দীনেশচন্দ্র সেন ) 

কপাশাস্ত্রের অর্থভেদ ও বাংল! উচ্চারণ-তত্ব (স্থশীলকুমার দে ) 
-সাহিত্য পরিষৎ পত্রিক। 

শবকথা (রামেঞজুন্দর ত্রিবেদী ) 

ব্যাকরণ-বিভীষিক। ( ললিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ) 

বানান-সমস্থা এ